প্রতিদিন অসংখ্য মুসলমানকে বিভিন্ন ইস্যুতে হত্যা করা হয়। তখন কিন্তু কেউ কোন কার্ড খেলে না। অথচ দুর্ভাগ্যক্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলেই হিন্দু নিধন, জাতিগত নিধন, মাইনরিটি কার্ড ইত্যাদি শুরু হয়৷ আর ভারতীয় পত্রপত্রিকায় শুরু হয় বাংলাদেশকে অভিযুক্ত করে অপপ্রচার।
হত্যাকারী দুই তরুণ হল, সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩)। তাঁরা সম্পর্কে মামাতো–ফুফাতো ভাই। আজ ভোরে নগরের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
হত্যার পরও ওই বাড়িতেই অবস্থান করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তাঁরা গোসল করে, ফ্রিজ (রেফ্রিজারেটর) থেকে খেজুর ও শসা বের করে খায় এবং ইয়াবা সেবন করে। পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে তাঁরা ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা ডাকাতির মামলা সাজাতে স্বর্ণালংকার লুট করে এবং আলমারি ও ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে দেয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলার ছাদে উঠে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তাঁরা ইয়াবা সেবন করছি। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী তৃতীয় তলার খোলা ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবনে বাধা দেন। এ সময় ওই দুই তরুণ গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
গণপতি চক্রবর্তীর চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) পরপর তৃতীয় তলার ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাদেরকেও হত্যা করা হয়। পরে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ১৩ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
নিহতদের সঙ্গে আটক দুই তরুণের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ একে একে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে।
এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কারা জানেন? ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এবং প্রশাসন, যাদের ছত্রছায়ায় সারাদেশে মাদক পাচার করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার আমলে যেমন বদির পুরো ফ্যামিলি ছিল ইয়াবা ব্যবসায়ী। এখন একমাত্র পরিবর্তন হল, ব্যবসায়ীদের মুখ বদলেছে। একই ব্যবসা অন্যরা চালাচ্ছে। পুরো যুবসমাজকে ধ্বংস করা এই মাদক ব্যবসায় অর্থের এত ছড়াছড়ি যে, দ্রুত ধনী হওয়ার নেশায় কেউই লোভ ছাড়তে পারছে না।
ওদের সন্তানরা বিদেশে থাকে, আমাদের সন্তানরা নেশাগ্রস্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়।
© Atique UA Khan
