সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের একটি আদালত প্রাঙ্গণে আরব আমিরাত সমর্থিত আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উত্তর কর্দোফানের উম রাওয়াবা শহরে এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় চিকিৎসা ও আইনি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক ও ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, দিনের ব্যস্ত সময়ে শহরের বিচারিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সে সময় আদালত ও আশপাশের এলাকায় আইনি ও প্রশাসনিক কাজের জন্য বহু বেসামরিক মানুষ অবস্থান করছিলেন।
প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১২ বলা হলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়ায়। আহত ২২ জনকে উম রাওয়াবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে একটি ড্রোন থেকে পরপর কয়েকটি হামলা চালানো হয়। তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আদালত প্রাঙ্গণ ও প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে আঘাত হানে। কাছের একটি ছোট বাজার ও আবাসিক এলাকাও হামলার আওতায় পড়ে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এ ঘটনাকে ‘নতুন হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে এর জন্য সরাসরি আরএসএফকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি বলেছে, বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করার মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।
ইমার্জেন্সি লইয়ার্সও আদালত ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, বিচারিক স্থাপনায় হামলা শুধু বেসামরিক মানুষের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলছে না, বরং দেশের বিচারব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উম রাওয়াবা শহর ও উত্তর কর্দোফানের অন্যান্য এলাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের একটি সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত শুধু উত্তর কর্দোফানেই অন্তত ১৪১টি ড্রোন হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই সুদানে ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক এলাকায় ড্রোন হামলাসহ সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামো ও জরুরি সেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
