শাহবাগ। নামটার সাথে কত কিছু জুড়ে আছে, কত কিছু জুড়ছে সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কয়েক দিন আগে এই শাহবাগে একদল ট্রান্সজেন্ডার ‘সকালের সময়’ পত্রিকার সাংবাদিক বোরহান উদ্দিনের উপর হামলা চালায়। জনগণ পরে অন্য আরেক দিন বিক্ষুব্ধ হয়ে সমকামীদের উপর চড়াও হয়।
শাহবাগে কেলোর কীর্তি
জনগণের কাজ কতটুকু জাস্টিফাইড, সেই আলাপে যেতে চাই না। তবে এরপর সমকামী গোষ্ঠীর অধিকারের চেতনা বহুগুণে বেড়ে গেল, যেন তাদের বুকে কেউ পা রেখে সব অধিকার শুষে খেয়ে নিয়েছে। এই চরমপন্থী গোষ্ঠী গত শুক্রবার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে, যেটা কোনো ভদ্র কর্মসূচি ছিল না।
ওখানে তারা ব্যানার টাঙায়, যাতে লেখা ছিল, “প্রাপ্তবয়স্ক সমকামীদের বিবাহের অধিকার অথবা মৃত্যু।” এমনকি তারা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ব্যানারে লেখে, “হ, আমরা সমকামী। আয় শালা, পারলে মার আমাদেরকে।” পুলিশ এরপর ওখানে যায়, ওদেরকে সরতে বলে। অনেকের সাথেই অনেক কিছু নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। এমনকি পুলিশের সাথেও এই সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডাররা উদ্ধত ভঙ্গিতে কথা বলছিল।
এই কান্ডকারখানার পেছনে মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা, তা স্পষ্টভাবে বুঝা না গেলেও কয়েকটা বিষয় দেখতে পাওয়া গিয়েছে। প্রথমত, এখানে সাফওয়ান চৌধুরি রেবিল উপস্থিত ছিল, যে কিনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দুজন শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিয়েছিল এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘুরতো বলেও আমরা জেনেছি।
এছাড়াও ছিল নাঈম উদ্দিন, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এই লোকই সমকামিতার মতো অপরাধকে পুলিশের সামনে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করছিলেন। এই নাইম আবার এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক ইস্যুতে পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে মারধর খেয়েছিলেন। অর্থাৎ পুরানো পাপী।

মানে পুরো ব্যাপারটা যা দাঁড়িয়েছে, তা হলো- কাল যাদের মাধ্যমে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে, তারা এক কথায় চরমপন্থী বা এক্সট্রিমিস্ট। আর তারা রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাম ঘরানার আদর্শ ধারণ করে। মেঘমল্লার বসু জনগণের সেই উত্তম মধ্যম দেওয়া নিয়ে চটেছিলেন। এ থেকেই আরও পুরো ব্যাপারটা বুঝা যায়।
বিএনপির সংবিধান
এমন একটা দল ক্ষমতায় আছে, যারা আর কিছু বুঝুক বা না বুঝুক সংবিধানের নামে বুলি আওড়ানো ভালো মতোই বোঝে। কিন্তু আসল কাজের জায়গায় তারা কতটুকু সংবিধান কাজে লাগায়, তা আমার জানা নেই।
যাহোক, দন্ডবিধি ৩৭৭ অনুসারে সমকামিতা কিন্তু একটি অপরাধ। এমনকি ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীরাও কিন্তু আইনত অবৈধ কাজ করেছে। আবার ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে বলা হয়, “বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত লিঙ্গ পরিবর্তনকে সমর্থন করে কোন আইন বা অধ্যাদেশ প্রণীত হয়নি। এছাড়া এ কার্য এ দেশের সামাজিক রীতি-নীতি কিংবা ধর্মীয় অনুশাসনের বিরুদ্ধে যায় এবং এর সূচনার ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
কিন্তু এই এলজিবিটি এজেন্ডার বিরুদ্ধে বিএনপির ভূমিকা কী? প্রতি শূক্রবার শাহবাগে চরমপন্থীদের আড্ডা বসে, সংবিধানকে সমকামীরা বুড়ো আঙুল দেখায়; বিএনপি কী করতে পেরেছে? ক্ষমতার মসনদে বসেও কেন তারা এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে পারছে না? ওখানকার ছাত্রদলের ভূমিকাই বা কী?
‘ইসলামী’ রাজনৈতিক দল
গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এমন একাধিক রাজনৈতিক দল আছে এই বাংলাদেশে। জামায়াত ইসলাম বিরোধী জোটের প্রধান দল হওয়ার পরেও তাদের কোনো এমপিকে সংসদে এই ব্যাপারে কথা বলতে দেখা যায়নি। এমনকি ছাত্রশিবিরকেও শাহবাগে সংঘটিত এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যায় না।
মাঝে মধ্যে ছাত্র মজলিসের কিছু কর্মী বিক্ষোভ সমাবেশ করে, কিন্তু অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা সেগুলো অঙ্গ সংঠনগুলো থেকে জোরালো প্রতিবাদ আসে না। এমনকি সংসদে যখন সমকামিতাবান্ধব শ্রম আইন পাস হয়ে গেলো, তখনও এই ‘ইসলামী’ দলগুলো কিচ্ছু করতে পারেনি।
শেষমেষ
সার্কাস চলছে। হত্যার হুমকি দিয়েও ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামীরা প্রকাশ্যে বেআইনি কাজের অধিকার চেতে পারে, কিন্তু কোনো অপরাধ না করেও অনেক মজলুম ভাইয়েরা আজ কারাবন্দি হয়ে আছে। সরকারের এ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই, আর বিরোধী জোট তো ‘নিরীহ’।
সেক্যুলার রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের নামে অনেক ভেলকিবাজিই হয়, যা থেকে প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং এই চরমপন্থী গোষ্ঠীর মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে।
