প্রাচীন গ্রীসে ক্যালেস্টিয়া নামে একটা অনুষ্ঠান হইতো । ধারনা করা হয় এটাই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সুন্দরী প্রতিযোগিতা । এখানে নারীরা দলবেধে অংশ গ্রহন করতেন । তাদের নাচ গান আর শারীরিক ফিটনেসের প্রতিযোগীতা হতো এখানে ।
আধুনিককালে ১৮৫৪ সালে আমেরিকাতে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিউটি কন্টেস্ট হয় । সেই সময়ে সরাসরি এরকম প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নারীদের উপর সমাজের নেতিবাচক প্রভাব ছিল । আর তাই ছবির মাধ্যমে সেরা সুন্দরী নির্ধারন করা হতো । কালক্রমে এটাই আজকে লাইভ বিউটি কন্টেস্টে রূপ নিয়েছে । জুড়ে গেছে কোটি টাকার স্পন্সর আর শিল্প সাহিত্যের নাম । কিন্তু ভেতরের পলিটিক্স আর বিজনেস নিয়ে কেউ কথা বলতে চায় না ।
একটা প্রশ্ন করি ।
কোন শরীরটা দেখতে বেশি ভালো লাগে ? পুরো নগ্ন একটা শরীর ? নাকি অর্ধ উলঙ্গ শরীর ?
উত্তরটা হলো অর্ধ উলঙ্গ শরীর । ব্রেইন মিস্টেরিয়াস জিনিসের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয় । ওপেন জিনিসের প্রতি কোন মিস্ট্রি থাকে না । এইটাকে আপনি পিকাবো ইফেক্ট বলতে পারেন , যেখানে পার্শিয়াল এক্সপোজার মানুষকে কৌতূহলী করে তোলে । এই অনুমান প্রক্রিয়া মানুষের ডোপামিন রিলিজ বাড়ায় । খেয়াল করলে দেখবেন ফ্যাশন সাইকোলজিতেও এই জিনিস ব্যবহার করা হয় । ফুল এক্সপোজার দিয়ে একটা মানুষকে প্রকাশ করা থেকে তাকে হাফ এক্সপোজার দিয়ে প্রকাশ করলে ভিউ বেশি হয় । টাইট ড্রেস, অর্ধখোলা বক্ষ , কিংবা হাফ এক্সপোজাড হওয়া শরীরের চাহিদা এই কারণেই বেশি । বিউটি পিজেন্টের বিকিনি শো বলেন কিংবা ব্লু ফিল্মের হাফ এক্সপোজড নায়িকা বলেন, দুইটার ক্ষেত্রে কেমেস্ট্রি একই । প্রকাশ ভঙ্গিটা ভিন্ন । ওই সব শিল্প , সাহিত্যের কথা বাদ দেন । আমরা কথা বলছি একদম RAW সাইন্স নিয়ে । আস্র কেনা জানে ডোপামিন বিজনেস দুনিয়ার সবচেয়ে লাভজনক বিজনেসের একটি
এইবার পলিটিক্সটা দেখে যান ।
২০০২ সালে লেবানন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল । ওই বছর ই/স/রা/ই/ল ক্যাম্প জেনিনের উপর গনহত্যা চালায় । মিস ইউনিভার্সের ই/স/রা/ই/লী সুন্দরী ইয়ামিত হারনয় কি করেছিল জানেন ? সে তার পোষাকে ই/স/রা/ই/লের মানচিত্র পোট্রে করেছিল যেখানে দেখানো হয় গাজার পশ্চিম তীরও ই/স/রা/ই/লের অংশ । সেই সময় এর প্রতিবাদে সারাবিশ্ব ফুঁসে উঠে । আর লেবানন নিজেকে সরিয়ে নেয় প্রতিযোগিতা থেকে ।
জেসিকা ট্রিসকো ডারডেন একজন কানাডিয়ান সুন্দরী । তিনি ২০০৭ সালের একজন মিস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন । বর্তমানে তিনি একটা আমেরিকান ইউনিভার্সিটির এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর । জেসিকা বলেছিলেন , প্রতিটা সুন্দরী প্রতিযোগতা হচ্ছে একটা ডেলিকেট ডিপ্লোম্যাটিক ড্যান্স । এর মধ্যে শুধু বিকিনি আর অর্ধউলঙ্গ শরীর থাকে না । থাকে আরো গভীর কিছু । একটা ডিপ পলিটিক্স । একটা মাইন্ড গেম ।
সেটা কেমন ? আসেন যাচাই করে দেখি ।
২০০৪ সালে থাইল্যান্ডের পাতায়াতে মিস ইন্টারন্যাশনাল কুইন অনুষ্ঠিত হয় । এটা ছিল বিশ্বে প্রথমবারের মতো ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে করা কোন বিউটি কন্টেস্টের আয়োজন । আপনি বলতে পারেন একটা বিতর্কিত ইশ্যুকে নরমালাইজ করতে এই আয়োজন ।
এরকম একটা দুইটা নয় ,আরো বহু ডিপ্লোম্যাটিক মুভ পাবেন যেটা ধীরে ধীরে ইনজেকশনের মতো সমাজে পুশ করা হয় । ডিপ্রেশন বাড়তে থাকে সমাজের মিড লেভেলে । কিভাবে ?
সদ্য বাচ্চা হওয়া মেয়েটা ভাবতে শুরু করে বাচ্চা নেয়ায় তার ফিটনেস চলে গেছে । যে ধারণাটা আজকে সমাজে ব্যপকভাবে প্রচলিত। ফিটনেস ধরে রাখতে অনেক মেয়েই বাচ্চা নিতে চায় না । বা দেরিতে নেয় । অফিস খাটা স্বামী ভাবতে শুরু করে আরেকটু স্লিম কাউকে পেলে মন্দ হতো না । সদ্য কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা তার গালের হাড় দেখে ভাবতে থাকে , ইশ আরেকটু যদি শার্প হতো ? মাঝ বয়সী মহিলা ভাবতে শুরু করে ব্রেস্টটাকে সার্জারি করে যদি একটু শেইপে আনতে পারতাম ।
বিউটি পিজেন্টের আড়ালের এই ভোগান্তি গুলো আমাদের সামনে আসে না । আপনার ডোপামিনের জন্য শুভকামনা 🙂
© Arafat Abdullah
