Thursday, July 9, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট হার সমান থাকছে না

সরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট হার সমান থাকছে না

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে । নবম জাতীয় বেতনকাঠামোয় সব গ্রেডে প্রায় সমান হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার । এবার বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গ্রেডের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আয় , জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্তরভেদে চাকরিজীবীদের বাস্তব চাহিদা । এ কারণে নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা – কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় – সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে । এদিকে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের

নতুন বেতনকাঠামো

» প্রথম গ্রেডের বেতন কমতে পারে ১০,০০০ টাকা । » সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ব্যবধান কমানোর ভাবনা ।

জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলার ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বর্তমান নিয়মে সরকারি কর্মচারীদের

» প্রথম ধাপে মিলবে মূল বেতন , কার্যকর ১ জুলাই থেকে । » ভাতা – সুবিধা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে ।

বেতনকাঠামোর সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয় । তবে নতুন বেতনকাঠামোর খসড়ায় শুধু ৬ ষ্ঠ থেকে ২০ তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক

সরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট হার সমান থাকছে না

বেতন বৃদ্ধি মূল বেতনের ৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে । পঞ্চম গ্রেডে এ হার ৪ শতাংশ , তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে । আর প্রথম গ্রেডের বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হবে । আলাদাভাবে । দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে , বেতন বৃদ্ধির নিয়মে এ পরিবর্তনের উদ্যোগের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারের এ বিষয়ক একটি বিস্তৃত জরিপ । এতে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী , ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩ টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান । জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন । বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন । ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন । একই সঙ্গে আবার ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ ১১ তম থেকে ২০ তম গ্রেডের বেতন আরও বেশি বাড়ানোর পক্ষে । পৃথক আরেকটি অনলাইন জরিপেও বর্তমান বেতনকাঠামো নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে । এতে অংশ নেন ৪ হাজার ১৪৩ জন । তাঁদের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ১৮ শতাংশ মনে করেন , বর্তমান বেতন প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট । প্রায় ৯৯ শতাংশই বলেছেন , বিদ্যমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন । ৮৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বেতন বাড়ানোর পক্ষে মত দেন । ১০ শতাংশ বেতন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির

প্রস্তাব করেন । অনেকেই ১৮ তম থেকে ২০ তম গ্রেড পুনর্গঠন এবং সর্বোচ্চ – সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান আরও কমানোর সুপারিশ করেন । গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান , বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য ওই অতিরিক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয় । অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে । বিবিএসের জরিপও বিবেচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে , নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ( বিবিএস ) ‘ লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’- এর তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে । বিবিএসের এই জরিপ অনুযায়ী , দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা । সিটি করপোরেশন এলাকায় তা ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা । ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা । নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন । এতে ২০ তম গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে । সুপারিশ বিবেচনার দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণের কথা ভাবছে । একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনও কিছুটা কমানো হতে পারে । বেতন কমিশন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের

অনুপাত ১ : ৮ করার সুপারিশ করেছে । সচিব কমিটি তা আরেকটু কমিয়ে ১ : ৭ দশমিক ৫ করার প্রস্তাব করেছে । বর্তমানে এ অনুপাত ১ : ৯ দশমিক ৪ । বর্তমানে ২০ তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন – ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান । নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উঠতে পারে । ১৯ তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্তও বিভিন্ন ভাতা বাড়বে । তবে যাতায়াত , টিফিন , ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে । তবে সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না । বেতন কমিশন চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও তা ৩ হাজার টাকা করার চিন্তা চলছে । সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে । অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান , কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কিছু ভাতা কমানো হলেও বর্তমানের তুলনায় তা বেশি থাকবে । প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে । আর ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে । বেতনকাঠামো পর্যালোচনা – সংক্রান্ত সচিব কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করতে কাজ করছে । শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে । সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী , নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে । রাজস্ব আহরণের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করেই এটি দুই ধাপে কার্যকর করার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen + 9 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য