Wednesday, June 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াবিশ্বের সর্ববৃহৎ কোম্পানি এবং এর সমাজ নিয়ন্ত্রণমূলক এজেন্ডা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোম্পানি এবং এর সমাজ নিয়ন্ত্রণমূলক এজেন্ডা

বিশ্বের প্রভাবশালী কর্পোরেশন ও এলিট সংস্থাগুলির জগতে অন্যতম একটি উদীয়মান নক্ষত্র- ব্ল্যাকরক (একটি মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি), যা অনবরত বিশ্বে প্রভাব প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ পুনর্গঠন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

শুক্রবারে ব্ল্যাকরক আর্থিক বছরের চতুর্থ ও শেষ ত্রৈমাসিক আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যাতে প্রকাশিত হয় যে, এর পরিচালনাধীন সম্পদ অবশেষে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে এই অর্জন ব্ল্যাকরকের খ্যাতিকে সমুজ্জ্বল করেছে, যা একটি সর্বজনীন বানিজ্য (public trade) পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপকের (asset manager) জন্য এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

১০ ট্রিলিয়ন ডলার– পরিমাণটি হতভম্ব করে দেওয়ার মতোই বিশাল। প্রকৃতপক্ষে, এটি মার্কিন জিডিপির প্রায় অর্ধেক।

অভিজাত ইহুদি ভদ্রলোক ল্যারি ফিঙ্ক পরিচালিত কোম্পানিটি এতটাই বৃহদাকার ধারণ করেছে যে, যারা অর্থনৈতিক বিশ্ব বোঝেন, তারা এই কোম্পানি এবং এর সিইও সম্পর্কে বেশ কিছু বড় দাবি করেছেন। এই দাবিগুলোর মধ্যে ফিঙ্ককে মার্কিন পুঁজিবাদী চাকার কেন্দ্রস্থলে ন্যস্ত করার বিষয়টিও রয়েছে।

কোম্পানিটির এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ কেবল বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ব্যবসার মাধ্যমেই সঞ্চিত হয়নি, বরং মার্কিন সরকারের হাত থেকে ‘সরকারী চুক্তি’ নামক বিশেষ সুবিধা গ্রহণের কারণেও হয়েছে। একই নিবন্ধে বলা হয়েছে:

বর্তমানে, বিভিন্ন সরকারি চুক্তির সাহায্যে ব্ল্যাকরক সফলভাবে ওয়াশিংটনের ওয়াল স্ট্রিট বেইলআউটের মুখ্য পরিচালক হয়ে উঠেছে।

ব্ল্যাকরককে দেওয়া সুবিশাল সরকারি চুক্তিসমূহের দিকে ইঙ্গিত করে একজন উর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন— “এটি অর্থনৈতিক ব্ল্যাকওয়াটার (Blackwater)এর মতো, অনেকাংশেই একটা ছায়া সরকারের(শাসনকর্তার)অনুরূপ।

যদিও, ‘ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক বৃহদাকার প্যাসিফিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (PIMCO)’- সহ অন্যান্য কোম্পানিগুলো বেইলআউট-পরবর্তী সরকারি চাকরিতে স্বল্প প্রয়াসে অর্থোপার্জনের সুযোগে বেশ উপকৃত হয়েছে, কিন্তু এরমধ্যে কোনোটিই ব্ল্যাকরকের কাছাকাছি পর্যায়ে লাভবান হয়েছে বলে মনে হয় না। “কীভাবে এটি সম্ভাব্য স্বার্থদ্বন্দ্বগুলি সামলে নিচ্ছে”- এ বক্তব্য উত্থাপনের মাধ্যমে বিয়ানকো রিসার্চের সিইও জেমস বিয়ানকো বলেন যে, ফিঙ্কের ফার্মকে আর্থিক বাজারের একটি বিস্তৃত অংশের সুবিধাভোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এতো মর্যাদা স্বত্তেও, সাধারণ জনগণ এর সম্পর্কে হয় স্বল্পজ্ঞান রাখে নতুবা আদোও কিছুই জানেনা। ব্ল্যাকরক নামটি অ্যামাজন কিংবা টেসলার মতো একই পন্থায় সফলতা লাভ করেনি, ঠিক যেমন ফিঙ্ক নামটি বেজোস কিংবা মাস্কের মতো একইভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। এর কারণ হলো, তাদের ক্ষমতার উত্থান বেশিরভাগই হয়েছিল গোপনে, গোপন বৈঠক এবং বন্ধ দরজার আড়ালে ছায়াময় চুক্তির সাহায্যে:

…ফিঙ্ক মূলত আড়ালে থেকেই এই অবস্থানটি অর্জন করেছেন। এমনকি সাম্প্রতিককালের আগ পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিটে এমন লোকও ছিল, যারা কেবল অস্পষ্টভাবে জানতেন যে তিনি ঠিক কী করছিলেন।

কোহান বলেন, “ফিঙ্ক হচ্ছেন ওজের জাদুকরের (The Wizard of Oz)মত”। “পর্দার আড়ালের মানুষ।”

তাতে কী? এসব কেবল ঐশ্বর্য উপাখ্যানের প্রতি বিদ্বেষ পোষন তাইতো? ল্যারি ফিঙ্ক কেবল একজন নিরীহ বিনিয়োগ প্রতিভা, যিনি শুধুই যতটা সম্ভব সফল হওয়ার চেষ্টা করছেন। ঠিক কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যবসায়ীর মতো, তাই না? সুনিশ্চিতভাবেই, এখানে এমন কোনো ষড়যন্ত্র নেই যা ব্ল্যাকরককে ডব্লিউইএফ (WEF) বা গ্রেট রিসেট এজেন্ডার (Great Reset Agenda) সাথে তুলনা করবে। স্পষ্টভাবে বলা যায়, দুর্ভাগ্যবশত, পরিণতিটা বুঝতে আমাদের শুধু ব্ল্যাকরকের প্রকৃত মালিকানার দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করা প্রয়োজন।

লিঙ্কের সাইটে দেখতে পাবেন, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যামাজন-এর মতো বৃহৎ প্রযুক্তি (Big Tech) গঠনকারী কোম্পানিগুলোর একটি প্রধান শেয়ারহোল্ডার হলো–ব্ল্যাকরক। আজকের সোশ্যাল মিডিয়া গঠনের জন্য মূলত এই কোম্পানিগুলোই দায়বদ্ধ। এই মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমেই বেশিরভাগ অনলাইন যোগাযোগ করা হয়। এই প্লাটফর্মগুলোর মাধ্যমেই অধিকাংশ তথ্য অর্জিত হয়।

এবং আপনারা কি জানেন কোন বিষয়টি একে অধিকতর খারাপ বানিয়েছে? বিষয়টি এটি যে, ব্ল্যাকরক ( ভ্যানগার্ডসহ) কতিপয় সংবাদ সংস্থার মালিক, যার মধ্যে বেশকিছু খ্যতনামা সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত:

• ফক্সের ১৮ শতাংশ।
• সিবিএস এবং সিক্সটি মিনিটস্ উভয়েরই ১৬ শতাংশ।
• এনবিসি, এমএসএনবিসি, সিএনবিসি এবং দ্য স্কাই মিডিয়া গ্রুপের মালিক, “কমকাস্ট”-এর ১৩ শতাংশ।
• সিএনএন-এর ১২ শতাংশ। এবিসি ও ফাইভথার্টিএইটের মালিক, “ডিজনি”- এর ১২ শতাংশ।
• ২৫০ টিরও বেশি গ্যানেট দৈনিক সংবাদপত্র ও ইউএসএ ট্যুডের মালিক, “গ্যানেট”-এর ১০ থেকে ১৪ শতাংশের মতো।
• ৭২ শতাংশ মার্কিন পরিবারের স্থানীয় টিভির নিয়ন্ত্রণকারী, “সিনক্লেয়ার স্থানীয় টেলিভিশন সংবাদ”-এর ১০ শতাংশ।
• স্লেট এ্যান্ড পররাষ্ট্র নীতির মালিক, “গ্রাহাম মিডিয়া গ্রুপ”-এর বড় একটি অনির্দিষ্ট অংশ।


মূলধারার মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্মগুলোই পৃথিবীর তথ্যভাণ্ডারের কেন্দ্রীয় ও সর্ববৃহৎ উৎস। পৃথিবীতে কী ঘটছে তা এই মাধ্যমগুলোর দ্বারা আমরা জানতে পারি। এগুলোর মাধ্যমেই জনসাধারণের বিচারবুদ্ধি আকৃতি পায়। বর্তমানে অনলাইন জগতে এক ‘সমষ্টিগত বিষাক্ত উদারমনা জনমত’ দেখা যায়, যা কিনা “প্রচারমাধ্যমগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দর্শন” (phychological priming on social platforms)-এর ভিত্তির উপর জন্ম লাভ করেছে।

কিন্তু একটু থামুন, ব্ল্যাকরক ডিজনি এবং নেটফ্লিক্স উভয়েরই শেয়ারমালিক। যেসব কন্টেন্ট মূলত সব প্রকারের মুক্তমনা, উদার(লিবেরাল), নারীবাদী, শয়তানি এবং এলজিবিটি (LGBT) মতাদর্শ প্রমোট করে, সেসব কন্টেন্ট ব্যাপকভাবে গ্রহণকারী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক— উভয়শ্রেণির উপর বিনোদন শিল্পের সমান্তরাল ও উন্মত্ত প্রভাবের কথা কি আপনাদেরকে নতুনভাবে স্মরন করিয়ে দিতে হবে?

তবে চিন্তা করবেন না। অনেক স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানিতেও তাদের শেয়ার রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানিগুলো হলো, ড্রামরোল, ফাইজার এবং মডার্না। ‘মহামারী’ শব্দটি তাদের জন্য কেবলই সামান্য কিছু স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে পারে, যারা গত কয়েক বছর ধরে এই সংস্থাগুলো দ্বারা প্রচারিত গণ উত্তেজনা এবং গণ আতঙ্কের মধ্যে পরেনি। যাইহোক, বিদ্রূপাত্মক বিষয় এই যে:

যেই একই কোম্পানি মডার্নার মতো অনেকগুলো স্বাস্থ্যসেবা সংস্থায় বিনিয়োগ করে, তারই আবার ম্যাকডোনাল্ডস-এর মতো কোম্পানিতেও শেয়ার আছে। এ বিষয়টিই তাদের গতিপথের ধারণাকে স্পষ্ট করে তোলে।

আসুন এক সেকেন্ডের জন্য আমেরিকান কোম্পানিগুলো থেকে দূরে সরে যাই, কারণ ব্ল্যাকরক চীনা সিসিপি-এর মালিকানাধীন নজরদারি সংস্থাগুলোতেও অর্থের সীমাহীন মজুদ জমা করেছে, যা কিনা আমাদের প্রিয় নিপীড়িত উইঘুর মুসলিম ভাইবোনদের ট্র্যাক করে বন্দী করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে।

একইসাথে ব্ল্যাকরক ‘হাইকভিশন’ ও ‘আইফ্লাইটেক’- নামক দুটি চীনা কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী, যেগুলোকে ২০১৯ এর অক্টোবরে মার্কিন কালো তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। উভয় কোম্পানি-ই নজরদারি শিল্পের সাথে জড়িত, এবং জিনজিয়াংয়ের উইঘুর জনগোষ্ঠীকে নিপীড়নের জন্য তালিকাভুক্ত ২৮টি চীনা সংস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ।

কিন্তু হায়! আপনাদের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত কয়েকজন হয়তো জিজ্ঞাসা করবেন। বিশ্ববাদ-প্রেমী অভিজাত গোষ্ঠীশাসন দ্বারা পরিচালিত এবং আপাতদৃষ্টিতে পৃথিবীর বৃহত্তম মুক্তমনা সাম্রাজ্যের প্রায় অর্ধেকের সমান ধনী—এই অতি ছায়াময় কোম্পানিটি, যদি একাধারে বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্র-নির্দেশিত তথ্যপ্রদানকারী কোম্পানিগুলিতে মেগা-শেয়ার রাখে, তাহলে কী-ই বা হবে? এটি এখনও কিছুই প্রমাণ করে না। এটি তার সাক্ষ্য নয় যে, ফিঙ্ক চান লোকেরা স্থূলতা এবং সমকামিতার সমর্থনে অশ্লীল চিত্র হাতে, রগরগে স্লোগান ধরে, রংধনু রঙের টি-শার্ট পরে রাস্তায় বের হোক! আমরা বাস্তব প্রমাণ চাই যে, ব্ল্যাকরকের পিছনের লোক ল্যারি ফিঙ্ক সমাজকে সরাসরি প্রভাবিত করতে চায়।

আর সেই পাঠকদের প্রতি, আমাকে ক্ষমা চাইতেই হবে। দুর্ভাগ্যবশত, ফিঙ্ক হয় তার প্রকৃত লক্ষ্য লুকিয়ে রাখতে বেশ দক্ষ, অথবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার কাছে যদি সরবরাহ করার মতো আরো কোনো তথ্য থাকতো! ঠিক আছে, আমি ধারণা করছি যে এখানেই নিবন্ধটির সমাপ্তি…

ওহ, তবে একটি অসংশ্লিষ্ট সাইড নোটে বিশ্বের বৃহত্তম পাবলিক কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীগণের কাছে ফিঙ্ক একটি স্পষ্ট চিঠি লিখেছিলেন যে, তাদের সমাজকে প্রভাবিত করা শুরু করতে হবে:

বিনিয়োগ কোম্পানি ব্ল্যাকরকের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী লরেন্স ডি. ফিঙ্ক, ব্যবসায়িক নেতাদের জানাতে যাচ্ছেন যে, তাদের কোম্পানিগুলোকে মুনাফা অর্জনের চেয়েও আরও বেশি কিছু করতে হবে— ব্ল্যাকরকের সমর্থন পেতে চায়লে তাদেরকে সমাজে অবদান রাখতে হবে৷

“সমাজ দাবি করছে যে, সরকারী ও বেসরকারী উভয় কোম্পানিগুলো যেন একটি সামাজিক উদ্দেশ্যের খেদমত করে”- এটি এমন একটি নীতিবাক্য যা আমরা ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষ থেকে অধিক পরিমাণে শুনে থাকি। আর মূলত গত বছরেই এসব কোম্পানির নেতারা— অভিবাসন নীতি, জাতিসম্পর্ক, সমকামীদের অধিকার এবং এরকম আরও অনেক বিষয়েই অবস্থান নিয়েছেন।

কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগকারীর পক্ষে এটি উচ্চস্বরে বলা এবং ঘোষণা করা যে তিনি কোম্পানিগুলোকে দায়বদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করছেন – এটি কর্পোরেট আমেরিকার বিবর্তনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। মি. ফিঙ্ক বলেছেন যে সংস্থাগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে তা নিরীক্ষণে সহায়তার জন্য তিনি কর্মী নিয়োগ করছেন; ব্ল্যাকরক সত্যিকার অর্থেই নতুন সামাজিক উদ্যোগকে প্রভাবিত করার জন্য তার কোম্পানির প্রতিপত্তিকে ব্যবহার করে কিনা—কেবল সময়ই তা বলে দেবে।

আচ্ছা, এটিও যদি আপনাকে কোনোকিছুর জানান না দেয়, তবে আমি জানিনা আর কিসে দিবে। একটি গোষ্ঠী বিস্তৃত সমাজে একটি ধারণাকে সাহসী যোদ্ধা ঘোড়া হিসেবে দাঁড় করাতে চায়। সেই গোষ্ঠীর কাছে টাকা আছে, কিন্তু ক্ষমতা নেই। গোষ্ঠীটি ক্ষমতা-ক্ষুধার্ত সরকার এবং অর্থ-ক্ষুধার্ত কোম্পানিগুলোকে এটির উপর নির্ভরশীল করে তোলে, যতক্ষণ না গোষ্ঠীটি নিজস্ব কার্যসিদ্ধিতে তাদেরকে ব্যবহার করতে পারে, কর্পোরেশন এবং রাষ্ট্রগুলোকে নিজের অধীনস্থ করতে পারে। এই কারণেই এটাকে কর্পোরেট আমেরিকা বলা হয়। কারণ এ দুটি(কর্পোরেশন ও রাষ্ট্র) প্রায় এক হয়ে গিয়েছে, এবং এরা নিজেদের অজান্তেই ‘ব্ল্যাকরক’-এর মতো ‘মানবজাতির প্রতি গুপ্ত এজেন্ডা ধারনকারী’ একটি একক গুরুগোষ্ঠীর সেবা করে চলেছে। শুধু ফিঙ্কের বর্তমান ক্ষমতার দিকে তাকান। চারপাশের বৃহদাকার কর্পোরেশনগুলোকে দৈবনির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের জন্য এই গোষ্ঠীগুলো নিরন্তর পরিকল্পনা করে থাকে।

এবং অবশ্যই যেহেতু বিশ্ববাদ উদারচিন্তা (লিবারেলিজম) বিস্তারের মূল চাবিকাঠি, তাই বহুমুখী বিশ্বে মানবতা স্থানান্তরকারী সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় যুদ্ধের প্রতি ল্যারি ফিঙ্ক হতাশ। তবুও, যেহেতু এখন চীনের সাথেও তার সংযোগ রয়েছে, সম্ভবত একারনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিবারেল আধিপত্যের সম্ভাব্য পতনের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন তার নেই।

আমার নিকট এটাকে বেশ হাস্যকর মনে হয় যে, কীভাবে ব্ল্যাকরক কার্যকরভাবে ডব্লিউইএফ এবং গ্রেট রিসেট এজেন্ডার সহজাত হয়ে উঠছে।

এদিকে মুসলমান হিসেবে এসব শত্রুদের সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে, যারা এখন আমাদের চারদিক থেকে আক্রমণ করছে। যদিও বা ফিলিস্তিনের মতো করে শারীরিকভাবে নয়, তবে আধ্যাত্মিক এবং আদর্শগতভাবে। তারা আমাদেরকে আধুনিক জীবনধারার গর্তে ঠেলে দিচ্ছে যতক্ষণ না আমরা তাদের বিনোদন ও ফাস্ট ফুডে আবদ্ধ হই এবং নিশ্চিতভাবে আমরা কেবল তাদের পক্ষপাতদুষ্ট স্ট্র দিয়ে জাগতিক তথ্য পান করি। এই শত্রুরা আধুনিক বিশ্বের আসন্ন মুসলিম প্রজন্মকে যতটা সম্ভব ইসলাম থেকে দূরে রাখতে চায় এবং যতটা সম্ভব লিবারেলিজমের কাছাকাছি রাখতে চায়। মুসলিমদেরকে এই জীবনধারার সাথে যুদ্ধ করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে প্রকৃত ইসলাম আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত আছে। এবং এর প্রথম পদক্ষেপ হলো, এই আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এই প্রচেষ্টায় সাহায্য করুন। আমীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য