মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁকে ইয়ামান দেশে পাঠালেন তখন তাঁকে বললেন : নিজেকে বিলাসিতা হতে বাঁচিয়ে রেখ। কেননা আল্লাহর খাস বান্দাগণ বিলাসী জীবন-যাপন করেন না। (আহমাদ)
হাসান : মুসনাদে আহমাদ ২২১৫৮, সহীহুল জামি’ ২৬৬৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১৪৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৫৩, শুআবুল ঈমান ৬১৭৮।
ব্যাখ্যা : ইতোপূর্বে একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)- মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে কাযী এবং গভর্নর হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তার রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বিভিন্ন ওয়াসিয়্যাত-নাসীহত করেন। অত্র হাদীসে এমনি একটি নাসীহাত বিবৃত হয়েছে। এ নাসীহাতে তিনি (সাঃ) তাকে অতিরিক্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যপূর্ণ জীবন থেকে নিজেকে রক্ষার কথা বলেছেন। কেননা অতি ভোজন ও সীমাতিরিক্ত বিলাসিতা মানুষকে শাহওয়াত তথা প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে বাধ্য করে, ফলে সে আল্লাহর “ইবাদত করতে কমই সক্ষম হয়ে থাকে। উপরন্তু সে আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হয়। এজন্য আল্লাহর খাস এবং প্রিয় বান্দারা মোটেও বিলাসী জীবন পছন্দ করেন না। এমন বিলাসী জীবন হলো কাফির-মুশরিক, জাহিল আল্লাহবিমুখ ব্যক্তিদের জন্য খাস। আল্লাহ তা’আলা বলেন, (ذَرۡهُمۡ یَاۡکُلُوۡا وَ یَتَمَتَّعُوۡا وَ یُلۡهِهِمُ الۡاَمَلُ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۳﴾) “আপনি তাদের ছেড়ে দিন, তারা খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক, আর আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্ত্বর তারা (তাদের পরিণতি) জেনে নিবে।” (সূরাহ্ আল হিজর ১৫ : ০৩)
এ আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে- পানাহারকে লক্ষ্য ও আসল বৃত্তি সাব্যস্ত করে নেয়া এবং সাংসারিক বিলাস-ব্যসনের দীর্ঘ পরিকল্পনা প্রণয়নে মেতে থাকা কাফিরদের দ্বারাই হতে পারে, যারা পরকাল ও তার হিসাব নিকাশে বিশ্বাস করে না। (তাফসীরে মা’রিফুল কুরআন ৭২৫ পৃ.)আল্লাহ আরো বলেন, (وَ یَاۡکُلُوۡنَ کَمَا تَاۡکُلُ الۡاَنۡعَامُ وَ النَّارُ مَثۡوًی لَّهُمۡ) “আর যারা কাফির তারা ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো আহার করে, তাদের বাসস্থান জাহান্নাম”- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭ : ১২)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)
