Thursday, June 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরশিক্ষকের দুর্নীতি সমাজকে অভিশপ্ত করে

শিক্ষকের দুর্নীতি সমাজকে অভিশপ্ত করে

মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি গোটা জাতিকে লজ্জিত করে। কারণ শিক্ষকরা সমাজ গড়ার কারিগর। তাদের শিক্ষার মাধ্যমে জাতি আলোকিত হয়। মহান আল্লাহর প্রিয়নবী (সা.)-কেও শিক্ষকরূপে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর মাধ্যমে কুসংস্কার ও জাহিলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে যাওয়া জাতিকে তিনি আলোর পথ দেখিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৯)

কেননা সুশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার কাজটি শিক্ষকরাই করে থাকেন। তাঁরা আমাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। আমাদের জীবন আলোকিত করেন। তাঁদের একেক ফোঁটা ঘাম আমাদের চলার পথের আলোকবর্তিকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তাঁরা নিজেকে জ্বালিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করেন। তাই ইসলাম তাঁদের বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শেখো। এবং তাঁকে সম্মান করো, যাঁর থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন করো।’ (আল-মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৬১৮৪)

তাই কোনো ব্যক্তি শিক্ষকতার মতো সম্মানিত পেশা বেছে নিলে, তার অত্যন্ত সচেতন থাকা উচিত। তাদের নৈতিক অবক্ষয় সমাজে বিপর্যয় ডেকে আনে। বিস্কুট বানানোর ছাঁচে ত্রুটি থাকলে যেমন তা দিয়ে তৈরি করা বিস্কুটগুলো ত্রুটিযুক্ত হবে। তেমন কোনো শিক্ষক নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে ফেললে তার প্রভাব তার ছাত্রদের মধ্যে পড়বে। তাদের মধ্যেও অনৈতিকতার চর্চা হবে স্বাভাবিক বিষয়। তাদের কাছে অনিয়মই নিয়ম হবে। তারা কখনো দেশের জন্য কাজ করবে না; বরং নিজেদের আখের গোছানোর জন্য কাজ করবে। জাতিকে আলোকিত না করে জাতিকে জিম্মি করাই হবে তাদের একমাত্র মিশন।

শিক্ষক যদি ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কিংবা কাউকে পাস করিয়ে দেয়, তাহলে তার ছাত্ররাও ঘুষ ছাড়া কোনো দিন কোনো কাজ করবে না। অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও গ্রহীতাকে অভিশাপ দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতাকে অভিশাপ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)

প্রিয়নবীর মুখ থেকে যাদের ওপর অভিশাপ করা হয়েছে তাদের চেয়ে বড় অভিশপ্ত আর কে হতে পারে? একজন শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে এভাবেই একটি জাতি অভিশপ্ত হয়ে যায়। তাদের মধ্যে লোভ-লালসা বেড়ে যায়, তার যেকোনো মূল্যে সম্পদ আহরণ করার নেশায় মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার করাকেও বৈধ ভাবতে শুরু করে। যার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা শুরু হয়। অথচ সমাজ থেকে বিশৃঙ্খলা দূর করতে মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ হস্তগত করাকে নিষিদ্ধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু। (সুরা নিসা, আয়াত : ২৯)

তাই প্রতিটি শিক্ষকের উচিত, সঠিকভাবে শিক্ষকতার গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা। এতে তিনি নিজেও বিভিন্ন ভুল-ভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে পারবেন এবং সুশিক্ষা বিতরণ করে গোটা জাতিকে আলোকিত করতে পারবেন। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight + 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য