কর্ণফুলী নদীর এক প্রান্তে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা, দক্ষিণ প্রান্তে আনোয়ারা। দুই প্রান্তকে এক করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। এই টানেলের উদ্বোধন ঘিরে নগর ও আনোয়ারাবাসীর মধ্যে খুশির আমেজ বইছে। টানেল নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকেই নদীর দুই প্রান্তে জায়গাজমির দাম বহু গুণে বেড়ে গেছে।
যোগাযোগব্যবস্থার এই নতুন পালক যোগ হওয়ায় আনোয়ারায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্প-কারখানায় কর্মসংস্থান হবে।
জানতে চাইলে নগরের পতেঙ্গায় সমুদ্রসৈকতের পাশে টানেল দেখতে আসা আবদুল গফুর নামের এক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পতেঙ্গায় এখন কোনো খালি জায়গা নেই। গত কয়েক বছরে জায়গার দাম অনেক বেড়ে গেছে।
নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে আমাদের ছেলেমেয়েরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। টানেল উদ্বোধন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম যেতে কম সময় লাগবে। এতে আমরা খুশি।’
বৃহস্পতিবার টানেল দিয়ে আনোয়ারা প্রান্তে যাওয়ার পর সেখানে ওজনের স্কেলের পাশে দাঁড়ানো জসিম উদ্দিন নামের এক যুবক বলেন, ‘এই টানেল আমাদের জন্য খুব উপকারে আসবে।
আমাদের এখানে এখন কেউ জায়গাজমি বিক্রি করতে চাচ্ছে না। সামনে কলকারখানা হলে দাম বেশি পাবে এই আশায়। আমরা আগে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু দিয়ে যাতায়াত করতাম। এখন টানেল হওয়ায় সহজে কম সময়ে শহরে যেতে পারব।’
নগরের শাহ আমানত বিমানবন্দর সড়কের পাশের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, ‘বিমানবন্দরের আশপাশে আগে অনেক পরিত্যক্ত জায়গা ও ঝোপঝাড় পড়ে ছিল।
নগরের চেয়ে সুযোগ-সুবিধায় অনেক পিছিয়ে পড়া ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড টানেলের কারণে অনেক লাভবান হবে। টানেল উদ্বোধন হবে, এটা ভেবে সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।’
গতকাল শুক্রবার বিমানবন্দর সড়কের সামনে গিয়ে দেখা যায়, উত্সুক জনতার মধ্যে টানেল নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম নয়, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সর্বত্র উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাজ সাজ রব। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক ব্যবহার করবেন সেখানে এরই মধ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। গতকালও বিভিন্ন সড়কে রং করাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়।
