ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার দাবি করেছেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে বাদ পড়া ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে তিন কোটি ছিলেন ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’।
ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলছে। তাদের অভিযোগ, যেসব এলাকায় এই সংশোধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার হায়দরাবাদে এক জনসভায় অমিত শাহ দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি নামের মধ্যে ছয় কোটি ২০ লাখের বেশি ভোটার অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। প্রায় তিন কোটি ভোটারের মৃত্যু হয়েছে এবং এক কোটির বেশি নাম ছিল একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত।
অমিত শাহ দাবি করেন, ‘তিন কোটি ভোটার এমন ছিলেন, যাদের কখনো অস্তিত্বই ছিল না। এসব ভোট ছিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের। বলুন, এসব ভোট বাদ দেওয়া উচিত কি না?’
ভারতীয় জনতা পার্টির এই নেতা বলেন, তিন কোটি কথিত ‘অনুপ্রবেশকারীর’ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘পেটে ব্যথা’ শুরু হয়েছে।
অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ‘কংগ্রেস দল ভুয়া ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হতে চায়।’
২০২৫ সালে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রথম দফার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দ্বিতীয় দফায় আরও ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কার্যক্রমের তৃতীয় দফা চলছে।
এই কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, এর ফলে প্রকৃত ভোটাররাও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। এমনকি এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে পারে। সংবাদমাধ্যম স্ক্রল এ বিষয়ে আগেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকার এই সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা বহাল রাখেন। তবে আদালত বলেন, এই কার্যক্রমের অর্থ এই নয় যে, কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
তা সত্ত্বেও বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের রেশন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তির পাসপোর্ট নবায়নের অনুমতিও দেয়নি পুলিশ।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কথিত অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।
শনিবার বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ প্রতীকীভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনগণের অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করে।
