সরকারের সমালোচনা ও তেল সংকট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করার অপরাধে ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে রাতের বেলা নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।
বিবি সাওদাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে এমনটা উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল হোসেন খানের দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিবি সাওদা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাদের নির্দেশে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে জামায়াতের ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে এসআই জুয়েল হোসেন খান উল্লেখ করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে এবং সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারি–বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ‘Redmi Note 9’ মোবাইল ফোনে লগইনকৃত ফেইসবুক আইডি ‘Sawoda Sumi’ থেকে রাষ্ট্র এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং নির্দেশনা প্রাপ্ত হয়ে বিবি সাওদার হেফাজত থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। বিবি সাওদা সরকার, রাজনীতি, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। তার মোবাইল ফোনটির কারিগরি সমস্যার কারণে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বিরোধীদলীয় নেতা এই প্রতিক্রিয়া জানান।
পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, ‘জামায়াত কর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদীরা সকল যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়। জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কি না। লজ্জা, লজ্জা!’
