Thursday, June 4, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবদর যুদ্ধে দুই কিশোরের বীরত্ব

বদর যুদ্ধে দুই কিশোরের বীরত্ব

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে ক্ষীণশক্তি হয়েও মুসলিম বাহিনী বিপুল বিজয় লাভ করে। আল্লাহর অনুগ্রহ ও মুসলিম বাহিনীর অমিত বীরত্বের কারণেই এই বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়। বদর যুদ্ধে বীরত্বের যেসব গল্প ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তার মধ্যে রয়েছে মুয়াজ ও মুয়াউভিজ দুই কিশোরের সাহসিকতার গল্প। এই কিশোরের হাতেই নিহত হয় চরম ইসলামবিদ্বেষী কুরাইশ নেতা আবুল হাকাম। যিনি আবু জাহাল নামেই অধিক পরিচিত।


কিশোর মুয়াজ বিন আমর ও মুয়াউভিজ বিন আফরা (রা.) ছিলেন বৈপিত্রীয় ভাই। দুই পিতার সন্তান হওয়ার পরও মায়ের সূত্রে তাদের চলাচল ছিল একসঙ্গে। উভয়ে একই সঙ্গে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের ময়দানে তাদের অবস্থানও ছিল এক কাতারে। যুদ্ধের বহু আগেই তারা লোকমুখে জেনেছিল, মক্কায় আবু জাহাল নামের এক ব্যক্তি রয়েছে। সে মুসলিমদের অনেক বেশি কষ্ট দিত। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর প্রতিও সে ছিল অত্যন্ত নির্মম। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ ও হজযাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করত আবু জাহাল। তাদের ইচ্ছা হলো এই পাষণ্ডকে হত্যা করার। তারা তাকে হত্যা করারও পরিকল্পনা করে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-কে হজরত মুয়াজ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, চাচা, আপনি আবু জাহালকে চেনেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। মুয়াজ (রা.) বললেন, আমাকে চিনিয়ে দিন। আমি শুনেছি, সে মুসলমান ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে কষ্ট দিত। আমি আজ তাকে পরাজিত করতে চাই। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, তাকে দেখলে আমি দেখিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ!

উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) আবু জাহালকে দেখলেন এবং মুয়াজ ও মুয়াউভিজকে দেখিয়ে দিলেন। চিনিয়ে দিলেন। কিশোর এই দুই সাহাবি তাকে অনুসরণ করতে শুরু করলেন এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। সুযোগ বুঝে হজরত মুয়াজ (রা.) আবু জাহালকে আঘাত করলেন। সে মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেল। এমন সময় ইকরামা ইবনে আবু জাহাল (তখনো তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি) এগিয়ে এলো এবং মুয়াজ (রা.)-কে আঘাত করলেন। আঘাতে তার বাম হাত কেটে ঝুলে গেল। ঝুলে থাকার কারণে তিনি ঠিকমতো যুদ্ধ করতে পারছিলেন না। তিনি তার ঝুলে থাকা হাতটি পায়ের নিচে চাপ দিয়ে হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। যেন যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে পারেন।

অন্যদিকে মুয়াউভিজ (রা.) আবু জাহালের দিকে এগিয়ে গেলেন। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আঘাত করে তাকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − six =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য