Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅনলাইন জুয়া; অর্থ ও আমল নষ্টের নতুন পথ

অনলাইন জুয়া; অর্থ ও আমল নষ্টের নতুন পথ

জুয়া একটি জঘন্য ঘৃণ্য কাজ। সামাজিকভাবে এর সঙ্গে জড়িতদের পছন্দ করা হয় না। তাই লোকলজ্জার ভয়েও অনেকে প্রকাশ্যে জুয়ায় জড়ানোর সাহস করে না। কিন্তু এখন জুয়াড়িরা নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে।

একে ডিজিটালাইজড করে সরলমনা মানুষের জুয়ায় উদ্বুদ্ধ করছে। অনেকে জানেই না যে সে নিজের অজান্তে জুয়ায় লিপ্ত হচ্ছে। ফেসবুক চালু করলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একাধিক অনলাইন জুয়ার পেজ। ফেসবুক আইডি, পেজ, গ্রুপ, ওয়েবসাইট ও মোবাইলভিত্তিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপস দিয়ে চলছে জুয়ার এ সাইটগুলো।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে লোকাল, সুপার ও অনলাইন এজেন্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে নানা রকম সুবিধার হাতছানি। টাকার নিশ্চয়তাসহ দ্রুত লেনদেনের মাধ্যমে সব ধরনের বেটিং বুঝিয়ে দেওয়ার অফার আছে বিজ্ঞাপনে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই এসব সাইটে লেনদেন সহজ হওয়ায় যাদের কাছে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড নেই, তারাও খুব সহজে জুয়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে।

তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, আশঙ্কাজনক হারে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে তরুণরা। খোয়াচ্ছে বিপুল টাকা। আর এ টাকার বড় অংশ চলে যাচ্ছে বিদেশে।

প্রাথমিকভাবে প্রতারকরা মোবাইলে সহজে টাকা উপার্জনের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে তাদের অ্যাপস ব্যবহার করতে বাধ্য করে। অনেকে প্রথমদিকে কিছু টাকা আয়ও করে। পরবর্তী সময়ে লোভে পড়ে যখন মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে, তখনই তা নিয়ে প্রতারকরা সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে।

তাদের এই ধোঁকার ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন অনলাইন এক্টিভিস্টদের দিয়ে এমনভাবে প্রচারণা চালানো হয় যে অনেক কম শিক্ষিত মানুষ এই জুয়াকে ফ্রিল্যান্সিং ভাবতে শুরু করে। ফলে সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য সর্বনাশা ও ঈমানবিধ্বংসী জুয়ার পথে পা বাড়ায়।

এসব উপায়ে অর্থ উপার্জন মানুষের দুনিয়া-আখিরাত উভয় জাহানের জন্যই ক্ষতিকর। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ ধরনের সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ঘটাতে এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে। তবে কি তোমরা বিরত হবে না?’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৯০-৯১)

উপরোক্ত আয়াতে কিছু কাজকে শয়তানের কর্ম বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জুয়া অন্যতম। মহান আল্লাহ এসব কাজ হারাম করেছেন। আমাদের নবীজি (সা.)-ও জুয়ার ব্যাপারে তাঁর উম্মতদের সতর্ক করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মদ পান, জুয়া খেলা ও ঢোল-তবলাকে হারাম করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬৮৫)

অতএব কোনো মুসলমান এ ধরনের হারাম কাজে কোনোভাবেই আত্মনিয়োগ করতে পারে না। তা ছাড়া জুয়া অনলাইনে হোক আর অফলাইনে দুটোই দেশের জন্য হুমকি। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি টাকা বাইরে পাচার হয়ে যায়। সংক্ষেপে বড়লোক হওয়ার নেশায় বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়। কেউ কেউ হতাশার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দুনিয়া থেকেই চলে যায়। ফলে তাদের পরিবারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে জুয়া আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বহু মানুষের দুনিয়া-আখিরাত বিনষ্ট হচ্ছে। মহান আল্লাহ সবাইকে এ ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 + 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য