Tuesday, October 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকসউদী নিরাপত্তায় সক্রিয় মক্কা জোট, দ্রুত সেনা পাঠাবে তুরস্ক-পাকিস্তান

সউদী নিরাপত্তায় সক্রিয় মক্কা জোট, দ্রুত সেনা পাঠাবে তুরস্ক-পাকিস্তান

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সউদী আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই সক্রিয় হলো সউদী আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট। সউদী আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যেকোনো হামলা বা হুমকি মোকাবিলায় জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন দেশ। এর আওতায় সউদী আরবে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সউদী রাজধানী রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সউদী আরবের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং মক্কা-মদিনাসহ সৌদি শহর ও বেসামরিক-অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে হামলার জন্য সরাসরি হুথিদের নাম না নেওয়া হলেও তিন দেশ সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলা বা হুমকির কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ ‘সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ’ নেবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সরবরাহ এবং তা দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব পদক্ষেপ অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ও তিন দেশের জাতীয় আইন অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে। তবে সউদী আরবে কত সেনা পাঠানো হবে কিংবা তারা ঠিক কী ধরনের সামরিক দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আগস্টে স্বাক্ষরিত তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রথমবারের মতো বড় ধরনের বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিল। গত ৭ আগস্ট মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির মূল লক্ষ্য—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করা।

জোটের বৈঠকে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে তিন বছরের জন্য মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। তিন দেশ আশা করছে, নতুন মহাসচিবের নেতৃত্বে জোটের সমন্বয়, সামরিক প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

রিয়াদের বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু অংশ নেন। পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।

বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের চলমান সংকট সামরিক উপায়ে নয়, শান্তিপূর্ণভাবে ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চাইছে জোটের সদস্যরা।

এর মধ্যেই ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। সোমবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের অভিযান চালিয়ে মখা শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছেছে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে। কৌশলগত এই নৌপথটি লোহিত সাগর ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে লড়াই নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌযান লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে হুথিদের নতুন অভিযানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সমর্থন নিয়ে ইয়েমেন সরকার সোমবার হুথিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে।

হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের বিস্তারের ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র নগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে আগস্টে চুক্তি স্বাক্ষরের পর জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়। ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বৈঠকের পর ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে সামরিক প্রধানরা আরও আলোচনা করেন। চলমান ইয়েমেন সংকটের মধ্যেই এবার জরুরি বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সূত্র: রয়টার্স, এপি, আলজাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য