তাবরেজ আনসারি হত্যা (২০১৯, ঝাড়খণ্ড):
২২ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবককে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্মমভাবে পেটানো হয় এবং তাকে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে তিনি মারা যান।
ফয়সাল উসমান খান লাঞ্ছনা (২০১৯, মহারাষ্ট্র):
২৫ বছর বয়সী এক মুসলিম ট্যাক্সি চালককে তার ধর্মের কারণে তারের সাহায্যে বেধড়ক পেটানো হয়। তিনি বাঁচার জন্য ‘ইয়া আল্লাহ’ বললে, আক্রমণকারীরা তাকে ক্ষমা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করে।
দিল্লি দাঙ্গা (২০২০, দিল্লি):
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (CAA) কেন্দ্র করে দিল্লিতে হওয়া ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় বেশ কিছু উন্মত্ত জনতাকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন এলাকা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।
সোহেল ও সাবির মারধর (২০২৩, হরিয়ানা): গোরক্ষার নামে মুসলিম যুবকদের ওপর হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রোহতক ও অন্যান্য এলাকায় একাধিক মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর জন্য হেনস্থা করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে সহিংসতার অভিযোগ: গোরু পাচারের সন্দেহে বা অন্য কোনো অজুহাতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
……..
গুগলকে বলেছিলাম, জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে ঘটানো কিছু ঘটনার তালিকা দাও। সে উপরোক্ত ঘটনাগুলো জানালো।
এমন আরও হাজার হাজার নৃশংস ঘটনা প্রতিনিয়ত ভারতে ঘটে চলেছে জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে।
অতএব বাংলাদেশে সেই একই শ্লোগানকে কেবল কোনো ধর্মীয় শ্লোগান হিসেবে দেখতে আমরা প্রস্তুত নই। জয় শ্রীরাম হলো হ/ত্যা/যজ্ঞ ও নৃশংসতা শুরুর শ্লোগান।
প্রশাসন যদি বুঝতে ভুল করে তাকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
