Wednesday, August 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরউদ্বেগে ভুগছে করোনা আক্রান্তদের ৩৪ শতাংশ

উদ্বেগে ভুগছে করোনা আক্রান্তদের ৩৪ শতাংশ

করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের ১৮.৫ শতাংশ বিষণ্ণতায় ভুগছেন। অপর দিকে সাধারণ করোনা রোগীদের ৩৩.৭ শতাংশ নানা ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিডিসির পরিচালক অধ্যাপক ডা: রোবেদ আমিন। তিনি বলেন, শুধু বিষণ্ণতায় নয়, করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকদের ৩১ শতাংশ নানা ধরনের দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। অপর দিকে করোনা আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের ৩৩.৩ শতাংশ ভুগছেন দুশ্চিন্তায় এবং ওই শিক্ষার্থীদের ৪৬ শতাংশ ভুগছেন বিষণ্ণতায়।

গতকাল রোববার তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। কারণ এ পর্যন্ত জনসংখ্যার ১৫ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। মৃত্যুর দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখে ৯০০ জনের কিছু বেশি মৃত্যুবরণ করেছে করোনায়। কিন্তু আমাদের পাশের দেশে প্রতি ১০ লাখে দুই হাজার জনের বেশি মারা গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ।

অপর দিকে এসিটিএ সায়েন্টিফিক নিউরোলজি নামক রিসার্চ আর্টিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাউফুন নাহার, বিএসএমএমইউর অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব, শেখ মুহাম্মদ ফজলে আকবর এবং ডা: নুরুল ইসলাম হাসিবের করা গবেষণায় বিভিন্ন বয়সের ৩৫৮ জন চিকিৎসকের ইন্টারভিউ নেয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের ৭৮.৫ শতাংশ মানসিক রোগের ঝুঁকির মধ্যে আছেন। দেখা গেছে পুরুষ চিকিৎসকের চেয়ে নারী চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য কম ভালো ছিল।

অপর দিকে বিএমজের একটি গবেষণায় ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সের ৬৭২ জনের ওপর একটি গবেষণা করা হয়। এতে গবেষকরা ৭১ শতাংশ করোনা আক্রান্ত বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন বলে পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৩২ শতাংশ মৃদু, ২৯ শতাংশ মাঝারি এবং ১০ শতাংশ তীব্র সমস্যায় ভুগছেন। এই সব গবেষণা ২০২০ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৃথকভাবে করা হয়েছে।

করোনা আক্রান্তরা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ছয় মাস পরই মানসিক সমস্যা ছাড়াও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়েন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। কারো উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেছে। কারো নতুন করে নিউরোলজিক্যাল সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মাথা ঘোরানোর সমস্যা অনেকেরই হচ্ছে, যা আগে কখনো ছিল না, কেউ কেউ স্ফিত হয়ে গেছেন, বেড়ে গেছে ওজন। খাবার পরিমাণ আগের চেয়ে কমিয়েও শারীরিক স্ফীতি থেকে রক্ষা হচ্ছে না।

করোনায় মৃত্যু ১৪ নতুন শনাক্ত ৪৮১ : গতকাল রোববারের সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৪৮১ জন। একই সময়ে দেশে করোনা শনাক্তের হার ২.৩৬ শতাংশ।

অক্টোবর আসার পরপরই করোনা সংক্রমণ অনেক কমেছে। সেপ্টেম্বরের ১০ দিনের তুলনায় অক্টোবরের ১০ দিনে দেশে করোনা সংক্রমণ কমেছে চারগুণের বেশি। সেপ্টেম্বরের ১০ দিনে মোট ২৬ হাজার ৫৯৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। সেই তুলনায় অক্টোবরের ১০ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ৪৩৮জন। অপর দিকে সেপ্টেম্বরের একই সময়ের তুলনায় অক্টোবরে মৃত্যু কমেছে সাড়ে তিনগুণের বেশি। চিকিৎসকেরা বলছেন, ২০২০ সালের অক্টোবরে এসে করোনা সংক্রমণ কমে গিয়েছিল সেপ্টেম্বরের তুলনায়।

সাধারণত করোনা আক্রান্তদের মধ্যে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই ষাটোর্ধ, তারা নানা ধরনের ক্রনিক রোগে ভুগছেন এবং বেশির ভাগই টিকা গ্রহণের সুযোগ হয়নি। ষাটোর্ধ্বরা সাধারণত ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত থাকেন। তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এমনকি কিডনি ও স্ট্রোকের মতো সমস্যা থাকে। এ ধরনের রোগাক্রান্তরাই বেশি করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যেই মৃত্যু বেশি হয়ে থাকে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর পর থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত মারা গেছে ২৭ হাজার ৬৮৮ জন। দেশে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৯ জন। গত বছর থেকে গতকাল পর্যন্ত করোনা শনাক্তের মোট হার ১৫.৭০ শতাংশ।
গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬৯৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায় তাদের মধ্যে পুরুষ তিনজন এবং নারী ১১ জন। মৃতদের ৭১-৮০ বছরের একজন, ৬১-৭০ বছরের সাতজন, ৫১-৬০ বছরের তিনজন, ৪১-৫০ বছরের একজন, ৩১-৪০ বছরের একজন এবং ১১-২০ বছরের একজন রয়েছেন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সাতজন, চট্টগ্রামের একজন, রাজশাহীর দুইজন, খুলনার একজন, বরিশালের একজন, সিলেটের একজন ও ময়মনসিংহের একজন। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১০ জন, বেসরকারি হাসপাতালে তিনজন এবং বাসায় মারা গেছেন একজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৯৫২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ২০ হাজার ৩৫৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনা শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৯৯ লাখ ৫২ হাজার ১৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ১০০ জনে সুস্থ হয়েছে ৯৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং মারা গেছেন ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + fifteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য