وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لم تعرف»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন্ ‘আমলটি উত্তম? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অপরকে খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ১২, ২৮; মুসলিম (৩৯)-৬৩, আহমাদ ৬৫৮১, নাসায়ী ৫০০০, ইবনু মাজাহ ৩২৫৩, আবূ দাঊদ ৫১৯৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৯৪৪, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৭৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫০৫, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১১৭৩১, শু‘আবুল ঈমান ৩৩৫৯।
ব্যাখ্যাঃ ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়াতে আল্লাহর জন্য ‘আমলকে খালেস করা হয় এবং বিনয় ব্যবহার করা হয়। তিনি আরো বলেন, সালামের বিস্তার সাধন এ উম্মাতের একটি বৈশিষ্ট্য।
ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর উপকারিতা হলো যদি কেউ অপরিচিত ব্যক্তিকে সালাম না দেয় তাহলে তার ধারণা হবে যে, সে তার অপরিচিত ব্যক্তি। এতে সে একাকীত্ব অনুভব করবে। তিনি বলেন, কাউকে কাফির বলে চিনতে না পারা পর্যন্ত সতর্কতার স্বার্থে সালাম দেয়া বৈধ।
ইবনু বাত্ত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অপরিচিত ব্যক্তিকে সম্বোধন পূর্বক সালাম প্রদান করার মাধ্যমে কোমল আচরণ করা হয়। যাতে সকল মুসলিম ভাই ভাই হয়ে যায়। কেউ কারো নিকট থেকে একাকীত্ববোধ না করে। তিনি বলেন, সালামকে শুধুমাত্র পরিচিত মুসলিমের সাথে খাস করে অপরিচিত ব্যক্তিকে সালাম না দেয়াটা পরস্পরের বিচ্ছিন্নতার মতো। (ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬২৩৬)
‘আওনুল মা‘বূদ-এর রচয়িতা আবূ দাঊদ-এর ভাষ্যকার বলেনঃ সালামকে পরিচিত ব্যক্তির সাথে খাস করা কিয়ামতের আলামাতসমূহের একটি। যেমন ত্বহাবীসহ অন্যরা ইবনু মাস্‘ঊদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। ত্বহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ السَّلَامَ لِلْمَعْرِفَةِ ‘‘শুধুমাত্র পরিচিত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া কিয়ামতের নিদর্শনাবলীর অন্যতম’’। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খন্ড, হাঃ ৫১৮৫)
