১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন আওয়ামী বাকশাল সরকার সরকারি প্রচারপত্র হিসেবে চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল করে দেয়। এই চারটি পত্রিকার একটি হলো মানিক মিয়ার দৈনিক ইত্তেফাক।
এটা ইত্তেফাকের চরিত্র সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়।
তবে এটা শুধু ইত্তেফাকের একারই চরিত্র নয়, বরং এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সবসময়ই ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সবসময়ই একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিউজ করে থাকে। আজকের দৈনিক ইত্তেফাকে হেফাজত কর্মী কর্তৃক বাউল পেটানো শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সেই হলুদ সাংবাদিকতারই ধারাবাহিকতা।
ইত্তেফাক প্রথমে শিরোনাম করেছে “বাউল সন্দেহে যুবককে গণপিটুনি হেফাজত নেতাকর্মীদের”
এরপর এডিট করে শিরোনাম বদলে তারা করেছে “বাইতুল মুকাররম এলাকায় বাউল সন্দেহে যুবককে গণপিটুনি হেফাজত নেতাকর্মীদের”
এরপর এডিট করে করেছে, “বাইতুল মুকাররম এলাকায় চোর সন্দেহে যুবককে গণপিটুনি”
শেষে এসে হেফাজতকর্মীও নাই, বাউলও নাই।
বাউল বিষয়টি নিয়ে জাতি কেমন ক্রিটিকাল সময় পার করছে আপনারা সকলেই জানেন। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র বাউলদের পক্ষ নিয়ে ইসলামপন্থীদেরকে কোণঠাসা করার জন্য সবকিছু করছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় জুলুমের পক্ষে বয়ান উৎপাদনে সেই ৭৫ এর মতোই ভুমিকা রাখতে চেষ্টা করছে ইত্তেফাক।
কিন্তু তারা ভুলে গেছে এটা ৭৫ না, ২৫। এটা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। এখানে মিথ্যার বেসাতি করে সহজে টিকে থাকা যায় না।
কিছু সময়ের মধ্যেই ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শী এবং বাস্তবচিত্র প্রমাণ করেছে—এই খবরটি ভুয়া , অপরীক্ষিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর।
যাকে “বাউল” বলা হচ্ছে, তিনি ছিলেন একজন মোবাইল চোর। স্থানীয় যুবকরা তাকে গণপিটুনি থেকে রক্ষা করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে নিয়ে যাচ্ছিল। চারপাশের লোকজনকে বারবার বলা হচ্ছিল—আইন নিজের হাতে নেবেন না।
অর্থাৎ ঘটনা ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা; কোনো মতাদর্শিক হামলা নয়। অথচ ইত্তেফাক ঘটনাটিকে এমনভাবে সাজিয়েছে যেন হেফাজত স্বভাবগতভাবেই সহিংস।
এই ধরনের রিপোর্ট ভুল নয়, বরং এগুলো হলো বাংলাদেশের বহু সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠান আলেমসমাজ ও ইসলামি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে মনে গভীরে লালিত বিদ্বেষের সচেতন বহিপ্রকাশ।
তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসলামপন্থী মানেই সহিংস, অসহিষ্ণু। তাই কোনো ঘটনা ঘটলে তারা প্রথমেই ইসলামী পরিচয়ের মানুষকে দোষী ধরে নেয়, এবং বাস্তবতা ভিন্ন হলেও সেই প্রাথমিক ফ্রেম থেকে সরে আসতে চায় না। এটা শুধু সাংবাদিকতার ব্যর্থতা নয়; এটি একটি কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ।
বাংলাদেশের মিডিয়া বহুবার এই ধরনের কাজ করেছে—মাদরাসা শিক্ষার্থী হলে ছোট ঝগড়াকেও ‘উগ্রবাদী সংঘর্ষ’ বানানো, আলেমদের বক্তব্য কেটে-ছেঁটে ‘চরমপন্থা’ প্রমাণ করার চেষ্টা, দাড়িওয়ালা কোনো অপরাধী ধরা পড়লেই অযথা ‘মাদরাসা-সংযোগ’ জুড়ে দেওয়া। এসব ঘটনা স্পষ্ট করে যে মিডিয়ার একাংশ ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রায় লিখে রাখে, ঘটনার সত্যতা শুধু সেই ফ্রেমে শব্দ বসানোর কাজ।
ইত্তেফাকের আজকের রিপোর্ট সেই নোংরা প্রবণতার সর্বশেষ উদাহরণ। ভুল সংবাদ ছড়িয়ে তারা শুধু একটি সংগঠনকে নয়, বরং পুরো ধর্মপ্রাণ সমাজকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
বাধ্য হয়ে চুপিচুপি শিরোনাম সংশোধন করা কোনো সমাধান নয়, বরং ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াই ইত্তেফাকের নৈতিক দায়িত্ব। নইলে তারা প্রমাণ করবে—তাদের কাছে সত্য নয়, ইসলামবিদ্বেষই আসল সংবাদমূল্য।
