Tuesday, November 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরনীলচাষের শোষণ থেকে পোশাকশ্রমিকের মজুরি: বদলেছে সময়, বদলায়নি শ্রমের অবমূল্যায়ন

নীলচাষের শোষণ থেকে পোশাকশ্রমিকের মজুরি: বদলেছে সময়, বদলায়নি শ্রমের অবমূল্যায়ন

একসময় ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করে ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করেছিল নীলকর সাহেবরা। কৃষকের ঘাম, শ্রম ও রক্তে উৎপাদিত নীলের বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হয়েছিল জমিদার ও ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী। অন্যদিকে ঋণের জালে বন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হতো কৃষকদের।

ইতিহাসের সেই শোষণের চিত্র আজও যেন ভিন্ন এক রূপে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা আজও ন্যায্য মজুরির দাবিতে সংগ্রাম করছেন। দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের উৎস এই শিল্পের মূল কারিগরদের মাসিক বেতন মাত্র ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা।

সপ্তাহে ছয় দিন, মাসে প্রায় ২৫ দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে একজন শ্রমিক যখন মাত্র ১০ হাজার টাকা উপার্জন করেন, তখন ঢাকা শহরের মতো ব্যয়বহুল নগরে সেই অর্থ দিয়ে ন্যূনতম জীবনধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে শ্রমিকদের জীবন ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে যাচ্ছে।

যে শ্রমিকদের ঘামে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়, অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, সেই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

শোষণের রূপ বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু শ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের প্রশ্নটি আজও রয়ে গেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দাবি কতটা অর্থবহ—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

এ অবস্থায় শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সর্বনিম্ন  মজুরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং চলমান আন্দোলনের অবসান ঘটাতে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তার অধিকার। শ্রমিক বাঁচলে, বাংলাদেশ বাঁচবে।

-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষার্থী কমিউনিটি 

SourceThe Aasr

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য