Thursday, June 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআধুনিক এক মাছের খামার

আধুনিক এক মাছের খামার

দেশে মৎস্য খামারের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য দুই-ই বেড়ে চলেছে। শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণে ক্রমেই বেশি করে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে এই খাতে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদনের পাশাপাশি গুণগত মানও বৃদ্ধি করা সম্ভব

প্রথাগতভাবে কৃষি আর শিল্প দুটি আলাদা খাত হলেও দিনে দিনে কৃষিভিত্তিক শিল্প হয়ে উঠেছে শিল্পের অন্যতম খাত। কৃষিতে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, যার মধ্যে আছে ইন্টারনেট অব থিংস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি।

বছর পাঁচেক আগেও কল্পনা করা যেত না যে কৃষিতে এমন সব প্রযুক্তির প্রয়োগ বিস্ময়কর সফলতা বয়ে আনছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণ-যুবকদের মৎস্য খামারসহ কৃষি উদ্যোগের দিকে ঝোঁকা এর একটি কারণ।

ইংল্যান্ডে ব্যারিস্টারি পড়া শাহাদাত বিন জামান শোভন মৎস্য চাষে প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ করা এক উদ্যোক্তা। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালের সেনবাড়ীতে সাতটি পুকুরে পুরোদমে মাছ চাষ করেছেন।

পাঠকদের মধ্যে যাঁরা টিভির ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত দর্শক তাঁরা হয়তো মাছ চাষের বটম ক্লিন রেসওয়ে এবং ইনপন্ড রেসওয়ে সিস্টেম বা আইপিআরএস সম্পর্কে এরই মধ্যে কিছু জানেন। শোভন মাছ চাষের জন্য বেছে নিয়েছেন বটম ক্লিন রেসওয়ে সিস্টেম।

আমাদের মৎস্যশিল্পের প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো অ্যামোনিয়া বা মাছের বর্জ্য। পুকুরের পানিতে মাছের বর্জ্য ও খাদ্যের অবশিষ্টাংশ মিশে পানি ও মাটি দূষিত হয়ে যায়।

এতে পানিতে অক্সিজেনের অভাব হয়। ফলে কয়েক বছরের মাথায় মাছের উৎপাদন কমে যায়। পানি থেকে অ্যামোনিয়া বর্জ্য সরিয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানো হলে অধিক ঘনত্বেও মাছ চাষ সম্ভব। রেসওয়ে বটম ক্লিন পদ্ধতি হচ্ছে পানিতে প্রবাহ তৈরি করে জলাশয়ের বর্জ্যকে তলানিতে নিয়ে গিয়ে অপসারণ করা। পুকুরের পানিতে যন্ত্রের মাধ্যমে গোল আবর্ত তৈরি করা হয়।

আবর্তে পড়ে বর্জ্যগুলো জমা হয় তলানি হিসেবে। এই পদ্ধতিতে পুকুরের তলায় বিশেষ স্থান রাখা হয়, যাকে বলা যায় মাছের টয়লেট। সেখানে যুক্ত করা হয় পাম্প। পাম্পের দ্বারা তলানিতে জমা বর্জ্য প্রতিনিয়ত অপসারণ করে পানিকে দূষণমুক্ত রাখা হয়। পাশাপাশি প্রচুর অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। অ্যারেটর নামের আবর্ত তৈরির যন্ত্র পানিতে প্রবাহের সৃষ্টি করে। এতে মাছ অক্সিজেনসমৃদ্ধ অনুকূল পরিবেশ পেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে। মাছের স্বাদও হয় ভালো।

শোভন আমাদের ঘুরিয়ে দেখালেন তাঁর মাছের খামার। সাতটি পুকুরের পাঁচটিতেই পলি পন্ড বটম ক্লিন রেসওয়ে সিস্টেমে মাছ চাষ চলছে। বাকি দুটিতে চলছে প্রচলিত পদ্ধতির মাছ চাষ। শোভন পরীক্ষা করে দেখছেন প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষে উৎপাদন কতটা বাড়তে পারে। সাধারণভাবে মাছ চাষ করলে যে পুকুরে ১০ হাজার পোনা ছাড়া যায়, প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই পুকুরেই এক লাখ পোনা ছেড়েছেন তিনি। ফলাফল এ পর্যন্ত বেশ আশা-জাগানিয়া।

এই প্রযুক্তির ব্যবহারে বিনিয়োগ বেশি লাগলেও উদ্যোক্তা শোভন বলছেন, বাজার ও চাহিদা বুঝে মাছ চাষ করলে আড়াই থেকে তিন বছরেই খরচ তুলে ফেলা সম্ভব। আরেকটি বড় কথা হচ্ছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে মাছের গুণগত মান ভালো থাকায় তা বিদেশে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। সেই পথেই হাঁটবেন শোভন। বাংলাদেশের চাষের মাছকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে চান তিনি।

মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন নেতৃত্বের ভূমিকায়। দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ মৎস্য খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। গ্রামীণ তরুণ, শিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানও শুরু করেছে প্রযুক্তির সহায়তায় আধুনিক মাছ চাষ। রিসার্কুলেটিং অ্যাকোয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস), বায়োফ্লক, বটম ক্লিন কিংবা ইনপন্ড রেসওয়ে সিস্টেমসহ নানা প্রযুক্তির ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা জাতের মাছকে চাষের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দেশের তরুণদের হাতে সম্প্রসারিত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির মাছ চাষ। এ ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও তদারকির এখনই সময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য