১০ বছর আগে খান শাহনেওয়াজ মালহি পেনসিলের ওপর সুতা ব্যবহার করে কোরআনের আয়াত অঙ্কনের অভিনব কৌশল রপ্ত করেন। তবে তিনি সেখানেই শেষ করতে চাননি; বরং এক দশকের চেষ্টায় অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা কোরআনের ১১৪টি সুরা, ছয় হাজার ২৩৬ আয়াত তথা পুরো কোরআন অঙ্কন করেন। এ জন্য প্রয়োজন হয়েছে আট হাজার পেনসিল। আগামী ১৯ মার্চ করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তান জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শন করা হবে।
মালহি দীর্ঘদিন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সিন্ধু প্রদেশে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে অবসরে যান। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় বন্দিদের কাছ থেকে সুতা ব্যবহার করে কোরআন অঙ্কনের কৌশলটি রপ্ত করেছিলেন। সম্পূর্ণ কোরআনের বুনন শেষ করতে খান শাহনেওয়াজকে প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং খরচ হয়েছে ৩০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। বন্ধু ও পরিবারের লোকেরা তাকে এই অর্থ জোগানে সহযোগিতা করে। এর পরও মালহিকে তাঁর বাড়ি বিক্রি করে আরো ছোট বাড়িতে যেতে হয়। যেন অবশিষ্ট অর্থ কোরআন বুননের কাজে ব্যবহার করতে পারেন। মালহির দাবি, এটি প্রথম কোরআন, যা বাতাসে আন্দোলিত হবে। তার মতে, ক্যালিগ্রাফি শিল্পে এটি একটি নতুন আবিষ্কার। এখানে শুধু সুতা, পেনসিল ও আঙুলের ব্যবহার হয়ে থাকে। এতে প্রয়োজন হয় না কোনো কালি, কলম, কাগজ বা কাপড়ের।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান স্কুলজীবনেই তিনি শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং সারা জীবন তা লালন করেন।
২০০২ সালে আল্লাহ নামের ক্যালিগ্রাফি করেন এবং করাচিতে অবস্থিত আর্ট কাউন্সিল অব পাকিস্তানে প্রদর্শন করেন। এরপর তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ ও কোরআনের প্রথম সুরা ‘ফাতিহা’ বুনন করেন। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পেনসিলের ওপর পুরো কোরআন অঙ্কন করবেন। এখন তাঁর ভালোবাসা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল করাচিতে প্রদর্শিত হবে। মালহি আশা করছেন, তাঁর শিল্পকর্ম পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রদর্শন করতে কেউ তাঁকে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, আমি আশা করি, এটা সৌদি আরব, দুবাই, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে প্রদর্শিত হবে। ’
তথ্যসূত্র : আরব নিউজ
