Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররাশিয়া -ন্যাটো যুদ্ধ ও তেল সংকট

রাশিয়া -ন্যাটো যুদ্ধ ও তেল সংকট

রাশিয়াকে সত্যিকার অর্থে চাপে ফেলতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞার কোনো বিকল্প নাই কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা দিলে রাতারাতি ইউরোপে তেল এর দাম ৩০০ ডলারে গিয়ে পৌছবে, ইউরোপীয়রা তেল গ্যাস এর জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে রাশিয়ার উপর।এবং আমেরিকা শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই রাশিয়ার তেল গ্যাস এর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

>>>> এক দিক থেকে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে পরাস্ত করা অপর দিকে ইউরোপে নিরবিচ্ছিন্ন তেল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, এই উভয় সংকট থেকে উত্তরণের বিকল্প উপায় হলো অন্যান্য প্রধান তেল উত্তলনকারী দেশগুলোকে ততটুকু তেল উত্তলন করতে বলা যতটুকু তেল হ্রাস পাবে রাশিয়ার তেল গ্যাস নিষিদ্ধ করলে। কিন্তু প্রধান তেল উত্তলনকারী দেশ সৌদি আরব ও সৌদি আরব নিয়ন্ত্রিত আরব দেশগুলোর সরাসরি বাড়তি তেল উত্তলনে আপত্তি জানিয়েছে, সুতরাং ওপেক আমেরিকা ও ইউরোপকে এই ক্রাইসিসে সাহায্য করবে না নিশ্চিত।

>>>> সুতরাং আমেরিকা ও ইউরোপকে সৌদি নিয়ন্ত্রিত ওপেক এর বিকল্প খুজতে বের হতে হবে। রাশিয়া এবং ওপেক এর জায়ান্টদের তেল আমেরিকা যদি না পায় তাহলে বিকল্প কি হতে পারে? একটাই বিকল্প; ভেনেজুয়েলা ও ইরান!

>>>> ভেনেজুয়েলার একা ইউরোপের তেল গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অক্ষম, তাই আমেরিকার কাছে একমাত্র অপশন ইরান।

>>>>ইরান খুব সহজেই আমেরিকাকে তেল দিয়ে সংকট থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে যেভাবে ১৯৮০ সালে ইসরায়েল ও আমেরিকা সরাসরি ইরানকে ইরাকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য দিয়ে এগিয়ে এসেছিলো।

>>>> কিন্তু ১৯৮০ এর মিডিয়ার দৌরাত্ম্য আর আজকের মিডিয়ার দৌরাত্ম্য এক নয়, ১৯৮০ এর মতো সরাসরি সাহায্য করলে ইরান ও আমেরিকার পাতানো গেম একেবারে উলঙ্গ হয়ে সবার সামনে চলে আসবে, সুতরাং এখানে উপরি উপরি যে কেচ্ছাকাহীনি চলছে তা বজায় রাখাও জরুরি৷

>>>> ইরান আমেরিকা কনফ্লিক্ট বাস্তব ধরে নিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করি আসেনঃ ইরান তাদের তেল উন্মুক্ত বাজারে বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়,আবার আমেরিকার এখন তীব্র তেল সংকটে। কোন শর্তে আমেরিকা ইরানের তেল উন্মুক্ত বাজারে বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে? ইরান জানে আমেরিকা এখন তেল সংকটে, এবং তাদের মিত্র রাশিয়া ইউরোপীয়দের একমাত্র যে অস্ত্র দিয়ে ঘায়েল করে রেখেছে তা হলো তেল, তাহলে মিত্র রাশিয়াকে পরাজিত বা মনঃক্ষুণ্ন করে শত্রু আমেরিকার ডাকে সারা দিয়ে ইরান কেনো তেল বাজারে উন্মুক্ত করবে? এতে ইরানের অর্থনীতি রাতারাতি ঘুরে দাঁড়াবে কিন্তু ইরান আমেরিকা কনফ্লিক্ট তো আর থাকলো না!

>>>> এই সংকটকে ব্যালেন্স করার জন্য এমন একটা শর্ত সামনে আনতে হবে যা এই উপরি উপরি গেমটাকেও সতেজ রাখে আবার ১৯৮০ সালের মতো একে অপরকে বাচানোও সম্ভব হয়! প্রশ্ন হলো কোন শর্ত এই সংকটের পরিপূর্ণ ব্যালেন্স নিশ্চিত করতে পারে?

>>>> উত্তর সহজ, যেই জল এতোদিন ধরে ঘোলা করা হচ্ছিলো সেই জল, অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম! একমাত্র এই শর্তটা সামনে রেখে ইরান আমেরিকার জন্য বাজারে তেল ছারলে ও আমেরিকা ইরানের তেল এর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে সমান সমান ব্যালেন্স হয়! এই শর্তের জন্য ইরান শত্রু আমেরিকার জন্য একটা ছার দিতেই পারে আবার এই শর্তে আমেরিকা আগেও ইরানের সাথে সমঝোতায় এসেছিলো,যা ডোনাল্ড ট্রাম্প এসে বন্ধ করে দিয়েছিলো।

>>>> ধরে নেন; সংকট সমাধান ও উপরি উপরি ঠাট বজায় রাখার জন্য পারমানবিক কার্যক্রমের বিনিময়ে আমেরিকা ও ইরান তেল বিষয়ে সামঝোতায় আসলো কিন্তু বিষয়টা কি এতোই সোজা?

>>>> মধ্যপ্রাচ্যে দুটা দেশ পারমাণবিক ক্ষমতাধর, ইসরায়েল অফিশিয়ালি আর সৌদি আরব আনঅফিসিয়ালী। (যারা সৌদি আরবের পারমাণবিক বোমার নাম শুনে টাস্কি খেলেন তাদের জেনে রাখা দরকার সৌদি আরবে পাকিস্তানের তৈরি পারমাণবিক বোমা রয়েছে যা পাকিস্তান সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক কার্যক্রমে অর্থায়ন ও কুটনৈতিক সাহায্য করার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দিয়েছে) তথাপি সৌদি আরব নিজেরা পারমাণবিক বোমা তৈরি করে না কিন্তু নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি এর শর্ত অনুযায়ী আঞ্চলিক কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশ পারমাণবিক ক্ষমতাধর হওয়ার পথে থাকলে নিজেকে অনিরাপদ মনে করা দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। কিন্তু এই ট্রিটির উক্ত শর্তের পরও নতুন কোনো দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করলে ইউরোপ তা অবরোধ দিয়ে থামাতে চেষ্টা করে,যেমনটা পাকিস্তানের বেলায় করেছিলো।

>>>> অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে সাথে সৌদি আরব অফিশিয়ালি সরাসরি পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করবে এবং সৌদি আরবকে ফলো করে একিসাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহারাইন ও কুয়েত ইরানকে তাদের আঞ্চলিক থ্রেট অবহিত করে অফিশিয়ালি পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করবে। এবং পৃথিবীর কোনো অবরোধ ও হুমকিধামকি এটা থামাতে পারবে না। আরবরা অবরোধ দেয়,নেয় না!

>>>> মধ্যপ্রাচ্যের এই কয়েকটা দেশ পারমাণবিক ক্ষমতাধর হলে ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরান ঠিক সেরকম ভয়ে থাকবে যেমনটা ন্যাটো সামরিক শক্তিতে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েও শুধুমাত্র পারমাণবিক বোমার ভয়ে রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়াকে ভয় পায়।

>>>> সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার সামনে আপাতত কোনো সুযোগ নেই যে তারা ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ইরানের তেল উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করিয়ে এনার্জি মার্কেটে আরবদের বিকল্প দেশ হিসেবে ইরানকে দাড় করাবে!

>>>> অর্থাৎ আরবদের পা ধরে কান্নাকাটি করা ছারা আবারো আমেরিকার সামনে কোনো উপায় নেই! ইশতিয়াক আহমেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 + 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য