আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে ২০২২ সালে “Abrahamic Family House” নামে একটি রিলিজিয়াস এবং কালচারাল সাইট খোলা হচ্ছে, যেখানে মুসলমানদের মসজিদ, ইহুদীদের সিনাগগ এবং খৃষ্টানদের গীর্জা নির্মাণ করা হবে। এইভাবে তারা বিশ্ব মানবতাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহনশীলতা শিক্ষা দিবে।
এই কথা ভালো, কিন্তু এর উদ্দেশ্য ভালো না।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
প্রথমতঃ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
“Abrahamic Family House”
-এই নামটাই আপত্তিকর। ইয়াহুদী খৃষ্টানেরা নিজেদেরকে যতই ইব্রাহীম আ’লাইহিস সালামের অনুসারী বলে দাবী করুক, ইব্রাহীম আ’লাইহিস সালামের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। ইব্রাহীম আ’লাইহিস সালাম কি ছিলেন, আল্লাহ তাআ’লা ক্বুরআনে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন,
مَا کَانَ اِبۡرٰہِیۡمُ یَہُوۡدِیًّا وَّ لَا نَصۡرَانِیًّا وَّ لٰکِنۡ کَانَ حَنِیۡفًا مُّسۡلِمًا ؕ وَ مَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ
ইবরাহীম ইয়াহূদীও ছিলেন না, নাসারা (খৃষ্টান)-ও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
[সূরা আলে-ইমরানঃ ৬৭]
ক্বুরআনের এই আয়াত জানার পরেও মুসলমানদের মসজিদ, ইহুদীদের সিনাগগ, খৃষ্টানদের গীর্জাকে একত্রে Abrahamic Family House বলার চেয়ে বড় গোমরাহী আর কি হতে পারে?
দ্বিতীয়তঃ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
আরব উপদ্বীপে ইহুদী খৃষ্টানদের গীর্জা, সিনাগগ বা মুশরিকদের মন্দির প্রতিষ্ঠা করার দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর বিরোধীতা করার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি মৃত্যু শয্যায় শায়িত অবস্থায় বলেছিলেন,
أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ
“তোমরা মুশরিকদেরকে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দাও।”
[সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সায়ের। ]
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ حَتَّى لَا أَدَعَ إِلَّا مُسْلِمًا»
“আমি অবশ্যই ইয়াহূদী-নাসারাদেরকে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেব। তাতে মুসলিম ব্যতীত অন্য কোনো মানুষকে থাকতে দেব না।”
[সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সায়ের]
আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসায়মিন রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন,
“তবে যদি কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় এবং উক্ত প্রয়োজন পূরণ করার মত কোনো মুসলিম পাওয়া না যায়, তাহলে কাফেরকে আরব উপ-দ্বীপে প্রবেশ করানোতে কোনো দোষ নেই। তবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি প্রদান করা যাবে না। যেখানে শর্ত সাপেক্ষে জায়েয বলা হয়েছে, সেখানেও যদি আকীদা কিংবা চরিত্রগত কোনো ফাসাদের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তাদেরকে আরব উপ-দ্বীপে প্রবেশ করানো হারাম। কেননা জায়েয বস্তুতে যদি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তখন তা হারামে পরিণত হয়ে যায়।
কাফিরদেরকে এখানে আনা হলে যে সমস্ত ভয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা হলো
- তাদেরকে ভালোবাসা,
- তাদের কুফরিতে সন্তুষ্ট থাকা এবং
- (অজ্ঞ মুসলমানদের) দ্বীনের প্রতি দৃঢ়তা চলে যাওয়া ইত্যাদি।
আল্লাহর অনুগ্রহে মুসলিম বিশ্বে যথেষ্ট পেশাদার লোক রয়েছে। আমরা তাদেরকেই যথেষ্ট মনে করতে পারি।” [শাইখের ফাতওয়া এখানেই সমাপ্ত,
উৎসঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ঈমান অধ্যায়।]
তৃতীয়তঃ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
.
খৃষ্টানেরা কি ভ্যাটিকান সিটিতে মুসলমানদেরকে একটা মসজিদ নির্মাণ করার অনুমতি দিবে?
.
ইহুদীরা কি জেরুযালেমে আল-আক্বসা মসজিদে মুসলমানদের স্বাধীনভাবে নামায পড়তে দিচ্ছে?
.
তাহলে মুসলিম নামধারী আরব আমিরাত বা অন্য সরকার কেনো মানবতা ও শান্তির নামে সিনাগগ এবং গির্জা প্রতিষ্ঠা করবে?-এটাই বিবেকের কাছে প্রশ্ন!!!
