Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধযেদিন ফিতনায় পৃথিবী কেঁদেছিলো

যেদিন ফিতনায় পৃথিবী কেঁদেছিলো

যখন কিছু সাহাবাগণ (رضي الله عنهم) উছমান (رضي الله عنه) এর ব্যাপারে ভয় পেতে থাকলেন – যে খারেজীরা তাঁকে হত্যা করে ফেলবে। তো তাঁরা উছমানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার অনুরোধ জানালেন, যাতে তাঁর জীবন রক্ষা পায়। তারপর ইবনু উমার (رضي الله عنهما) সেখানে প্রবেশ করলেন।

উছমান (رضي الله عنه) তাকে বললেন, “দেখো ও ইবনু উমার! তারা কি বলছে! পদত্যাগ করতে (খলিফা থেকে) বলছে যাতে নিজেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারি। তারা বলছে, পদত্যাগ করতে (খলিফা থেকে) যাতে নিজেকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারি।”

তখন জবাবে ইবনু উমার জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি যদি এখন সরে দাড়ান, তবে কি আপনি দুনিয়াতে চিরঞ্জীব হয়ে যাবেন?”

উছমান (رضي الله عنه) বললেন, “না!”।

তিনি (ইবনু উমার) তখন জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি যদি (খলিফা থেকে) পদত্যাগ করেন, তবে কি সেটা তাদের আপনাকে হত্যা করার উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেবে?”

উছমান (رضي الله عنه) বললেন, “না!”

তিনি (ইবনু উমার) জিজ্ঞেস করলেন, “তারা কি আপনার জন্য জান্নাত অথবা জাহান্নামে থাকবে?”

উছমান (رضي الله عنه) বললেন, “না!”

এরপর তিনি (ইবনু উমার) বলে উঠলেন, “আমি কোন মানে দেখিনা যে, যে চাদরটি আল্লাহ্ (سبحانه وتعالىٰ) আপনার উপর চড়িয়েছে সেটা আপনি সরিয়ে ফেলবেন, যার ফলাফলে এটা সুন্নাত হয়ে যাবে (হরহামেশা হতে থাকবে সামনে)। আমি কোন মানে দেখিনা যে, আপনি এই সুন্নাতকে প্রশ্রয় দিবেন। জনগন যখনই শাসকের উপর ক্ষিপ্ত হয়, তারা তার পতন চায়।” তিনি জানতেন যে শাসকের পদত্যাগ (খলিফা থেকে) হত্যা হতেও বড় বিপর্যয়ের কারন হবে। তাই রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর অনুসরণ তাঁকে সাহায্য করলো মৃত্যু বোঝাটা নিতে যা ছিলো কম বিপর্যয়ের (رضي الله عنه) বড় বিপর্যয়ে রোধে যেটা হলো মুসলিম শাসকের পতন এবং যা পরবর্তীতে সুন্নাতে পরিনত হয় (হরহামেশা হতে থাকবে সামনে)। যা উছমান ও তাঁর ফকিহ ইবনু উমার (رضي الله عنهم) এর সিদ্ধান্ত ছিলো।

কিছু সাহাবা (رضي الله عنهم) উছমানের সাথে সেসময় ছিলেন যখন তিনি সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন (যখন তাঁর গৃহ ঘেরাও করা হয়)। গৃহের প্রবেশপথ একটি ছিলো। তো গৃহের উঠানে হাকডাক উঠতে দেখলে উছমান (رضي الله عنه) বের হয়ে আসেন। তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়।

এবং বলে উঠেন, “কোন সন্দেহ নেই, এই লোকগুলোই আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো!”

তাঁরা (সাহাবীগণ) বলে উঠলেন, “ইয়া আমীর আল মু’মিনিন, আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ঠ!”

তখন উছমান (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “তোমরা কেন আমায় হত্যা করতে চাচ্ছো? আমিতো রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে বলতে শুনেছি, মুসলিমদের রক্ত তিনটি পরিপ্রেক্ষি ছাড়া হালাল নয়; ইসলাম ত্যাগ করা, ইহসানের পর যিনা (বিবাহিত অবস্থায় যিনা) অথবা মানুষ হত্যা করলে! (সুনান আননাসাঈ ৪৭২১)! ওয়াল্লাহি আমি জাহেলি ও মুসলিম দুই অবস্থায়ই যিনা করিনি, না আমার ধর্ম ত্যাগের ইচ্ছা রয়েছে অথবা না আমি কাউকে হত্যা করেছি! তবুও কেন তারা আমাকে হত্যা করতে চাইছে?”

উছমান (رضي الله عنه) ফিতনাবাজদের খেয়াল করলেননা, তিনি তাদের উপর হুজ্জত কায়েম করে (দলিল প্রমাণ দিয়ে) তাদের ভ্রান্তির রদ করতে চেয়েছিলেন, যাতে তারা ভ্রষ্টতা থেকে ফেরত আসে।

এরপর তিনি (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “আনসুদুকাবিল্লাহ্ (আল্লাহ্-র ওয়াস্তে), তোমাদের মধ্যে যারা সাক্ষী ছিলে সেদিনের যেদিন রসূলুল্লাহ্ রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পদচারণায় হেরা পর্বত কেঁপে উঠেছিলো, তখন তিনি ﷺ বলেছিলেন – শান্ত হও হে হেরা! তোমার উপরে এখন একজন নবী, একজন সিদ্দিক (আবু বাকর) ও একজন শহীদ; আমি ছিলাম তাঁর সাথে!” সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী ছিলো সেটির।

এরপর তিনি (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “আনসুদুকাবিল্লাহ্ (আল্লাহ্-র ওয়াস্তে), তোমাদের মধ্যে যারা সাক্ষী ছিলে সেদিনের যেদিন রসূলুল্লাহ্ রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর আর রিদওয়ানের বায়াহ্ হয়েছিলো, যখন তিনি মক্কার মুশরিকদের কাছে আমাকে পাঠাচ্ছিলেন, তিনি বলেছিলেন – এটি আমার হাত ও এটি উছমানের হাত। আমার জন্য তিনি বায়াহ্ দিয়েছিলেন।”

এরপর তিনি (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “আনসুদুকাবিল্লাহ্ (আল্লাহ্-র ওয়াস্তে), তোমাদের মধ্যে যারা সাক্ষী ছিলে সেদিনের যেদিন রসূলুল্লাহ্ রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছিলেন – কে আছো যে এই মসজিদের বর্ধনের জন্য (মসজিদে নববী) ঐ ঘরটি খরিদ করে জান্নাতে একটি ঘর বানাবে? আমিই আমার সম্পদ দিয়ে সেই ঘর খরিদ করেছিলাম, যা পরবর্তীতে মসজিদ বর্ধনে কাজে লাগে।”সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী ছিলো সেটির।

এরপর তিনি (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “আনসুদুকাবিল্লাহ্ (আল্লাহ্-র ওয়াস্তে), তোমাদের মধ্যে যারা সাক্ষী ছিলে সেদিনের যেদিন দুরহ সেনাবাহীনির জন্য (তাবুকের যুদ্ধ) রসূলুল্লাহ্ রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছিলেন – কে আছো যে সাদাক্বা করবে যা (আল্লাহ্-র দ্বারা) গ্রীহিত হবে? আমি উছমান আমার নিজের অর্থসম্পদ দিয়ে অর্ধেক সৈন্য প্রস্তুত করেছিলাম!”সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী ছিলো সেটির।

এরপর তিনি (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “আনসুদুকাবিল্লাহ্ (আল্লাহ্-র ওয়াস্তে), তোমাদের মধ্যে যারা সাক্ষী ছিলে সেদিনের যেদিন, রাওয়াহ্ এর পানি খরিদ করে মুসাফিরদের দেয়া হয়েছিলো? আমি সেগুলো খরিদ করে মুসাফিরদের জন্য দিয়েছিলাম!”সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী ছিলো সেটির।

উছমান (رضي الله عنه) ফিতনাবাজদের তাদের দলিলের ব্যাখ্যা যে ভুল সেটা বলে তাদের বিষয়টি ভালোমতন বুঝাতে চেষ্টা করছিলেন।কিন্তু সত্য তো হলো, যুগে যুগে ফিতনাবাজেরা দলিলে শান্ত হয়না, না তারা সঠিক বুঝটা বুঝতে চেষ্টা করে, না তারা রব্বানী উলামাদরে কথা শুনে। তারা ভুল ব্যাখ্যাই অটল থাকে, নিজেদের নফসের অনুসরণ করে এবং ইল্ম নেয় তাদের মতনদের থেকেই; যারা জ্ঞান ও বুদ্ধিতে খাঁটো।

যখন উছমান (رضي الله عنه) তাদের ফিতনার উপর অটল থাকতে দেখলেন, তাঁকে হত্যা করতে অটল থাকতে দেখলেন, তখন তিনি তাদের সতর্ক করলেন এবং উম্মাহ্-র উপর এর প্রভাব সম্পর্কে বললেন, “ইয়া আইয়ুহান্নাস! তোমরা আমাকে হত্যা করতে চাও যদিও আমি একজন বন্ধু, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, সাহায্যকারী ও একজন মুসলিম ভাই! আমি একজন বন্ধু, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, সাহায্যকারী ও একজন মুসলিম ভাই, একজন মুসলিমদের খলিফাকে হত্যা করা জায়েজ নেই, না একজন মুসলিম ভাইকে হত্যা করা!”

তিনি আরও বললেন, “আমাকে হত্যা করো না কারন আমি একজন বন্ধু, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, সাহায্যকারী ও একজন মুসলিম ভাই! ওয়াল্লাহি, আমি উত্তম (তোমাদের) ছাড়া আর কিছু চাই না যদ্দুর আমি পারি, আমি সঠিক অথবা ভুল হই তোমরা যদি আমাকে হত্যা করোই বলে রাখলাম – তোমরা জামায়াতবদ্ধ নামায পড়ো না, না তোমরা যুদ্ধে যাও!”

তিনি (رضي الله عنه) তাদের সতর্ক করলেন তাঁকে হত্যার ফলাফল সম্পর্কে। যদিও সেসব ফিতনাবাজেদের জ্ঞান বুদ্ধি ছিলোনা না তাদের মধ্যে সম্মানের ছিটেফোঁটাও ছিলো!

যখন সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) এই ঘেরাও হটাও দেখলেন, তাঁরা উছমানের প্রাণনাশের ভয় করলেন। তাদের মধ্যে একদল এগিয়ে এলেন তাঁর জন্য লড়াই ও তাঁকে প্রতিরক্ষা দেয়ার জন্য। যদিও, তিনি (رضي الله عنه) অস্বীকৃতি জানালেন। তাঁরা আবারও আসলেন, তিনি আবারও অস্বীকৃতি জানালেন। যখন তাঁরা দেখলেন যে এটি খারাপ দিকে মোড় নিচ্ছে, তাঁরা উছমান (رضي الله عنه) এর জন্য লড়াই করার প্রস্তুতি নিলেন।

হারিছা ইবনু নুমান (رضي الله عنهما) এগিয়ে আসলেন ও বললেন, “আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে আমরা আপনার প্রতিরক্ষার জন্য লড়াই করবো।”

উছমান (رضي الله عنه) জবাব দিলেন, “না!”

এরপর মুগিরা ইবনু শু’বা (رضي الله عنه) বলে উঠলেন, “নিশ্চয়ই আপনার সাথে সংখ্যায় অধিকরা রয়েছে এবং আপনি সত্যের উপর, তারা মিথ্যের উপর।”

উছমান (رضي الله عنه) তাঁকে বললেন, “আমি রসুলুল্লাহ ﷺ এর পরবর্তী প্রথম ব্যক্তি হবোনা যে কিনা উম্মাহ্-র মধ্যে রক্তপাত ঘটাবে।”

আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (رضي الله عنهما) বললেন, “লড়াই (হত্যা করুন তাদের) করুন, ওয়াল্লাহি, আল্লাহ্ আপনাকে তাদের সাথে যুদ্ধ করা জায়েজ করেছেন।”

উছমান (رضي الله عنه) বললেন, “না! ওয়াল্লাহি আমি তাদের হত্যা করবোনা!”

কিছু সাহাবী এরপর গৃহপ্রবেশ করলেন, যদিও উছমান তাদের কাকুতি মিনতি করে তার প্রতিরক্ষায় লড়াই করতে মানা করলেন। তিনি তাদের শক্তকন্ঠে মনে করিয়ে দিলেন, যে মুসলিম শাসকের অনুগত হওয়া ফরয। তাঁরা (رضي الله عنهم) এরপর কথা না বাড়িয়ে গৃহত্যাগ করলেন।

ফিতনাবাজেরা ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তিদের ফযিলত সম্পর্কে অজ্ঞ, না তারাউচ্চবর্গীয় ব্যক্তির সম্মান সম্পর্কে অবগত।

এরপর দাসী দ্বারা পরিচালিত খচ্চরের পীঠে চড়ে উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়া আসলেন উছমানের প্রতিরক্ষার জন্য (رضي الله عنه)। এরপর আশতার এসে সেই খচ্চরকে মারতে থাকলো যতক্ষণ সেটি ফিরে না যায়। তো তখন তিনি (উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়া) বলে উঠলেন, “আমাকে ফেরত নাও, আমাকে ফেরত নাও! যাতে এই কুকুরটা আমাকে বেপর্দা না করতে পারে।”

এ থেকে বুঝা যায় যে, ফিতনাবাজেরা সম্মানিত ব্যক্তির সম্মান সম্পর্কে অবগত নয়।

গৃহবন্দীর শেষদিন উছমান (رضي الله عنه) স্বপ্নে রসুলুল্লাহ ﷺ, আবু বক্‌র ও উমারকে দেখলেন। তাঁরা বলছিলেন, “ও উছমান, আসো, ইফতার করো আমাদের সাথে!” সেদিন সকালে উছমান সিয়ামরত অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাঁর নিচের কাপড় মাঝে দিয়ে শক্ত করে বেঁধেছিলেন, যাতে তাঁর আওড়াহ প্রকাশিত না হয়। এই অবস্থায়ই তাঁকে হত্যা করা হয়।

তিনি رضي الله عنه মুসহাফ নিলেন ও পড়তে শুরু করলেন। তিনি তাদের একজন ছিলেন যিনি ক্বুরআন সবচেয়ে বেশি পড়তেন।

একজন ব্যক্তি উছমানের গৃহে প্রবেশ করে। তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “তোমাদের ও আমাদের মাঝে পার্থক্য হলো ক্বুরআন।”(এটা শুনার পর) সে গৃহত্যাগ করলো।

আরেকজন প্রবেশ করলে উছমান বলে উঠলেন, “আমাদের মাঝে পার্থক্য হলো কিতাবুল্লাহ্!”এরপর সে উছমানকে গলা চেপে ধরে রাখলেন যতক্ষণ তিনি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত না করে। তারপর সে বললো, “ওয়াল্লাহি! আমি তাঁর গলার মতন নরম আর কিছু দেখিনি, আমি এরপর তাকে গলা টিপে ধরে রাখলাম যতক্ষণনা আমি তার শ্বাসকষ্ট সেভাবে হয়, যেন জ্বিন তাঁর শরীর থেকে বের হচ্ছে…”এরপর তাঁকে (উছমানকে) নিচে ফেলে সে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করলো।

উছমান (رضي الله عنه) নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেন, ফলস্বরূপ তাঁর হাত কেটে গেলো। উছমান বলে উঠলেন, “ওয়াল্লাহি! এটা সেই হাত যে হাত দিয়ে প্রথম মুসহাফে লেখা হয়েছিলো (আল হুজুরাত থেকে আননাস)”এরপর অন্য একজন গৃহে প্রবেশ করে তাঁকে (উছমানকে) অদ্ভুত একটা তীর দিয়ে আঘাত করলো, যার ফলে রক্ত প্রবাহ হলো ও এক ফোঁটা রক্ত এই আয়াতে পড়লোঃفَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ তাই, আল্লাহ্ তোমার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট। এবং তিনি সর্বোশ্রোতা ও সর্বোদ্রষ্টা। [সূরা বাকারা, ১৩৭]আয়াতটির উপর রক্তের ফোঁটা রয়ে গেলো। উছমান (رضي الله عنه) এর মুসহাফে।

যখন তারা উছমান (رضي الله عنه) কে ঘেরাও করলো তখন তাঁর স্ত্রী নাঈলা বললেন, “তোমরা তাঁকে হত্যা করো বা না করো, তিনি সারারাত জাগ্রত থেকে এক রাকায়াতে পুরো ক্বুরআন পড়েন।”তিনি তাঁকে (উছমানকে) রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। (যদিও) তারা তাঁর হাত ও হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে ফেললো।

তারা উছমানের মাথায় গুরুতরভাবে আঘাত করতে থাকলো, একজন লোক উছমানের মাথার কাছ দিয়ে মুসহাফের সাথে দিয়ে হেটে যেতে থাকলো এবং মাথায় সজোড়ে লাথি দিয়ে মুসহাফ থেকে সরিয়ে ফেললো। বলতে লাগলো, “আমি কাফিরের মুখ এমন আগে কখনও দেখিনি না কোন কাফিরের শয়ন এতোটা সুন্দর দেখেছি!”

এটাই হলো ফিতনাবাজদের নীতি; যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ গেলেই তাকে তারা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। তারা উছমানের সমস্ত কিছু লুট করলো। একটা জিনিসও বাকি রাখলোনা। এমনকি তার পানি পানের পাত্রটিও না। এরাই হলো আহলুল ফিতান! যারা প্রতিটি কদম দুনিয়াবি কারনেই ফেলে।

মূল: শাইখ সুলাইমান আর রুহাইলি (حفظه الله)লিংক: https://youtu.be/pzOaGWAimpk

বঙ্গানুবাদ: মুহাইমিনুর রহমান স্নিগ্ধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

8 − 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য