দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড হয়েছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী , চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা , যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ । গতকাল রোববার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক । এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যে তথ্য প্রকাশ করা হয় , তাতে গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা । সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি বেড়েছে ৭৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা । ব্যাংকাররা বলছেন , ব্যাংকিং খাতে প্রায় দেড় যুগ ধরে নামে – বেনামে ঋণ ছাড়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল । বিগত সরকারের বিশেষ মদদে এস আলম ও সালমান এফ রহমানের মতো কিছু প্রভাবশালী ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছেন । তাঁদের ঋণ পরিশোধ না করাটা ছিল অনেকটা ‘ ওপেন সিক্রেট ‘ কিন্তু এসব ঋণ খেলাপি দেখানোর মতো দুঃসাহস ছিল না ব্যাংকগুলোর । খেলাপি হয়ে পড়লেও নিয়মিত হিসাবে দেখানো হতো তাদের ঋণ । গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ব্যাংক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে । কার্পেটের নিচে ময়লা ঢেকে রাখার মতো খেলাপি ঋণ ধামাচাপা দেওয়া বন্ধ হয়েছে । এতে খেলাপি ঋণের একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে ।
খেলাপি ঋণে একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন , আগে রাঘববোয়াল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের নেওয়া ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লেও তা আড়াল করা হতো । কিন্তু সরকার বদলের পর প্রভাবশালীদের গোপন খেলাপি ঋণ আড়াল না করে প্রকাশ করা হচ্ছে । মূলত সরকারি ও শরিয়াহভিত্তিক কিছু ব্যাংকের গোপন করা খেলাপি প্রকাশ করায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে । কোনো ভালো ব্যাংকের খেলাপি কিন্তু হঠাৎ করে বাড়ছে না । কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে , চলতি ২০২৫ সালের মার্চ শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা । এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা । অর্থাৎ মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪ ভাগের ১ ভাগই খেলাপি । বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড . আহসান এইচ মনসুর বলেন , খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে । আগে ঋণ কমিয়ে দেখানো হলেও এখন তা হচ্ছে না । এ ছাড়া আইনগত পরিবর্তনের কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে । এ সময় দুর্বল ব্যাংক শক্তিশালীকরণ এবং একীভূতকরণে আইন- করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি । প্রসঙ্গত , আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের । ( আইএমএফের ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে ঋণের মেয়াদ ৯০ দিন পার হলে তা খেলাপি করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক । গত এপ্রিল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে । ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে । আইএমএফ ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামাতে পরামর্শ দিয়েছে । শুধু তাই নয় , সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি যেন না হয় , সে বিষয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি ।
