Monday, August 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইমাম মাহদীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা

ইমাম মাহদীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা

হাদিসের আলোকে এটা অবশ্যই প্রমাণিত এবং সত্য যে, কিয়ামতের পূর্বে নবী (সা.)-এর আহলে বাইতের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তির আগমন হবে যার নাম ও পিতার নাম হবে নবী (সা.)-এর নাম ও পিতার নামের অনুরূপ। অর্থাৎ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ। যার উপাধি হবে ‘মাহদী’। এবং তার আবির্ভাবের বিষয়টি অনেক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং উম্মতের ‘তালাক্কী বিল কবুল’ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে শুরু করে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের প্রায় সকল আলেম এ বিষয়ে একমত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মাত্র একদিনও বাকি থাকে তবুও-আল্লাহ তাআলা ওই দিনকে দীর্ঘ করবেন এবং আমার বংশের এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম আমার নামের সাথে এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নামের সাথে মিলে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ : ৪২৮১)।

ইমাম মাহদীর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য: উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মাহদী হবে ফাতেমার বংশধর। (সুনানে আবু দাউদ : ৪২৮৩)। আবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে নেককার লোক বলে অভিহিত করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৭৭)। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে মানুষ তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবেন। (অর্থাৎ তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলার জন্য তার হাতে হাত রেখে শপথ করবে।)। (সুনানে আবু দাউদ : ৪২৮৫)।

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মাহদী আমার বংশের হবে। তার চেহারা উজ্জ্বল হবে। (তার দ্বারা) গোটা দুনিয়ায় ইনসাফ কায়েম হবে। যেমনিভাবে (ইতোপূর্বে) পুরো দুনিয়ায় অন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি সাত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন। (সুনানে আবু দাউদ : ৪২৮৪)। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মাহদী আমাদের আহলে বাইত থেকে হবে। আল্লাহ তা’আলা তাকে একরাতে খিলাফতের যোগ্য করবেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০৮৫)।

উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে ইমাম মাহদীর যে পরিচয় এবং বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়: ক) ইমাম মাহদী ফাতেমা (রা.) এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন। খ) মাহদী (আ.) এর নাম হবে নবীজির নামে এবং তার পিতার নাম হবে নবীজির পিতার নামে। (এখানে একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো মাহাদী ওনার নাম নয়, মাহদী নামের অর্থ: ভালো নির্দেশিত, সৃষ্টিকর্তা দ্বারা পথপ্রদর্শিত, সুপথ প্রাপ্ত ইত্যাদি)।

গ) তিনি দেখতে সুদর্শন হবেন এবং ওনার কপাল হবে প্রশস্ত, নাক হবে লম্বা ও সরু। ঘ) মাহদী (আ.) নবী হবেন না। তিনি হবেন একজন নেককার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যিনি মুসলমানদের খলীফা হবেন। ঙ) মাহদী (আ.) এর আবির্ভাব হবে প্রাচ্য থেকে। ছ) মাহদী (আ.) সাত বছর (কোনো কোনো হাদিসে এসেছে নয় অথবা উনিশ বছর) খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন এবং দুনিয়াতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। চ) তার মৃত্যুর পর মুসলমানগণ তার জানাযা পড়বেন।

অতএব উপরোক্ত হাদীসগুলো দ্বারা এটা প্রমাণিত যে, ইমাম মাহাদী আমাদের মাঝে অবশ্যই আসবেন। তবে যে বিষয়টি নিয়ে আমাদের মাঝে মতভেদ এবং বিভ্রান্তি তা হলো ইমাম মাহদী কবে আসবেন, তিনি কি ইতিমধ্যে চলে এসেছেন, বা তার আসার লক্ষণ গুলো কি?

ইমাম মাহদী কি এসেছেন, নাকি আসবেন, অথবা কবে আসবেন? যদিও ইমাম মাহদীর আগমনের নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ কোথাও উল্লেখ করা নেই তবে বেশ কিছু হাদিস পর্যালোচনা করলে আমরা জানতে পারবো উনার আগমনের বেশ কিছু আলামত পূর্বে পরিলক্ষিত হবে। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উনার আগমন হলো কেয়ামতের পূর্বের বড় একটি আলামত। উনার আগমনের মধ্য দিয়ে পুরো বিশ্ব জুড়ে ইসলাম পুনরায় সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হবে। যেহেতু ইমাম মাহদীর আগমন এবং কেয়ামত ঘনিয়ে আসার মাঝে একটি সম্পর্ক রয়েছে সেহেতু কেয়ামতের বেশ কিছু আলামত ওনার আবির্ভাবের বার্তা প্রদান করবে।

আমরা সকল মুসলিম নর-নারী এটা জানি এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী এবং তারপর আর কোনো নবী এই পৃথিবীতে আসবেন না। সাহাবায়ে কেরামগণ বিভিন্ন সময়ে নবীজির কাছে জানতে চেয়েছিলেন কিয়ামত কবে হবে, এ বিষয়ে নবীজি বলতেন, কিয়ামতের বিষয়টি একটি গায়েবী বিষয়। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবগত নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে যে, কিয়ামত কখন প্রতিষ্ঠিত হবে? আপনি বলে দিন যে, এই বিষয়ে আমার প্রতিপালকই জ্ঞানের অধিকারী। শুধু তিনিই কিয়ামতকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করবেন। আকাশ রাজ্যে ও পৃথিবীতে তা হবে একটি ভয়াবহ ঘটনা। তোমাদের ওপর তা হঠাৎ করেই চলে আসবে।’ (সূরা আরাফ : ১৮৭)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − 9 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য