ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহি. বনাম……..
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহি. এর নাম শুনেনি এমন হয়তো কেউ নেই। তাঁকে “ইমামু আহলিস সুন্নাহ বা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতে ইমাম” বলা হয়।
“ইমামু আহলিল সুন্নাহ”র মতো এতো মহান, এতো বিশাল, এতো মর্যাদাসম্পূর্ণ উপাধি তিনি কীভাবে পেলেন?! তা ভাবতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতাম চিন্তার অচিনপুরে।
কিন্তু যত তাঁর ভিতরে গিয়েছি, যত বেশি তাঁর জীবনী পড়েছি, তাঁর মানহাজ নিয়ে যত তলিয়ে দেখেছি ততই স্পষ্ট হয়েছে যে, এই মহান উপাধির যোগ্য তিনি না হলে আর কে হবে?
ফিকহী উসূলের দিক থেকে তাঁর মানহাজ অত্যন্ত স্পষ্ট। কুর’আন ও সুন্নাহর কাছে তিনি নিজেকে দ্বিধাহীনভাবে তুলে দিয়েছেন। তাইতো বলা হয়, তাঁর মাযহাব কুর’আন ও সুন্নাহর সবচেয়ে কাছাকাছি। যাহোক ফিকহী মাযহাব নিয়ে তেমন আলোচনার প্রয়োজনবোধ করছি না।
ভ্রান্ত ও বিদ’আতী আক্বীদাহ, মানহাজ, মতবাদ ও ফেরকার বিপক্ষে তিনি ছিলেন খোলা তরবারি। তাদের বিরুদ্ধে তিনি খোলা তরবারি হয়ে মাঠে অবতীর্ণ হতেন। কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তির মধ্যে তিনি ভ্রান্ত ও বিদ’আতী মানহাজ অবলোকন করলে তিনি তার শিকড় উপড়িয়ে ফেলতেন।
যখন ভ্রান্ত গ্রীক দর্শন ইসলামি আক্বীদাহ ও মানহাজের পোশাকে মুসলিমে সমাজে প্রবেশ করে ইসলামি আক্বীদাহ ও মানহাজকে তার আসল রূপরেখা থেকে বহিষ্কার করতে বদ্ধপরিকর হয় তখন তিনি সেই গ্রীক দর্শনের বিপক্ষে বীরপুরুষ হয়ে অবতরণ করেন। বীরত্বের বাহুবলে ছিন্নভিন্ন করে দেন গ্রীক দর্শনকে।
খলকে কুর’আনের মাস’আলা মুসলিম সমাজের বুকে ভয়ানক টর্নেডোর আকারে আঘাত হানে। সেই টর্নেডো থেকে আত্মরক্ষার জন্য হাতেগুণা কয়েকজন বাদে সবাই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এই ভয়ানক টর্নেডোর যে মহানপুরুষ একাই মোকাবেলা করেন তিনি হলে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল। জীবনবাজি রেখে তিনি তা থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করেন। এর জন্য তাঁকে কত লোমহর্ষক ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তা বর্ণনাতীত।
সঠিক মানহাজ ও আক্বীদাচ্যুত লোকদের হাজারো ভাল আমল ও আখলাকের তিনি ধোঁকায় পড়তেন না, শক্তভাবে তিনি তার বিপক্ষে অবস্থান নিতেন। একবার এক ব্যক্তি এসে বলল, আপনি আমাকে হারেস মুহাসিবীকে বর্জন করতে বলেছিলেন। তাই আমি তাকে বর্জন করেছি।
কিন্তু আমার এক প্রতিবেশী তার সাথে ওঠাবসা করে। আমার প্রতিবেশীর ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
একথা শুনে তিনি রাগে বিবর্ণ হয়ে গেলেন এবং চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেললেন। যা ইতঃপূর্বে কোনদিন ঘটেনি।
সেই প্রতিবেশী লোকটি বলল, সে তো হাদীস বর্ণনা করে, আল্লাহর ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকে এবং অত্যন্ত নম্র ইত্যাদি ইত্যাদি।
আহমাদ বিন হাম্বাল বললেন, তার এসব আমলের ধোঁকায় পড় না। সে একজন ঘৃণিত লোক। তুমি তার সাথে ওঠাবসা করবে না এবং কথাবার্তা বলবে না। কেউ হাদীস বর্ণনাকারী বিদ’আতীর সঙ্গে তুমি বসবে? কক্ষনোই না। (তবাকাতুল হানাবিলাহ, ১/২৩৩)
এই ঘটনা উল্লেখ করার পর শাইখ জামাল বিন ফুরাইহান হারেসী বলেন,
رحم اللّٰه الإمام أحمد، لو كان في زماننا هذا لما سلم ولرمي بالتشدد والعمالة والعلنة، وغير ذلك من الألفاظ التي يطلقها الحزبيون لما أعيتهم الحجج؛ لأنه ما داهن ولا جامل أهل البدع والأهواء.
ইমাম আহমাদের ওপরে আল্লাহ্ রহম করুন। তিনি যদি বর্তমান যুগে হতেন তবে তিনিও নিরাপদ থাকতে পারতেন না। তাকে বলা হত, বাড়াবাড়িকারী, দালাল, বিভেদ সৃষ্টিকারী ও আরো অন্যান্য শব্দ; যা হিযবীরা দলীলে অপারগতার সময় প্রয়োগ করে। কেননা তিনি বিদ’আতী ও প্রবৃত্তিপূজারীদের সঙ্গে নরম ও সৌহার্দপূর্ণ ছিলেন না। (আল-আজবিবাতুল মুফীদাহ ফী আসয়িলাতিল মানাহিজিল জাদীদাহ, ৫২)
