Sunday, July 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

প্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أُسَيْدَ بنَ حُضَيْرٍ قَالَ: بَيْنَمَا هُوَ يَقْرَأُ مِنَ اللَّيْلِ سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَفَرَسُهُ مَرْبُوطَةٌ عِنْدَهُ إِذْ جَالَتِ الْفرس فَسكت فَسَكَتَتْ فَقَرَأَ فجالت الْفرس فَسكت فَسَكَتَتْ الْفرس ثُمَّ قَرَأَ فَجَالَتِ الْفَرَسُ فَانْصَرَفَ وَكَانَ ابْنُهُ يحيى قَرِيبا مِنْهَا فأشفق أَن تصيبه فَلَمَّا أَخَّرَهُ رَفْعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَإِذَا مِثْلُ الظُّلَّةِ فِيهَا أَمْثَالُ الْمَصَابِيحِ فَلَمَّا أَصْبَحَ حَدَّثَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «اقْرَأْ يَا ابْنَ حُضَيْرٍ اقْرَأْ يَا ابْنَ حُضَيْرٍ» . قَالَ فَأَشْفَقْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَطَأَ يحيى وَكَانَ مِنْهَا قَرِيبا فَرفعت رَأْسِي فَانْصَرَفْتُ إِلَيْهِ وَرَفَعْتُ رَأْسِي إِلَى السَّمَاءِ فَإِذَا مِثْلُ الظُّلَّةِ فِيهَا أَمْثَالُ الْمَصَابِيحِ فَخَرَجَتْ حَتَّى لَا أَرَاهَا قَالَ: «وَتَدْرِي مَا ذَاكَ؟» قَالَ لَا قَالَ: «تِلْكَ الْمَلَائِكَةُ دَنَتْ لِصَوْتِكَ وَلَوْ قَرَأْتَ لَأَصْبَحَتْ يَنْظُرُ النَّاسُ إِلَيْهَا لَا تَتَوَارَى مِنْهُمْ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ وَفِي مُسْلِمٍ: «عرجت فِي الجو» بدل: «خرجت على صِيغَة الْمُتَكَلّم»

আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বলেন, এক রাতে তিনি সূরা আল বাকারাহ্ পড়ছিলেন। তাঁর ঘোড়া তাঁর কাছেই বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠল। তিনি ঘোড়াটিকে চুপ করালেন। ঘোড়াটি চুপ হলো। তিনি আবার পড়তে লাগলেন। ঘোড়াটি আবার লাফিয়ে উঠল। তিনি ঘোড়াটিকে শান্ত করলেন। আবার পড়তে লাগলেন। আবার ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠল। এবার তিনি থেমে গেলেন। কারণ তখন তাঁর ছেলে ইয়াহ্ইয়া ঘোড়াটির কাছাকাছি ছিল। তিনি ওর ক্ষতির আশংকা করলেন। তারপর তিনি তাকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আকাশের দিকে মাথা উঠালেন। দেখলেন, (আকাশে) সামিয়ানার মতো (কি একটা ঝুলছে)। আর এতে যেন অনেক বাতি রয়েছে। ভোরে উঠে তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন।

(ঘটনা) শুনে তিনি বললেন, তুমি পড়তে থাকলে না কেন ইবনু হুযায়র? তুমি পড়তে থাকলে না কেন? ইবনু হুযায়র বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ঘোড়া ইয়াহ্ইয়া-কে মাড়িয়ে দেবার ভয় করছিলাম। সে ছিল ঘোড়াটির কাছাকাছি। তাই পড়া বন্ধ করে তার কাছে গেলাম। আবার আকাশের দিকে মাথা উঠালাম। দেখলাম, সামিয়ানার মতো, এতে প্রদীপের মতো কিছু আছে। তারপর আমি ওখান থেকে বের হলাম। আর তা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল।

(এসব) শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এসব কি ছিল জানো? উসায়দ বললেন, জি না, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, এটা ছিল মালায়িকাহর (ফেরেশতাগণের) দল। তাঁরা তোমার তিলাওয়াত শুনে তোমার নিকটবর্তী হচ্ছিলেন। তুমি যদি পড়তে থাকতে, ভোর পর্যন্ত তাঁরা ওখানে থাকতেন। লোকেরা তাঁদেরকে দেখতে পেত। মানুষ হতে তাঁরা লুকিয়ে থাকত না। (বুখারী, মুসলিম। তবে মতন বুখারীর। মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, ’সামিয়ানা শূন্যে উঠে গেল,’ ’আমি বের হলাম’-এর স্থলে।)[1]

[1] সহীহ : বুখারী ৫০১৮, মুসলিম ৭৯৬, শু‘আবূল ঈমান ২৪২৬।

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে সূরা আল বাকারাহ্ তিলাওয়াত করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সামনে অন্য হাদীসে সূরা আল কাহাফ তিলাওয়াত করার কথা এসেছে। এর সমাধানে মুহাদ্দিস কিরমানী (রহঃ) বলেন, সম্ভবত উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) রাতে দু’টি সূরাই তিলাওয়াত করতেন। তিনি যখন রাতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন তার তিলাওয়াতে স্বর্গীয় সুর লহরী শুনতে আকাশ থেকে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) অবতীর্ণ হতো, তা দেখে তার ঘোড়াটি ভয়ে লাফালাফি শুরু করত। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত বন্ধ করলে মালায়িকাহ্’রা উপরে উঠে যেত ফলে ঘোড়াও শান্ত হয়ে যেত।

মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) বলেছেন, আল কুরআনের আস্বাদনের (আনন্দে) ঘোড়া লাফালাফি শুরু করত, তিলাওয়াত বন্ধ করলে সে ঐ স্বাদ হারিয়ে নীরব হয়ে যেত।

সাহাবী উসায়দ তিন তিনবার এটা প্রত্যক্ষ করলেন, অতঃপর শেষবার আকাশ পানে তাকিয়ে দেখেন সামিয়ানার ন্যায় যাতে রয়েছে অসংখ্য বাতি। কোন কোন বর্ণনায় সামিয়ানার পরিবর্তে মেঘের আবরণ বা ছায়ার কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। ইবনুল বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেন, দৃশ্যত ঐ মেঘের আবরণের ন্যায় যা ছিল মূলত তা ছিল সাকীনাহ্ এবং ওর মধ্যে ছিল মালাক (ফেরেশতা)।

তিলাওয়াত বন্ধ না করলে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন না, আর ঐ বাড়িতে সাকীনাহ্ বর্ষণ হতেই থাকতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + 12 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য