ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত দিল্লি থেকে বলেছে – “We see an increased presence of Hamas in the region, in Pakistan and Bangladesh. They are active here.”[১]
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত – বাংলাদেশকে সরাসরি নাম ধরে উল্লেখ করেছে, এটি কোন কূটনৈতিক বিবৃতি নয়। এটি একটি framing operation, এটি একটি টার্গেট পেইন্টিং। আর আমরা? আমরা ফুটবল খেলা নিয়ে ব্যস্ত।
The New Axis: ভারত-ইসরায়েল
এই থ্রেট-পেইন্টিং ভাল ভাবে বুঝতে হলে ভারত ইসরায়েল রসায়ন বুঝতে হবে। ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা। ইসরায়েলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৪২ শতাংশের বেশি যায় ভারতে। অন্যদিকে ভারতের আদানি গ্রুপ ইসরায়েলের হাইফা বন্দর পরিচালনা করছে।[২]
অক্টোবর ৭-এর পর থেকে সম্পর্কটা আর শুধু অর্থনৈতিক নয়, সেটা আদর্শগত হয়ে গেছে।মোদি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বললেন – “India stands with Israel firmly with full conviction.”[৩] পাকিস্তানে অপারেশন সিন্দুরের সময় ইসরায়েলি ড্রোন ও অস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আঘাতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। এটা শুধু দুই দেশের বন্ধুত্ব নয়।
এটা একটি strategic convergence, যেখানে বাংলাদেশ একটি shared problem হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের জন্য ইসরায়েলের মডেল অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলের জন্য গাযা এবং ভারতের জন্য কাশ্মীর এই ২মডেলে মুসলিমদের জাতিগত নিধনে ভারত এবং ইসরায়েল আদর্শিক ভাবে এবং কৌশলগত ভাবে অভিন্ন!
আল্লাহ বলেছেন: “তুমি মুমিনদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর শত্রু হিসেবে ইহুদি ও মুশরিকদের পাবে।” (সূরা মায়িদা: ৮২)
এটাই আজকের geopolitical reality!
হাসিনার ব্যাকডোর: যে সত্য লুকানো ছিল
হাসিনা আমলে ২০১৫ সাল থেকে মোট ১৯০ মিলিয়ন ডলারের নজরদারি প্রযুক্তি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি উৎসের সরঞ্জাম ছিল ৪৩ মিলিয়ন ডলারের।[৪]
NSO Group-এর Pegasus, Verint Systems, Cognyte সহ কমপক্ষে নয়টি স্পাইওয়্যার কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের প্রযুক্তি বিক্রি করেছে।[৫]
রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরায়েলকে অস্বীকার করতে করতে গোপনে তাদের অস্ত্র কিনছিল একই সরকার – বিরোধীদের উপর চালানোর জন্য। এটা কোন হিপোক্রেসি নয়, এটা ছিল ইসরায়েলের মত জেনোসাইডাল স্টেটের সাথে কোলাবোরেশন।
২০২১ সালে হাসিনা সরকার বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে “ইসরায়েল ব্যতীত” বাক্যটি মুছে দেয়। “আন্তর্জাতিক মান” এই অজুহাতে। এপ্রিল ২০২৫ এ ইউনূস সরকার সেই বাক্য পুনরায় যুক্ত করেছে, লক্ষাধিক মানুষের ঢাকায় “Free Palestine” মিছিলের পর।[৬]
হাসিনা মুছেছিল, কিন্তু সেটা আবার ফিরে এসেছে, ভারত এটা দেখছে। ইসরায়েল এটা দেখছে।
Framing Bangladesh: The Real Game!
ইসরায়েলি কূটনীতিকরা মনে করে ভারত যদি হামাস’কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে, তাহলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ এবং নেপালের মতো দেশগুলোও ভারতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবে।[৭] কি বুঝলেন? ভারতকে দিয়ে আঞ্চলিক ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সেই প্রজেক্টের একটি টার্গেট।
চীন ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের নতুন সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে দেখে ভারত নার্ভাস। সীমান্তে চাপ, ভেতরে অস্থিরতার হুমকি, পার্বত্য চট্টগ্রামে উসকানি, মন্দির ইস্যুতে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি – এগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা নয়। এগুলো একটি coordinated pressure campaign. আর এখন সেই ক্যাম্পেইনে ভারত ইসরায়েলকেও ব্যবহার করছে। বাংলাদেশকে হামাসের সাথে ফ্রেম করে সন্ত্রাসবাদের জুজু সামনে আনতে চাচ্ছে। This is not a coincidence, this is not a ‘try’, this is a strategy, deliberate strategy!
আমরা কোথায়?
গাজায় পুরো একটা জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হচ্ছে, আর সেই গণহত্যার মূল অপরাধী এখন আমাদের নাম মুখে নিচ্ছে! আমাদের সীমান্ত অস্থির, আমাদের অর্থনীতি চাপে, আমাদের রাজনীতি এখনো চাঁদা আর ভাগ বাটোইয়ারায় ব্যস্ত – আর আমরা নিজে?
আমরা ফুটবলের গোল নিয়ে উন্মাদ! “A nation that doesn’t know its enemies doesn’t deserve to survive them.”
এটা সময় চোখ খোলার, কারণ –
The war has not declared, it has already started!
If you don’t see the war then probably you are already inside it!
