Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসেরা মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেলেন যে ভারতীয় আলেম

সেরা মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেলেন যে ভারতীয় আলেম

২০২৩ সালের জন্য শীর্ষ প্রভাবশালী পাঁচ শ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করেছে আম্মানভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার’। গত রবিবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত তালিকায় বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভারতের জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি এবং বর্ষসেরা নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান অনুবাদক আয়েশা আবদুর রহমান বিউলির নাম ঘোষণা করা হয়। এ তালিকায় প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের শীর্ষে রয়েছেন যথাক্রমে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খমিনি, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হাম্মাদ, রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং মুফতি তাকি উসমানি।

মাওলানা মাহমুদ মাদানি একজন ভারতীয় ইসলামী স্কলার, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী।

১৯৬৪ সালে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯২ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ভারতের প্রাচীনতম সর্ববৃহৎ সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের (জেইউএইচ) একাংশের সভাপতি। সব সময়ই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও আন্তর্ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চেষ্টা তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য। ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রাজ্যসভায় রাষ্ট্রীয় লোকদল (আরএলডি) দলের সদস্য হিসেবে ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ভারতে মুসলিম জনসাধারণের জন্য শিক্ষা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা ও সমাজসেবায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর দৌহিত্র ও সাইয়্যিদ আসআদ মাদানি (রহ.)-এর ছেলে।
মাওলানা মাহমুদ মাদানি দীর্ঘ দুই দশক পর্যন্ত এই সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। এ সময় তিনি সংগঠনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়ে ইসলামফোবিয়ার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে জোড়ালো ভূমিকা পালন করে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করেন। জমিয়তে দায়িত্বপালনকালে দীর্ঘ দুই দশকে গুজরাট, বিহার, দিল্লি, তামিলনাড়ু, কাশ্মীর, কেরালা, আসাম, ইউপি, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা প্রভৃতি স্থানে ট্র্যাজেডির শিকার ব্যক্তিদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। তা ছাড়া সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আন্দোলনের সমর্থনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বহুত্ববাদ নীতির জন্য তার উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া আধুনিক সময়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে হাজার হাজার মক্তব ও মাদরাসার পড়া লাখ লাখ শিশু শিক্ষার্থীর জন্য তিনি শিক্ষা কারিকুলামকে উন্নত করেন। তা ছাড়া দারুল উলুমের শিক্ষা কারিকুলামে কিছুটা উন্নত করে একটি প্রকল্প শুরু করেন যার মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্তরে (দশম শ্রেণি) উত্তীর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জমিয়ত ইয়ুথ ক্লাব চালু করেন। বিশ্বখ্যাত ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডসের তত্ত্বাবধানে সমাজে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রদান করা হয়।

সূত্র : দ্য মুসলিম ফাইভ হান্ড্রেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + six =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য