Thursday, August 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিককাশ্মীরে দমনপীড়ন নিয়ে রিপোর্ট করায় ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে আল জাজিরার...

কাশ্মীরে দমনপীড়ন নিয়ে রিপোর্ট করায় ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে আল জাজিরার ওপর নিষেধাজ্ঞা

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন-পরবর্তী দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে দেশটিতে আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি।

পাকিস্তানের বিভিন্ন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তারা আল জাজিরার ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার বিষয়ে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমটি বাছাই করা তথ্য ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ব্যবহার করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) অঞ্চলের নির্বাচন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আজ মুজাফফরাবাদের কয়েকটি বাছাই করা ভোটকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার নির্বাচিত প্রতিবেদন আমরা লক্ষ্য করেছি। নির্দিষ্ট সময় বেছে নিয়ে এবং নির্বাচিত কিছু ব্যক্তির পূর্বপরিকল্পিত বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে তারা এজেকে নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।’ উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলকে ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে)’ নামে অভিহিত করে।

একই বিবৃতিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগও তোলে ইসলামাবাদ। তাদের দাবি, পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে তথ্য অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপনের মাধ্যমে আল জাজিরা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, ‘এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা শুধু এটিই প্রমাণ করে যে, কিছু বহিরাগত পক্ষ নিজেদের স্বার্থে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং মুজাফফরাবাদ ও এজেকের জনগণের গণরায়কে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অথচ আজকের ভোটের মাধ্যমে জনগণ স্পষ্টভাবে নৈরাজ্য ও জবরদস্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’ আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই পাকিস্তানের এই কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।

অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি বরাবরের মতোই দাবি করছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—উভয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের অভিযোগ, এসব অঞ্চলের একটি অংশ পাকিস্তান অবৈধভাবে ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

এদিকে পুরো ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি, ইন্টারনেট বন্ধ, টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক দমন-পীড়নের ঘটনা আশঙ্কাজনক মাত্রা পেয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিপিজে জানায়, ‘পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিস্থিতির অবনতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ইন্টারনেট বন্ধ, টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে, তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

সংগঠনটি স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির ও তাঁর সহকর্মী মুহাম্মদ সাইফের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সিপিজের দাবি, গত ১ আগস্ট ইসলামাবাদে তাঁদের কার্যালয় থেকে পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি এই দুই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিপিজে বলেছে, ‘স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির ও তাঁর সহকর্মী মুহাম্মদ সাইফ ১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা তাঁদের কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তাঁরা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকলে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে তা স্বীকার করতে হবে, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং যদি তাঁদের ইচ্ছাকৃতভাবে আটক রাখা হয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’

আরেকটি বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, রাজি তাহির ও মুহাম্মদ সাইফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়ে থাকলে সেটি প্রকাশ করার পাশাপাশি দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, একই দিনে ইসলামাবাদে আটক হওয়া কাশ্মীরি সাংবাদিক রাজা ইকরামকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সিপিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন আর শুধু পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ নেই; তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। সংগঠনটির ভাষ্য, “যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ১ আগস্ট কাশ্মীর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রচারের পর পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আল জাজিরার বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগ তুলেছে।”

এ ছাড়া সিপিজে জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ এবং কঠোর টেলিযোগাযোগ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রবাহ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 + seventeen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য