তুরস্ক, সউদী আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ ও মুসলিম সংগঠন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে নতুন একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হলো।
গত বছর থেকেই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো। এর ফলে তিন দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে সউদী আরবের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তারা বলেছে, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সউদী আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তিটিকে সমমর্যাদার দেশগুলোর মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, তিন দেশ নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই অংশীদারত্বে অবদান রাখবে।
বাহরাইন আরও জানিয়েছে, ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে কাজ করবে।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুলকরিম আল-ইসা চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এর ভিত্তি হলো ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামী সংহতি।
সউদী প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটির লক্ষ্য পারস্পরিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এসপিএ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি আশা করছে, এই চুক্তি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের দাবিতে তাদের সংগ্রামকে সমর্থন করবে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব হিসেইন ব্রাহিম তাহা বলেছেন, তুরস্ক, সউদী আরব ও পাকিস্তানের এই চুক্তি অঞ্চল এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
