পরিকল্পিত ঢাকা গড়তে নতুন করে ঢাকার বাইরে ১১টি বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এবং দুটি মেট্রোরেলের ডিপোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবারের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ ২০১৬-২০৩৫)। ঢাকা ওয়াসার আগের পাঁচটি পয়োশোধানাগার ছাড়াও নতুন আরো আটটি স্থানে পয়োশাধানাগার বানানোর প্রস্তাবও রয়েছে এতে। মেট্রোরেলের স্টেশনভিত্তিক উন্নয়ন (টিওডি), ঢাকা শহরে সড়কের পরিমাণ বাড়াতে নতুন করে দুটি রিং রোড সংযুক্ত এবং সিএস ও আরএস ক্ষতিয়ান দেখে নদী ও খাল পুনরুদ্ধারসহ নৌপথের প্রস্তাব রয়েছে এই ড্যাপে। এ বিষয়ে ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পরিকল্পিত ঢাকা গড়তে (২০১৬-২০৩৫) ড্যাপে ঢাকার বাইরে ১১টি বাস ও ট্রাকটার্মিনাল এবং দুটি মেট্রোরেলের ডিপোর জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। ঢাকার ওপর পরিবহনের চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে একটি মাত্র পয়োশোধনাগার কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসা নতুন করে আরো চারটি পয়োশোধনাগার তৈরির কাজ চলছে। এর বাইরে এবারের ড্যাপে আরো আটটি পয়োশোধনাগার স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, একটি শহরে সড়কের পরিমাণ থাকার দরকার ২৫ শতাংশ। বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এ ড্যাপে দুটি রিং রোডের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ রোড হলে রাস্তার পরিমাণ ২ শতাংশ বেড়ে ৭ শতাংশ হবে। এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘ঢাকার বাইরে নতুন টার্মিনাল খুবই দরকার। বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে হলে শহরের পাশে এই টার্মিনালগুলোকে নির্মাণ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরাতন টার্মিনালগুলোকে বাদ দেওয়া যাবে না। পুরাতনগুলোকে নতুনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে যেন ইন্টারনাল যাতায়াত সহজ হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ড্যাপে রিং রোডগুলো খুব ভালো উদ্যোগ। রিং রোড থাকলে ঢাকায় আসা বাইরের মানুষ শহরের ভেতর না ঢুকে, রিং রোড দিয়ে ঢাকা পার হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকার ওপর চাপ কমে যাবে।’ —— এই নগর পরিকল্পনাবিদ আরো বলেন, বসবাসযোগ্য নগরী গড়তে পয়োশোধনাগার খুবই প্রয়োজন। তবে এ প্রকল্পগুলো খুব ব্যয় সাপেক্ষ। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে পরিকল্পনা বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসহ সামগ্রিক বিশ্লেষণ দরকার। ড্যাপ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরে প্রয়োজনীয় বাস ডিপো, ট্রাক টার্মিনাল এবং এমআরটি ডিপোর জায়গা নির্ধারণের জন্য ডিটিসিএর উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্থার (রাজউক, ডিএমপি) সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি স্থান পরিদর্শনের পর এসব স্থান চিহ্নিত করে ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঝিলমিল, তেঘরিয়ায় (ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের উত্তর পাশে) ৩৩ দশমকি ৯৯ একর জায়গা প্রস্তাব করা হয়েছে আন্তজেলা বাস টার্মিনালের জন্য। এ ছাড়া বাসটার্মিনালের জন্য বিরুলিয়া-উত্তরা (এমআরটি লাইন ৬ এর উত্তর পাশে) ১৪ দশমকি ৫১ একর, হেমায়েতপুর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশে ৩৪ দশমকি ৪৯ একর, গাজীপুর ঢাকা-ময়মনিসংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে ১১ দশমিক ৭০ একর, কাঁচপুর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে ১৫ দশমকি ৪৬ একর, নবীনগর-চন্দ্রা রোডের বাইপাইল ৪০ দশমিক ৩৭ একর, মদনগঞ্জ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ২৭ দশমিক ৭১ একর, ভূলতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পূর্বপাশে ২৪ দশমকি ২২ একর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আটিবাজার বছিলা ২৫ দশমকি ৭৮ একর জায়গায় সিটি স্টপওভার বাস টার্মিনালের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাস টার্মিনালের সঙ্গে দুটি ট্রাক টার্মিনালের প্রস্তাবও রয়েছে ড্যাপে। কাঁচপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ১৩ দশমকি ১৩ একর জায়গা এবং মিরপুর বেড়িবাঁধে ৩ দশমিক শূন্য ৬ একর জায়গা ট্রাক টার্মিনালের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের জন্য দুটি ডিপোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পূর্বাচলে ঢাকা-বাইপাসের দক্ষিণ পাশে এমআরটি লাইন-১-এর ডিপোর জন্য ৮৯ একর জায়গা এবং হেমায়েতপুর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশে ১০০ একর জায়গার প্রস্তাব রয়েছে এমআরটি লাইন-৫-এর ডিপোর জন্য। ড্যাপে দুটি রিং রোডের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকা শহরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে শহরের ভেতরে প্রবেশ না করে যাতায়তের জন্য রিং রোড কার্যকর। ঢাকা শহরে বিদ্যমান রাস্তা রয়েছে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত দুটি রিং রোডের পরিমাণ ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, যার দৈর্ঘ্য ৫৩২ কিলোমিটার। প্রস্তাবে মোট সড়ক থাকবে ২৭৭৬ কিলোমিটার। নৌপথের প্রস্তাব : ড্যাপ এলাকায় মোট ১ হাজার ৩২৬ দশমিক শূন্য ৯ কিলোমিটার নদী ও খাল রয়েছে। কিন্তু প্রশস্ততা ও নাব্যতা কম হওয়ায় এবং কালভার্ট ও বক্স কালভার্টের কারণে নৌযান চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে। প্রস্তাবিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় ৫৬৬ দশমিক ৬০২ কিলোমিটার নৌপথকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে হবে ১১ টার্মিনাল
নতুন ড্যাপে প্রস্তাব: * থাকছে ৮ পয়োশোধনাগার * ২টি রিং রোড ও নৌপথ
