Thursday, July 9, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরপ্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সউদী সফর, খুলতে পারে সাফল্যের দ্বার

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সউদী সফর, খুলতে পারে সাফল্যের দ্বার

সউদী আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুপ্রতিম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতার সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিহাসে সউদী আরব সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে এ বাজারের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমতাবস্থায় সউদীর বাদশার আমন্ত্রণে সউদী সফরে যাবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে সউদী সরকার দীর্ঘ দিন থেকেই উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ স্কিল-আনস্কিল কর্মী কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। সউদীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। রাজকীয় সউদী সরকারের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সউদী সফরকালে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে অভাবনীয় সুযোগসহ বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সাফল্যের দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। বিএমইটির সূত্র জানায়, গত ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত সউদী আরবে দুই লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ জন চাকরি লাভ করেছে। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে গেছে ৩৬ হাজার ৩০৭ জন এবং কাতার গেছে ২৯ হাজার ৮৮ জন। সউদী আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি শুধু একটি ব্যবসায়িক খাত নয়; এটি লাখ লাখ পরিবারের জীবিকা, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি প্রধান উৎস। এই খাতকে ঘিরে যেকোনো অনিয়ম, অসাধু তৎপরতা, অপপ্রচার কিংবা কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করে দেশের সাধারণ শ্রমিক ও জাতীয় স্বার্থকেই।

বর্তমানে সউদী আরবের শ্রমবাজার অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা সউদী আরবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে হাজার হাজার কর্মী আকামা ও চাকরিবিহীন অবস্থায় কষ্টের জীবন পার করছেন। নিয়োগকর্তা সঠিক নিয়ম মেনে সময়মতো আকামা না দেয়া ও চাকরি করলে সময়মতো বেতন না দেয়া এবং কর্মীর সুরক্ষায় আন্তরিকতার অভাবে সঠিক নিয়ম ও তদারকি না হওয়ার কারণে আজ সউদী শ্রমবাজার সর্বনি¤œ অবস্থায় রয়েছে। ইতোপূর্বে সউদী আরবের কর্মী নিয়োগের ভিসা ঢাকাস্থ দূতাবাস থেকে দৈনিক ইস্যু হতো পাঁচ থেকে ছয় হাজার জনের। নানা কারণে বর্তমানে সউদীর কর্মী নিয়োগের হাতেগোনা কিছু বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু হচ্ছে। বিগত জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিদেশে এক কোটি কর্মী প্রেরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্ত প্রবাসী মন্ত্রণালয় ও বিএমইটিতে কতিপয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় সউদীসহ বিদেশগমনেচ্ছু কর্মী নিয়োগে নতুন নতুন শর্তারোপ করায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ ও সউদী আরবের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘রূপান্তরমূলক অধ্যায়’ হিসেবে আবির্ভূত হবে। দুই দেশই শ্রমশক্তিনির্ভর প্রচলিত সম্পর্কের গ-ি পেরিয়ে কৌশলগত বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

সউদী আরবে কর্মী নিয়োগে কোনো প্রকার চাহিদাপত্র ছাড়াই এ যাবত প্রায় ৩০ লাখ কর্মী চাকরি নিয়ে গেছে। বিএমইটি কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে গত ১ জুলাই থেকে সউদীতে কর্মী নিয়োগের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুর আবেদনে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র বাধ্যতামূলক করে অঘোষিতভাবে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সউদীতে শত শত কর্মী নিয়োগের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুর জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সউদী গমনেচ্ছু কর্মীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকের ভিসা ও মেডিক্যালের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

সউদী শ্রমবাজারকে গতিশীল এবং চাঙ্গা করতে দুই দেশের সরকারের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সউদী নিয়োগকর্তা সময়মতো আকামা করে না দেয়া ও অনেক কোম্পানি কর্মীদের কম বেতন দেয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় প্রবাসী কর্মীদের আকামা ও বেতন নিশ্চিত করা আর আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কোম্পানি কর্মীদের আকামা নবায়ন করে দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সউদী সফরকালে সরকারি নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সউদী আরবের সরকারের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সময়োপযোগী শ্রমসংক্রান্ত চুক্তি মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীর সুরক্ষায় কার্যকরী উদ্যোগই নিশ্চিত হতে পারে এই সমস্যার সমাধান। এতে উপকৃত হবেন লাখো কর্মপ্রত্যাশী, শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশের ভাব-মর্যাদা আরো সুদৃঢ় হবে। একাধিক জনশক্তি রফতানিকারক এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আমরা কৌশলগত বিনিয়োগ, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব প্রত্যাশা করছি। সউদী আরব সাম্প্রতিক জ্বালানি ও অর্থায়ন উদ্যোগগুলো দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা স্পষ্ট করেছে। সউদী আরব দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরো শক্তিশালী করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সউদীর শ্রমবাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিবাসন বিশ্লেষক ও ফোরাব মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের সবচেয়ে বড় অবদান আসে সউদী আরবে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী এবং দেশ থেকে নিয়মিত জনশক্তি রফতানির মাধ্যমে। কিন্ত সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, সউদী আরবে নতুন ডকুমেন্টেশন ও ভিসা-সংক্রান্ত কড়াকড়ি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং লাখো পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সউদী শ্রমবাজার সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে শুধু একটি কূটনৈতিক সফর হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি খাত পুনরুজ্জীবিত করা, প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো শক্তিশালী করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উল্লিখিত সফরে নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে এটাই দেশের বৈধ জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী কর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও সউদী আরবের মধ্যে জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, বন্দর ও অবকাঠামো এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে সউদী আরবের। বিনিয়োগকারীরা পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের প্রধান খাতসমূহÑ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, তেল শোধনাগার নির্মাণ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, টার্মিনাল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল ফাইন্যান্স : আইটি পার্ক স্থাপন, আউটসোর্সিং, এবং আর্থিক প্রযুক্তি খাতে সউদী আরব ও বাংলাদেশি যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ ছাড়া বন্দর ও অবকাঠামো : মাতারবাড়ি ও পায়রা সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন, ঢাকার পূর্ব-পশ্চিম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন অন্যতম অগ্রাধিকার খাত, আতিথেয়তা ও পর্যটন তথা বিশ্বমানের হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে সউদী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ : হালাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সার কারখানা স্থাপন, এবং এগ্রো-ফার্মিংয়ে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিমান চলাচল খাত অ্যারোস্পেস শিল্পাঞ্চল ও বিমান মেরামত কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও বিনিয়োগ সম্ভাবনার একটি বড় অংশ।

বায়রার নেতাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হাজার হাজার সরকারি অনুমোদিত ভিসা ও ডিমান্ড নিয়োগকর্তার বিভিন্ন অসঙ্গতি বা ব্যর্থতার কারণে সউদী কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে যেতে পারেননি এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না গেলে সউদী শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আকামা ইস্যু ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আকামা ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর বিষয়ে সউদী সরকারের সহযোগিতা কামনা করতে হবে, ভুয়া কোম্পানির ভিসা অনুমোদন বন্ধ, যেসব কোম্পানির প্রকৃত ব্যবসা, প্রকল্প বা কর্মী নিয়োগের সক্ষমতা নেই, তাদের নামে ভিসা অনুমোদন বন্ধ এবং কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজ, বেতন ও বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ ও সউদী আরবের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘রূপান্তরমূলক অধ্যায়’ হিসেবে আবির্ভূত হবে। দুই দেশই শ্রমশক্তিনির্ভর প্রচলিত সম্পর্কের গ-ি পেরিয়ে কৌশলগত বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি জ্বালানি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধশিল্প, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে সউদী বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রধান খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমরা কৌশলগত বিনিয়োগ, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব প্রত্যাশা করছি। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক জ্বালানি ও অর্থায়ন উদ্যোগগুলো দুই দেশের মধ্যে আরা গভীর অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা স্পষ্ট করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, সউদী আরব চায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরো শক্তিশালী হোক। তিনি বলেন, ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শ্রমবাজার ও জ্বালানি বাণিজ্যই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল। তবে এখন সউদী আরব আরো বিস্তৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়, যার মধ্যে রয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, তেল পরিশোধন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এসইজেড, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন। এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন সউদী আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ভিশন ২০৩০ কর্মসূচি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রচলিত পেশার বাইরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে-তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি,

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সউদী আরব থেকে বাংলাদেশে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সরকার যৌথভাবে কাজ করছেÑ অভিবাসন ব্যয় কমাতে,দক্ষতার সনদ স্কিল সার্টিফিকেশন) উন্নত করতে এবং কর্মীদের সউদী আরবে যাওয়ার আগে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + 17 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য