Saturday, August 8, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরনাশকতার পরিকল্পনা করছেন হাসিনা

নাশকতার পরিকল্পনা করছেন হাসিনা

ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতার ছক কষছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা। দিল্লির লুটিয়েন্স জোনের সুরক্ষিত এলাকায় ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনার নির্দেশে এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বহুমুখী নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা।

গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দিল্লিতে তার বাসায় দুই দফা বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এই চক্রান্তে যুক্ত করা হয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পেশাদার অপরাধী ও ভাড়াটে কিলারদের। মাঠে নামানো হচ্ছে ভারতনিয়ন্ত্রিত ছদ্মবেশী জঙ্গি নেটওয়ার্ক; বিশেষ করে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি)। ভারতে থেকে এই জেএমবির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আযমের ভাগ্নে।

এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলমান ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের বিরোধকে উসকে দিয়ে সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা। এতে ছাত্রলীগের কিছু সদস্য পরিচয় গোপন করে সংঘর্ষে ঢুকে প্রাণহানি ঘটিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর ছক রয়েছে। তবে স্বধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি আমার দেশ।

কোনো ক্যাম্পাস বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটলে তার অভিঘাত শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় জমায়েত ঘটিয়ে তাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। গোয়েন্দা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাকে চারটি স্তরে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ছোট ছোট দলের চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলারদের ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং। তৃতীয় স্তরে উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটানো। আর চতুর্থ স্তরে রয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টা।

দিল্লির বাসভবনে গোপন বৈঠক

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দুই দফায় দিল্লির বাসভবনে হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে পলাতক আওয়ামী নেতা ও ঢাকার কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন এবং ঢাকা মহানগরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলর।

প্রথম দফায় ১২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ জন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম বৈঠকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নং ওয়ার্ডের মোস্তফা জামান (পপি), ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন, মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ (২৪ নং ওয়ার্ড), মো. মারুফ আহমেদ মনসুর (১০ নং ওয়ার্ড), মো. আনিসুর রহমান (২ নং ওয়ার্ড), সালাউদ্দিন আহমেদ (৭০ নং ওয়ার্ড), আহমেদ ইমতিয়াজ মান্নাফি (৩৮ নং ওয়ার্ড), বিপ্লব বড়ুয়া (আ. লীগের দপ্তর সম্পাদক), রঞ্জন সেন (কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি)।

দ্বিতীয় বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটির অন্যতম কিলার হিসেবে পরিচিত এবং জুলাইবিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর আলোচিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি (৬ নং ওয়ার্ড), মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নাঈম (৪৯ নং ওয়ার্ড), মো. শরিফুর রহমান (৫১ নং ওয়ার্ড), মো. জাহিদুল ইসলাম মোল্লা (৪৬ নং ওয়ার্ড), সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম (৩২ নং ওয়ার্ড), শেখ সেলিম (৩৮ নং ওয়ার্ড), মো. ইসহাক মিয়া (১৭ নং ওয়ার্ড), ডিএম শামীম (৫০ নং ওয়ার্ড), জাকির হোসেন বাবুল (১৮ নং ওয়ার্ড) ও মো. জনির অংশ নেওয়ার কথা জানা গেছে।

জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দিয়েছে। জানা গেছে, হাসিনার সঙ্গে দুটি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজির বিরোধের আবহে বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আতঙ্ক বাড়ানো এবং পরে এর দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো। পাশাপাশি জুলাইবিপ্লবের নেতাদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা। সার্বিকভাবে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আতঙ্কিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই— পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে বয়ান তৈরি করা হবে কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে।

জেএমবিকে ঘিরে উগ্রবাদের নতুন ছক

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবিকে নতুন করে সক্রিয় করার চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক জেএমবিকে কাজে লাগানোর ছক রয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল দায়িত্বে বসানো হয়েছে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে এবং সাবেক এমপি মির্জা আজমের ভাগ্নে নাবিল আহমেদকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে নকল চাবি বানিয়ে কুমিল্লা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এই তরুণ জঙ্গি নেতা পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হলেও মামা মির্জা আজমের প্রভাবে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জামিনে বের হয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। গত তিন মাস ধরে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান করে সে অনলাইনে তরুণদের মোটিভেশনের মাধ্যমে সংগঠিত করছে।

এই ‘জেএমবি কার্ড’ খেলার প্রধান রূপকার হিসেবে কাজ করছেন ভারতে থাকা সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম। উগ্রবাদের জাঁকজমকপূর্ণ বয়ান তৈরি, ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে তার সখ্য ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তাকেই মূল সমন্বয়কের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে ছাতা বোমা এবং আশুলিয়ায় প্রেসার কুকার বোমায় উগ্রবাদীদের ব্যবহারের নেপথ্যে চক্রের যোগসূত্র দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এছাড়া শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে হঠাৎ র‌্যালি বা ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত বক্তব্যের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে এই মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে ‘লাশ’ ফেলার নীল নকশা

রাজনৈতিক মহলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি বিনষ্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক ছকটি করা হয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের সূত্রপাতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ছাত্রলীগের বাছাই করা একটি ক্যাডার বাহিনীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছদ্মবেশে ইন্ধন জুগিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুযোগ বুঝে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ‘লাশ ফেলা’র মাধ্যমে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির মধ্যে চরম বিভেদ তৈরি করার নির্দেশনা রয়েছে। এই রক্তাক্ত নীলনকশা বাস্তবায়নে অর্থের বিপুল জোগানের প্রধান উৎস হিসেবে নাম এসেছে ভারতে পলাতক গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের রুট হিসেবে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বসবাসরত যুবলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী কোটিপতি নেতাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের সুযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব সংঘর্ষে ঢোকার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাশকতার ছক

মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন সেলগুলো সুনির্দিষ্ট ‘আগস্ট ক্যালেন্ডার’ মেনে মাঠে নেমেছে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল হামলা, যানবাহনে আগুন ও ভাংচুরের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ভুয়া তথ্য প্রচারের নির্দেশনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১১-১৩ আগস্ট জনসমাগমস্থলে কুশলবিনিময়ের অজুহাতে ক্যাডার জড়ো করে ১৫ আগস্টে ধানমন্ডি ৩২ ও টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হতে পারে।

পেশাজীবী আন্দোলন ঘিরে চক্রান্ত

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, কেবল ক্যাডার বা জঙ্গি নেটওয়ার্কই নয়, পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকেও সরকার ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চলছে। গত ছয় মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আওয়ামীপন্থি একটি শিক্ষক চক্র সাধারণ শিক্ষকদের খ্যাপিয়ে তুলে রাজপথে নামানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। দেশব্যাপী আটটি বিভাগে পাঁচজন করে সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়ে পুরো শিক্ষক সমাজকে ঢাকায় এনে রাজপথ অচল করার এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কাজ করছেন শাহানা নামের এক বিতর্কিত শিক্ষক নেত্রী, যার লক্ষ্য শিক্ষক আন্দোলনকে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মতো সরকার পতনের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া।

৪০৪ শিক্ষকের টেলিগ্রাম বিপ্লব

সূত্রে আরো জানা গেছে, শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি গোপন গ্রুপ থেকে। হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ শিক্ষক গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরির দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সাবেক ভিসি ও বিভাগের শীর্ষ পদে থাকা এই শিক্ষকরা ‘সিস্টেম আপডেট’ ও ‘মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটে’র মতো সংকেত ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন সভা করছেন, যার স্ক্রিনশট ও তথ্য ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের হাতে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারি

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলার, পুনর্গঠিত জঙ্গি সংগঠন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং ছদ্মবেশী শিক্ষকদের চতুর্মুখী নাশকতার ছক বানচাল করতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো সারা দেশে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।

এদিকে উগ্রবাদী ও দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে ব্যবহৃত সরকারি যানবাহনের সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ আগস্ট পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়, জিপ, পিকআপ, বাসসহ পুলিশের যে কোনো যানবাহনের নিরাপত্তায় কোনো শিথিলতা বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। ডিউটির সময় বা ডিউটি শেষে গাড়ি কোনোভাবেই অরক্ষিত রাখা যাবে না এবং সাময়িকভাবে থামলেও তা নিরাপদ স্থানে পার্ক করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

এছাড়া থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস কম্পাউন্ডে পার্ক করা যানবাহনের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় সদর দপ্তর।

পুলিশের মুখপাত্র, সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সতর্ক। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে অনেক সময় কিছু ক্ষেত্রে ও কিছু সময়ের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য