Thursday, June 11, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরএবার হারালেন আরেক ছেলে : তবুও গাজায় সাংবাদিকতা ছাড়বেন না ওয়ায়েল আল-দাদুহ

এবার হারালেন আরেক ছেলে : তবুও গাজায় সাংবাদিকতা ছাড়বেন না ওয়ায়েল আল-দাদুহ

ইসরাইলি হামলায় গাজা উপত্যকায় আল জাজিরার সাংবাদিক ওয়ায়েল আল-দাদুহর আরেক ছেলে নিহত হয়েছে। তবে তিনি গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংসতা নিয়ে রিপোর্টিং না ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে এবং নাতিকে হারিয়েছেন। তিনি নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু গাজায় ইসরাইলি অত্যাচারের কথা বিশ্ববাসীকে জানানোর দায়িত্ব থেকে তবুও সরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।


আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী রোববার পরিকল্পিতভাবে আরো দুই সাংবাদিককে হত্যা করেছে। এ দুজনের একজন হলেন আল-দাদুহর ছেলে হামজা ওয়ায়েল দাদুহ। অপরজনের নাম মোস্তফা থুরিয়া। রোববার রাফার কাছে তারা নিহত হন। তারা ফ্রিল্যান্সার হলেও আল জাজিরার হয়েও কাজ করতেন। গাড়িতে থাকা আরেক সাংবাদিক হাজেম রজব হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

রোববার ছেলের দাফনের সময় আল জাজিরার গাজা ব্যুরো প্রধান ওয়ায়েল আল-দাদুহর পাশে মেয়ে এবং আরেক ছেলেকে দেখা যায়।

ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, হামাসের এক যোদ্ধাকে নিয়ে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় তাদের বাহিনী তাদের ওপর ড্রোন থেকে গুলি করে হত্যা করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িটিকে লক্ষ্য করে দুটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। একটি গাড়ির সামনের দিকে আঘাত করে, অপরটি চালকের পাশে বসা হামজার দেহে আঘাত করে।

ফটোসাংবাদিক আমের আবু আমর ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, তিনি এবং অপর সাংবাদিক আহমেদ আল-বুশর হামলাটি থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

এএফপির সাংবাদিক জানিয়েছেন, থুরিয়া এবং হামজা রাফায় ইসরাইলি একটি হামলার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তারা ফেরার পথে ইসরাইলি হামলার শিকার হন।

ওয়ায়েল দাদুহ (৫৩) গাজার অবয়ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ইসরাইলি অব্যাহত হামলার মুখে তাকে আল জাজিরার ২৪-ঘণ্টার কভারেজে তাকে দেখা যায়। কেবল এবারই নয়, গাজায় ইসরাইলের আগের হামলাগুলোতেও তাকে সাহসী অবস্থানে দেখা গেছে। ফলে আরবি ভাষাভাষী কোটি কোটি লোকের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। প্রায়ই তাকে নীল হেলমেট আর বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা যায়।

দাদুহ ইসরাইলি হামলায় ইতোমধ্যেই তার স্ত্রী, অন্য দুই সন্তান এবং এক নাতি হারিয়েছেন।
রোববার আরেক ছেলের দাফন অনুষ্ঠানে তিনি হার মানতে অস্বীকার করেন। তিনি যুদ্ধ নিয়ে রিপোর্টিং অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় কী ঘটতে, তার দিকে পুরো বিশ্বের অবশ্যই তাকাতে হবে। এখানে যা হচ্ছে তা হলো অসহায়, বেসামরিক লোকজনের প্রতি ভয়াবহ অন্যায়। সাংবাদিক হিসেবেও এটি আমাদের কাছে অন্যায়।’

গত অক্টোবরে ইসরাইলের এক হামলায় দাদুহর স্ত্রী, মেয়ে এবং এক ছেলে নিহত হয়। ওই হামলায় তার এক নাতি গুরুতর আহত হয়। পরে সে মারা যায়। ওই সময় আল জাজিরায় যে ফুটেজ প্রকাশ করা হয়, তাতে দেখা যায়, তিনি তার সাংবাদিকতার নীল পোশাক পরে কাঁদছেন।

গত ডিসেম্বরে খান ইউনিসের একটি স্কুলে ইসরাইলি হামলায় দাদুহ আহত হন। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। ওই হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান সামের আবু দক্কা নিহত হয়েছিলেন।

আল জাজিরা অভিযোগ করেছে, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে রিপোর্টারদের টার্গেট করছে। তিনি বলেন, এসব অপরাধকারীদের বিচার করার জন্য তারা সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আল জাজিরা এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা এসব জঘন্য অপরাধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, সরকার, মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

গত ৭ অক্টোবর থেকে পরিচালিত ইসরাইল হামলায় গাজায় অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি রিপোর্টার নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো অনেক দেশের সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল এবং অন্যান্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight + one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য