ভাইবোনদের মধ্যে যেকোনো কাজকর্ম নিয়ে একধরণের প্রতিযোগিতা এবং বাবা-মায়ের কাছে একে অন্যের দোষ গোপন কিংবা একে অন্যের নামে নালিশ দেওয়া একটা সুখময় শৈশব স্মৃতির অংশ। আমার দু’টো মেয়ে ইসলামী বিধানমতে প্রাপ্ত বয়ষ্ক এখন। ছেলেগুলো ছোট ছোট। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মেয়েরা যখন নামাজ পড়ে না, তখন ছেলেরা অপেক্ষায় থাকে আমি কখন বাসায় ফিরব। বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই সমস্বরে নালিশ করে, “আব্বু আপুনি/বড়াপি নামাজ পড়ে নাই”।
যেহেতু নামাজের ব্যাপারে একটা কড়াকড়ি আছে বাসায় সেহেতু মেয়েরা মাঝেমাঝে নামাজ না পড়লেও কেন আমরা কিছু বলি না তা নিয়ে তারা একটু দ্বিধাগ্রস্ত। এক পর্যায়ে আমিও ভাবনায় পড়ে গেলাম যে ওদেরকে কিভাবে বুঝানো যায়। কারণ, নাহলে ওদের মধ্যে নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে। চিন্তাভাবনা করে ওদেরকে স্পষ্টভাবে বললাম, শোনো, মেয়েরা যখন একটু বড় হয় তখন প্রতি মাসে প্রায় এক সপ্তাহ তাদের জন্য নামাজ মাফ থাকে। কেন কী কারণে ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। শান্ত করতে হলো এই বলে যে আপাতত এটটুকু জেনে রাখো, তোমরা যখন আরও বড় হবে তখন এর কারণ তোমরাও জানতে পারবে, যেমন আমিও ছোটবেলা এর কারণ জানতাম না, এখন বড় হয়ে জানি।
দেখুন একটা সেক্যুলার কিংবা বিধর্মী পরিবারে—যেখানে নামাজ-কালাম, পবিত্র-অপবিত্রতার বালাই নাই, পিরিয়ডের সাথে যাদের জীবনে শরীরবৃত্তের বাইরের কোনো কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই তাদের পরিবারের একজন সদস্যের জন্য কিন্তু এই ইনফরমেশন জানার কোনো প্রয়োজন বা উপলক্ষ্য তৈরি হয় না।
একজন নারীর জীবনে পিরিয়ড শুরু হওয়া অর্থ হলো তিনি এখন সন্তানধারণ ও জন্মদানের জন্য বায়োলজিক্যালি প্রস্তুত। একজন মুসলিম নারী যখন এই বয়সে উপনীত হন তখন এর সাথে তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় জীবনের একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সময়ে তার জন্য নামাজ নিষিদ্ধ থাকে, তিনি রোজা রাখতে পারেন না, হজ্জের অনেক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন না। তাই এটা তাকে ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হিসেবেই জানতে হয় এবং জানেন। পারিবারিক পরিমণ্ডলেই তারা এগুলো যুগযুগ ধরে জেনে এসেছেন। এটা তাদের সাধারণ জ্ঞানের অংশ।
একটা মুসলিম পরিবারে একজন নারীর পিরিয়ড এমনই একটা ব্যাপার যার একটা প্রত্যক্ষ প্রভাব তার দৈনন্দিন যাপিত জীবনের উপর পড়ে। এবং এমনভাবে পড়ে যে একটা ছেলে শিশুও তা জানতে পারছে। যেমন আমার মেয়েরা কুরআনপাঠ-নামাজ আদায় বা রোজা করতে পারার কারণে আমাকে জেনেই যেতে হয় যে তাদের কার কখন পিরিয়ড চলছে। কিন্তু এটা এমন কোনো বিষয় নয় যা নিয়ে পুরুষদেরকে এসে মিডিয়াতে আলোচনা করতে হবে কিংবা ড্রইং রুমে বসে পরিবারের সবাই মিলে আলোচনা করতে হবে।
তাই এটা আমাদের কাছে কোনো ট্যাবু নয়, নিত্যদিনের জীবনের অংশ।
আমি যখন হিফজ শেষ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হই তখন আমার বয়স বারো বছরে পড়েছে। মাদ্রাসার দ্বিতীয় ক্লাসেই ইসলামী আইনশাস্ত্রের (ফিক্হ) প্রাথমিক পর্যায়ের একটা বই ছিলো। এই বইটা আইনের মতো অতটা দলিল-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পড়ানো হত না; সধারণত সোজাসাপটা করণীয়-বর্জনীয় স্টাইলেই সাজানো। যেহেতু একেবারে অল্পবয়সের ছাত্রদের পাঠ্যপুস্তক সেহেতু এটাই অধিক কার্যকর।
যতদূর মনে পড়ে এই বইয়ে একটা অধ্যায় ছিলো পবিত্রতা অর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের সাথে হায়েজ-নেফাস (মেন্সট্রুয়াল ও পোস্টন্যাটাল ব্লিডিং) সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা ছিলো। এই অধ্যায়টা যেদিন উস্তাদ পড়াবেন সেদিন বললেন, যারা যারা ছোট আছো ক্লাস থেকে বের হয়ে যাও। আমি উঠে যথারীতি হাটা দিলাম। উস্তাদ জিজ্ঞেস করলেন, তুমি যে ছোট এটা তুমি বুঝলে কী করে? বললাম, আমি সবার চেয়ে বয়সে আর সাইজেও ছোট। তিনি বললেন, বসো। যে বোঝে যে সে ছোট, সে আর ছোট নাই। আমি তখন উস্তাদের এই কথার গূড়-রহস্য বুঝেছিলাম না, এখন বুঝি।
যাই হোক এই ক্লাসেই আমাদেরকে—এবং স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের ক্লাসে মেয়েদেরকে—পড়ানো হয় ওযু গোসল, পবিত্রতা, হায়েজ নেফাস সম্পর্কে। আমি সেই ক্লাসের সাধারণ ওযু-গোসল করার সাধারণ নিয়মাবলি ছাড়া কিছু বুঝেছিলাম বলে মনে পড়ে না। কেন গোসল ফরজ হয়, হায়েজ কী নেফাস কী এগুলো কোনো এক অন্ধকারের বিষয় হিসেবেই কেবল শুনে গিয়েছিলাম। ক্লাসে যাদের বয়স দুই তিন বছর বেশি ছিলো তারা সব না হলেও কিছু কিছু নিশ্চয়ই বুঝেছিলো।
আল্ট্রা-আধুনিক পোগতিশীলরা অনেক সময় প্রশ্ন তুলে থাকেন যে এই বয়সের ছোট বাচ্চাদেরকে এসব পড়িয়ে নাকি নষ্ট করে ফেলা হয়; অথচ তারাই কিন্তু আবার স্কুলে যৌনশিক্ষার নামে অবাধ যৌনাচার শিক্ষাকে অতীব প্রয়োজনীয় সাব্যস্ত করেন। দেখুন যে ক্লাসের কথা আমি বলছি সেই ক্লাসে সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের বয়স থাকে ১২ থেকে ১৫। ইসলামী আইন অনুযায়ী ছেলেমেয়ে সকলেই ১৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রাপ্ত বয়ষ্ক হয়ে যায় এবং ক্লাসের আলোচিত এই বিষয়গুলো তাদের একান্ত বাস্তব জীবনে ঘটে। তাই একান্ত নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এসব বিষয়াবলী ডিল করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকার নামই তো অগ্রগামিতা, প্রগতি আধুনিকতা ও অগ্রসরতা।
হ্যাঁ, মনে রাখবেন মাদ্রাসার এই শিক্ষা সিলেবাস সত্যিকার অর্থে ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে বায়োলজিক্যাল পরিবর্তন আসে সেগুলোকে ডিল করার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান শিক্ষার মধ্যেই সীমিত। বর্তমানে সেক্স এডুকেশনের নামে অল্প বয়ষ্ক ছেলে-মেয়েদের মধ্যে অবাধ যৌনাচার প্রসারের যে কুকর্ম চলছে মাদ্রাসার সেই শিক্ষা মোটেও তা নয়।
সুতরাং আমাদের মুসলিমদের জীবনে পিরিয়ড কোনো ট্যাবু নয় যা ভাঙার জন্য আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে। এটা ট্যাবু হতে পারে সেক্যুলার কিংবা অসভ্য জংলীদের জীবনে, জ্ঞানের ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাহিলিয়াতে ফিরে গেছে এবং এরপর আর যাদের কাছে এখনো জ্ঞানের আলো পৌছায়নি।
আমাদের মুসলিম পরিবারগুলো সেক্যুলারদের মতো কোনো জাহিলি অবস্থায় নেই। আমরা কালের বিবর্তনে সভ্যতা লাভ করিনি। আমরা আমাদের আদি পিতা ও আদি মাতা থেকেই পূর্ণ সভ্য একটা জাতি। আমাদের মা-বোনেরা সেই পৃথিবীর জীবনের শুরু থেকেই প্রতি মাসে এই বিষয়টা অত্যন্ত স্মার্টভাবে ডিল করে আসছেন। তাদের কাছে এই বিষয়টাকে ডিল করার জন্য রয়েছে যুগ যুগান্তরের অভিজ্ঞতা, যা তারা প্রজন্ম পরম্পরায় মা-খালা-বোন, দাদি-নানীদের থেকে শিখে এসেছেন। এবং আমাদের ধর্ম সবসময়ই আমাদেরকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট জ্ঞান প্রদান করে আসছে।
তাই, এমন একটা বিষয়কে ট্যাবু সাব্যস্ত করে তা ভাঙার দরকার নেই। যারা ট্যাবু ভাঙার নামে জনপরিসরে এসব নিয়ে আলোচনা করতে এসেছেন তাদের একটাই উদ্দেশ্য হতে পারে— সমাজে পশ্চিমা অসভ্য এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা ছড়িয়ে দেওয়া।
ঋতুবতী নারীরা অস্পৃশ্য, তাদের রান্না খাওয়া নিষিদ্ধ, তাদেরকে একঘরে করে রাখার নিয়ম, নিজ স্ত্রীর সাথে বিছানা শেয়ার করার নিষিদ্ধতা, সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের বর্জন, তাদের উপস্থিতিকেকে দুর্ভাগ্যের কারণ মনে করা-সহ আরও যেসব জুলুম তাদের উপর করা হত কিংবা হয় এসবই পৌত্তলিক অপবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অপসংস্কৃতি। এর সাথে আমাদের মুসলিম সমাজের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনারা যদি সেই পৌত্তলিকদের জীবনের অপসংস্কৃতি দূর করতে চান তাহলে আগে উল্লেখ করুন যে আপনারা পৌত্তলিক সমাজের ট্যাবু ভাংতে এসেছেন।
আমাদের নারী সাহাবী, নবিজির স্ত্রী-কন্যাদের জীবন থেকেও আমরা এসব ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাই। এ-সংক্রান্ত অসংখ্য বর্ণনা আমাদের হাদীস গ্রন্থে এসেছে। যেমন:
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জের উদ্দেশে (মদিনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়েয আসলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেন, কী হলো তোমার? তোমার হায়েয এসেছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, এ তো আল্লাহ্ তা‘আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহর ত্বওয়াফ ছাড়া হাজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন।
আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হায়েযরত অবস্থাতেও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। (সহিহুল বুখারী, হাদিস নং ২৯৭)
উম্মু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার হায়েয দেখা দিলে আমি চুপি চুপি বেরিয়ে গিয়ে হায়েযের কাপড় পরে নিলাম। তিনি বললেন, তোমার কি নিফাস (হায়েয) দেখা দিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তবুও তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর সঙ্গে চাদরের ভেতর শুয়ে পড়লাম। (সহিহুল বুখারী ২৯৮, ৩২২, ৩২৩, ১৯২৯; মুসলিম ৩/২, হাঃ ২৯৬, আহমাদ ২৬৫৮৭)
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন (‘ঈদের সালাতের উদ্দেশে) যুবতী ও পর্দানশীন মেয়েদের নিয়ে যাবার জন্য আমাদের নির্দেশ দেয়া হতো। আইয়ূব (রহ.) হতে হাফসাহ (রাযি.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে এবং হাফসাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত রিওয়ায়াতে অতিরিক্ত বর্ণনা আছে, ‘ঈদগাহে ঋতুমতী নারীরা আলাদা থাকতেন। (সহিহুল বুখারী ৯৭৪, ৩২৪)
আমার নিজের অধীনে বর্তমানে প্রাপ্তবয়ষ্ক চারজন নারী বসবাস করেন। দু’জন আমার মেয়ে এবং দু’জন আমার স্ত্রী। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কনফিডেন্টলি বলতে পারি এদের কারো জীবনেই পিরিয়ড নিয়ে কোনো দ্বিধা-সংশয় কিংবা ভীতিকর অবস্থায় পড়েননি। প্রত্যেকেই যখন প্রথম এই অবস্থার মুখোমুখী হয়েছেন পরিবারের অন্য নারী সদস্যরা তাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন শারীরিক ও ধর্মী দিক থেকে এটা কিভাবে ডিল করতে হয়। আমার বিশ্বাস সকল মুসলিম পরিবারেই নারীরা ব্যাপারটা এভাবে স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবেই দেখেন এবং নিয়মমাফিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।
আমেরিকান টোবাকো কোম্পানিগুলো যখন চিন্তা করল যে নারীদেরকেও যদি সিগারেট পানে অভ্যস্ত করা যায় তাহলে তাদের টোবাকো মার্কেটের সাইজটা এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তখন তারা মার্কেটিং এক্সপার্টদের এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলো। সম্ভবত তৎকালীন মার্কেটিং গুরু মিস্টার বারনেইস পরামর্শ দিয়েছিলেন জনপরিসরে নারীদেরকে দিয়ে সিগারেট পান করানোর। ১৯২৯ সালে আমেরিকার ইস্টার প্যারেডের দিনে তিনি কিছু স্টাইলিশ মহিলাকে ভাড়া করে তাদেরকে দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে হেঁটে সিগারেট পান করিয়েছিলেন। সিগারেটকে নাম দিয়েছিলেন ‘টর্চ অব ফ্রিডম’।
আজ একদিকে পশ্চিমারা সারা দুনিয়া এলজিটিভি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য যখন সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে; নারী-পুরুষের বায়োলজিক্যাল আইডেন্টিটি মুছে দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে, তখন একদল পুরুষকে দেখা যাচ্ছে নারীদের পিরিয়ড নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা শুরু করেছেন।
হয়তো সিগারেট কোম্পানির মতো স্যানিটারি ন্যাপকিন কোম্পানিগুলো চিন্তা করেছে, এই পুরুষদেরকে যদি ট্রান্স করে নারী বানানো যায় এবং তাদের দিয়ে যদি স্যানিটারি প্যাড কেনানো যায় তাহলে তাদের মার্কেটও তো দ্বিগুণ হয়ে যাবে এক লাফে। তাই হয়তো তারা এই মার্কেটিং এ দৃশ্যত দেখতে পুরুষদের মতো কিছু দু’পেয়েকে সম্পৃক্ত করেছে। আমরা আসলে জানি না এই লোকগুলো গোপনে ট্রান্স হয়ে গেছে কি না। স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রেতাদের টাকার জোর তো কম হবার কথা নয়। আত্মবিক্রিত এসব লোকদের শরীর বিক্রি করতে আর কতক্ষণই বা লাগবে। তাদের টাকার জোরে এসব ঊনপুরুষদের আবার কখন পিরিয়ড শুরু হয়ে যায় বলা যায় না।
বানিজ্যিকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন বাজারজাত শুরু হওয়ার আগে এই বিষয়টা নিয়ে জনপরিসরে কোনো আলোচনা হওয়ার প্রয়োজন হয়নি এবং এই আত্মবিক্রিত বেহায়াদের আবির্ভাব হয়নি। এসব ন্যাপকিন বিক্রেতা কোম্পানিগুলো কেবল তাদের মার্কেটিং করার জন্যই এই অসভ্যদেরকে ক্রয় করে মাঠে নামিয়েছে।
এই অসভ্যদেরকে নিরস্ত করার জন্য প্রথমে আমাদের প্রয়োজন এই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার বন্ধ করা। ফাইনান্স বন্ধ হয়ে গেলে এরাও বিদেয় নেবে এমনিতেই।
লিখেছেন—আবু তাসমিয়া আহমদ রফিক
প্রধান সম্পাদক, সিয়ান পাবলিকেশন
