Tuesday, August 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলাম-পূর্ব আরববাসীদের প্রশংসিত গুণাবলি

ইসলাম-পূর্ব আরববাসীদের প্রশংসিত গুণাবলি

আরব ভূখণ্ডের অধিবাসীরা বংশীয় ও ঐতিহ্যগতভাবে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল। যদিও নবীজি (সা.)-এর আগমনের আগে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ, সামাজিক কলহ ও যুদ্ধ-বিগ্রহে সর্বদা লিপ্ত এ মানুষগুলো ধর্মীয় জ্ঞান ও  মূল্যবোধের অভাবে কুফরি ও কপটতায় ছিল কঠোরতর; কিন্তু তাদের চারিত্রিক এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল, যা অর্জনে ইসলাম মানুষকে উৎসাহী করেছে। নিম্নে তাদের কয়েকটি গুণ তুলে ধরা হলো—

সত্যবাদিতা : ইসলাম-পূর্ব আরববাসীদের অনুসরণীয় একটি বৈশিষ্ট্য ছিল সত্যবাদিতা। এটি প্রায় সব মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা সত্য বলতে পছন্দ করত, মিথ্যা কথায় লজ্জা বোধ করত। আবু সুফিয়ান ইবনে হরব ছিলেন আরবের সম্ভ্রান্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব, নবীজির নিকটাত্মীয়। একবার রাজা হিরাক্লিয়াস তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। তিনি তখনো অমুসলিম ছিলেন। ব্যবসার কাজে তিনি তখন কুরাইশদের কাফেলার সঙ্গে সিরিয়ায় ছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) সে সময় আবু সুফিয়ান ও কুরাইশদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধিতে আবদ্ধ ছিলেন। আবু সুফিয়ান তার সঙ্গীসহ হিরাক্লিয়াসের কাছে এলেন এবং দোভাষীকে ডাকেন। ওই দরবারে তিনি রাসুল (সা.) সম্পর্কে সত্য কথা বলেন। এ বিষয়ে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমার যদি এ লজ্জা না থাকত যে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে, তাহলে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম।’ তারপর তিনি অকপটে তার জবাবে সব সত্য বলেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৭)

এই ঘটনা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে আরবদের মধ্যে সত্য বলার যে বৈশিষ্ট্য ছিল তা সমকালীন সময়ে অন্য কোনো অধিবাসীদের মধ্যে ছিল না।

ইসলাম এসে এ বৈশিষ্ট্য অব্যাহত রাখার বিশেষ গুরুত্ব ও উৎসাহ প্রদান করেছে।

দানশীলতা : আরবদের আরেকটি বিশেষগুণ ছিল দানশীলতা। তাদের এই গুণ ছিল সবার কাছে প্রশংসনীয়। ইসলাম আগমনের পর এই দানশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাই ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.) মানবকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে ইসলাম গ্রহণের পর দানের হাত আরো ব্যাপক প্রসারিত করেছিলেন।

তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজ ও দ্বিনি পথে অর্থ ব্যয়ের প্রশংসা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছেন। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) উসমান (রা.) থেকে দুইবার জান্নাত ক্রয়ের সুসংবাদ পেয়েছেন—রুমা কূপ ক্রয়ের দিন এবং সেনাদল প্রস্তুতিকালের দিন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৫৫৫)

আরেক বর্ণনায় দানের ফজিলতের কথা এভাবে এসেছে—জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বলেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেবে। (বুখারি, হাদিস : ১২)

সাহসিকতা : সাহসিকতাও আরবদের একটি বিশেষ গুণ ছিল। কখনো তারা অন্যের সামনে মাথা নত করত না। নিজেদের সাহস এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করত। ইসলাম গ্রহণের আগে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ওহুদের যুদ্ধে কুরাইশ বাহিনীর ডান বাহুর নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর বিচক্ষণ রণকৌশলে মুসলিম বাহিনীকে কিছুটা ধরাশায়ী হতে হয়। আর ইসলাম গ্রহণের পর তিনি হয়ে গেলেন মুসলিম ইতিহাসে এক মহান সেনাপতি। বহু রণক্ষেত্রে নিজের শক্তি ও মেধা দিয়ে ইসলামের ঝাণ্ডা সমুন্নত রেখেছিলেন।

আত্মমর্যাদা : আত্মমর্যাদায় আরবরা ছিল শীর্ষে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে নিজেদের স্বকীয়তা ও আত্মমর্যাদা বজায় রাখত। ফলে তৎকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী অধিবাসীরা তাদের প্রতি নমনীয় ছিল। ইসলামেও আত্মমর্যাদার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আত্মমর্যাদা ঈমানের অংশ আর আচরণে উগ্রতা কপটতার লক্ষণ।’ (সুনানে বায়হাকি : ১০/২২)

মহান আল্লাহ আমাদের এসব গুণ অর্জনের তাওফিক দান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য