আজকে অনেকেই পোস্ট করছে নিম্নের ক্যাপশন দিয়ে;
কুরবানির পশুর গলায় মালা পরানো ও মালাটি নিজ হাতে বানানো একটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সুন্নতঃ
উনারা নিম্নের হাদিস দলিল হিসেবে পেশ করছে,
আয়েশা (রাঃ) বললেন,
আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর কুরবানীর পশুর জন্য কিলাদা (মালা) পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে পশুকে কিলাদা (মালা) পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৭০০)
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ) এর কুরবানীর পশুর জন্য মালা পাকিয়ে দিতাম আর তিনি তা বকরীর (ছাগলের) গলায় পরিয়ে দিতেন।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৭০২)
আবার কেউ কেউ সুরা আল মায়িদাহ’র ২ নং আয়াতের নিচের অংশ বিশেষ দ্বারা দলিল দিচ্ছেন,
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ, পবিত্র মাস, কুরবানীর জন্য কা’বায় পাঠানো পশু, গলায় পরান চিহ্নবিশিষ্ট পশু এবং নিজ রব-এর অনুগ্রহ ও সন্তোষলাভের আশায় পবিত্র ঘর অভিমুখে যাত্রীদেরকে বৈধ মনে করবে না।
উক্ত বিষয়ে শ্রদ্ধেয় শাইখ ড. আবু বকর মোহাম্মাদ যাকারিয়া হাফিযাহুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছন,
এটি সুন্নাত নয়, কেউ সাওয়াব মনে করে থাকলে বিদাত হবে। কারন এটি হাদি রিলেটেড, যারা মক্কায় লোক মারফত হাদি পাঠাত তারা এটা করতেন যাতে সেটা কোনো কাফির তা হাত না লাগায়।তারা মক্কার হারাম এলাকায় পাঠানো পশুর গলার মালা দেখলে সেটার সম্মান করত।
আবার জিজ্ঞাসা করা হলো যে, কেউ যদি মনে করে রাসুল সাঃ মালা পড়িয়ে দিয়েছে তাই আমিও পড়িয়ে হাটে নিয়ে যাচ্ছি।
তাহলে রাসুল সাঃ কে অনুসরণ এর জন্য সাওয়াবের আশা রাখতে পারবে?
উত্তরে শ্রদ্ধেয় শাইখ বলেন,
না। এখানে “ছাবাব” ও “জিনস” দুটোই ভিন্ন। তাই দুই দিক থেকে বিদআত হবে।
এ রকম করলে কোনো বিদআতই আর বিদআত থাকবে না।
আমরা একটি হাদিস পেলেই হাদিসের ব্যাখ্যা না বুঝেই বা না জানার চেষ্টা করেই শেয়ার বা প্রচার করতে থাকি। যা আমাদের অজান্তেই বিদআতে পরিণত হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের এ থেকে হেফাজত করুক।
আবার তারা হারিয়ে যাওয়া সুন্নাতকে জীবিত করার জন্য নিচের হাদিস পেশ করছে;
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন, মানুষের মাঝ থেকে যখন সুন্নাত উঠে যাবে এবং সুন্নাতের উপর টিকতে পারবে না। তখন যে ব্যক্তি সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকবে সে ৫০ জন শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। এ সময় সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, এরা কি তাদের মধ্যেকার শহীদ? তিনি বললেন, না বরং তোমাদের মধ্যেকার শহীদ।
(তাবারানী কাবীর হা/১০৩৯৪; সনদ সহীহ, সিলসিলা সহীহাহ হা/৪৯৪; সহীহুল জামে; হা/২২৩৪।)
এখন অনেকেই হয়ত সুন্নাত জীবিত করতে এবং ৫০ জন শহীদ মর্যাদা লাভ করতে এটি আমল করতে লেগে যাবে।
ফলস্বরুপ কি হবে?
আমরা সুন্নাত জীবিত করতে যেয়ে,বিদআতের ছড়িয়ে দিচ্ছি!!!
আমাদের বুঝে শুনে সব কিছু শেয়ার করা উচিত।
