নির্বাচনের আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে আমার একটা মূল্যায়ন হলো, জামায়েত শিবিরের অতি আক্রমণাত্মক, গালিমুলক, চরিত্র হননমূলক ফেসবুকিং ভবিষ্যতে তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কোনো পরিস্থিতি নিয়ে আসবে। এতে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, গ্রুপগত দূরত্ব এবং অসহযোগিতার শিকার হতে হবে।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এখন তাদের অনেক আসন, সঙ্গে আরো দল আছে, কিন্তু হঠাৎ কোনো প্রতিকূলতার সময় শুধু এই বাজে ও চরিত্র হননমূলক ফেসবুকিংয়ের কারণে তারা নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে পারে। একা একা তাদের বিপদ সামাল দিতে হতে পারে। তাদের মজলুম হওয়ার ইস্যুগুলোকে মানুষ অবিশ্বাস করতে শুরু করতে পারে।
রাজনীতিতে তারা ইনসাফের কথা বলে। ফেসবুকে এই জিনিসটা খুব কম রক্ষা করে। জামায়েত শিবিরের অত্যন্ত মেধাবী যোগ্য এক শ্রেণীর লোকও আছেন যারা বেশিরভাগ সময় গোছালো আক্রমণ এবং পজিটিভ ফেসবুকিং করেন। তাদের দ্বারা তাদের দল কিছু উপকার তো অবশ্যই পাবে, কিন্তু নেগেটিভ প্রোপাগান্ডিস্ট যারা, এরা এ পরিমাণ ক্ষতি করবে সেটা ভালোরা চেক দিতে পারবে না। এটা আমার ধারণা, পুরোপুরিও মিলতে পারে আংশিকও মিলে যেতে পারে। একদম মিলবে না, এমন ইনশাআল্লাহ হবে না।
নেগেটিভ পথে দলের হয়ে কাজ করার ইনফ্লুয়েন্স যদি কারো মগজে ঢুকে গিয়ে থাকে সে ভালো পথে কাজ করতে চাইবে না। অন্যকে গালি দিয়ে দলকে এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। সুবিধার সময়ে দলের উপরতলা এটাকে উপভোগ করলেও বিপদে তারা এটার কোনো খেসারত তৈরি রাখতে পারবে না। এজন্য আমার একটা বিনীত প্রস্তাব, জামায়াত শিবিরের ভাইয়েরা পজিটিভ ভারসাম্যমূলক সততা পন্থী ফেসবুকিং কে উৎসাহিত করুন। প্রয়োজনে বিপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক শালীন গোছানো আক্রমণও করুন। কিন্তু চরিত্রহনন, মিথ্যাচার, গালাগালি ব্যাপকভাবে পরিহার করুন। এতে আপনাদেরই ফায়দা হবে। ফায়দার প্রতিক্রিয়াটা নগদে কম বোঝা যাবে, কিন্তু পরিমাণ অনেক বেশি হবে।
আল্লাহ তা’আলা বুঝ দান করুন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী জুলাইপন্থী সকল দলের লোকজনকে দেশের সেবায় সুন্দর রাজনীতি করার তাওফিক দিন।

— মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ
সাংবাদিক , লেখক , গবেষক
