Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরদুই বছর অপেক্ষার পর হজের অনুভূতি

দুই বছর অপেক্ষার পর হজের অনুভূতি

ফিলিপাইনের নাগরিক বাজির সুলাইমান হজের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন ২০২০ সালেই। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় হজে যেতে পারেননি। বিশ্বের লাখো হজপ্রত্যাশী মুসলিমের মতো মক্কা পৌঁছতে তাঁকেও অপেক্ষা করতে হয় দুই বছর।

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি হজ।

প্রতিবছর সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ হজ করতে মক্কায় সমবেত হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে সৌদি আরবে অবস্থানরত মাত্র এক হাজার মুসল্লি এবং ২০২১ সালে ৬০ হাজার মুসল্লি হজ করার অনুমতি পায়। করোনা মহামারি আগে ২৫ লাখ মুসল্লি হজে অংশগ্রহণ করত। চলতি বছর মহামারির প্রকোপ কমে যাওয়ায় সৌদি সরকার সারা বিশ্বের ১০ লাখ মুসল্লিকে হজ করার অনুমতি দিয়েছে, যাদের ৮৫ শতাংশই বিদেশি।


ফিলিপাইন থেকে এ বছর তিন হাজার ৫০০ মুসল্লি হজে অংশগ্রহণ করেছে। খ্রিস্টানপ্রধান দেশ ফিলিপাইনের মোট জনসংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এর মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ১০ শতাংশ। ফিলিপাইনের বেশির ভাগ মুসলিম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও, পালাওয়ান, দ্য সুলু আর্চিপেলাগোর।

বাজির সুলাইমান একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। বয়স ৫৯ বছর। আরব নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমি এই সময়টির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ’ সুলাইমান গত বুধবার পবিত্র মক্কা-মদিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তিনি মিন্দানাও প্রদেশের পারাং থেকে এসেছেন। মক্কায় পৌঁছতে তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা মুসলিম ভাইদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই এবং আমি আমার বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে চাই। ’

এ বছর ফিলিপাইনের হজযাত্রীদের নির্ধারিত কোটা ছিল চার হাজার ৭৪ জন। কিন্তু এতসংখ্যক মুসল্লি হজে যোগদান করতে পারেনি। দুই বছরের মহামারির ধকল কাটিয়ে এখনো ফিলিপাইনের যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এ ছাড়া হজের খরচ বেশি হওয়ায় অনেকে অংশগ্রহণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন ‘দ্য ন্যাশনাল কমিশন অন মুসলিম ফিলিপাইনস’-এর হজ ব্যুরোর প্রধান মালো বি. ম্যানংগিরিং। তিনি বলেন, ‘মুসল্লিরা হয়তো প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তাদের আর্থিক সামর্থ্যের অভাব আছে। এ বছর হজের খরচ তিন হাজার ৩৯০ মার্কিন ডলার। আগে তা ছিল তিন হাজার মার্কিন ডলার। ফলে চার হাজার ৭৪ জন অনুমতি পেলেও হজে অংশ নিচ্ছে তিন হাজার ৫০০ জন। ’

৫৮ বছর বয়সী মাইক বান্টালিয়ান ফিলিপাইনের কোটাবাটো শহর থেকে মক্কায় এসেছেন। হজ সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার আবেগ, আগ্রহ ও উৎসাহ দেখে আমার আত্মীয়রা আমাকে হজ করতে সহযোগিতা করেছেন। হজে আসার আগে বহু রাত আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি। এটা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফরজ। আল্লাহ আমাকে তা করার তাওফিক দিয়েছেন। ’

তথ্যসূত্র : আরব নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য