Tuesday, September 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মাছ-মাংস-ডিম, এক মাসে দুই দফা বাড়ল...

সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মাছ-মাংস-ডিম, এক মাসে দুই দফা বাড়ল পোলট্রি ফিডের দাম

আগস্টের শুরুতে প্রতি কেজি পশুখাদ্যের দাম ছিল প্রায় ৬৮ টাকা। এক মাস না পেরোতেই তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। কাঁচামালের বাড়তি খরচে ফিড মিলগুলোও লোকসান গুনছে; আর সেই চাপ গড়িয়ে পড়ছে খামারি থেকে ভোক্তার বাজারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক মাসে দুই দফায় পশুখাদ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত এক মাসে ভুট্টার দাম প্রায় ২৪ শতাংশ, ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যানের (ডিওআরবি) ২৭ শতাংশ এবং সয়াবিন মিলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য প্রোটিন উৎসের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারেও আমদানি করা কাঁচামালের ব্যয় বেড়েছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, আগস্টে প্রতি টন সয়াবিনের দাম প্রায় ৪৩০ ডলার থেকে বেড়ে ৫৩০ ডলারে উঠেছে। ছোট ফিড মিলগুলোর অনুরোধে আগস্টের শেষে প্রতি কেজি ফিডে ২ টাকা এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আরও ২ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবু প্রতি কেজিতে ৩ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এক মাস আগে ১৩ শতাংশ আর্দ্রতাযুক্ত ভুট্টার দাম ছিল কেজিতে ৩১ টাকা ৩০ পয়সা, এখন ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা। ডিওআরবি ২৬ থেকে ৩৩ টাকা, ১৬ শতাংশ তেলযুক্ত রাইস ব্র্যান ৩৩ থেকে ৩৯ টাকা এবং সরিষার খৈল ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে।

আকিজ ফিড মিলসের চিফ বিজনেস অফিসার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, মার্চ-মে সময়ে ভুট্টা ২৮-২৯ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও জুন-আগস্টে তা ৩৮-৪০ টাকায় উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতি টন ভুট্টার দাম ২৩৫-২৪০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৯০ ডলারে উঠেছে।

তাঁর হিসাবে, মানসম্মত পশুখাদ্য উৎপাদনের মোট খরচের ৮০-৮৫ শতাংশই কাঁচামালের পেছনে যায়। ফলে দেশি-বিদেশি বাজারে ভুট্টা, সয়াবিন মিল, রাইস ব্র্যান ও ডিওআরবির দাম বাড়লে আগের দামে ফিড বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতি কেজি ফিডে ৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়লে মুরগির দাম সর্বোচ্চ ৬ টাকা বাড়ার কথা বললেও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অস্থিরতা বাড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাড়তি ফিডের দামে ছোট খামারগুলোতে উৎপাদন কমছে। গাজীপুরের মাওনার কুতবাড়ি গ্রামের ব্রয়লার খামারি আমির হোসেন আগে মাসে ৩০ বস্তা ফিড কিনলেও এখন ২৮ বস্তায় নেমেছেন এবং মুরগির সংখ্যাও কমিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ফিডের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে; ৫০ কেজির এক বস্তায় সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। রাইস ব্র্যানের ৫০ কেজির বস্তা ৫০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ভুট্টা কেজিতে ২৫ থেকে ৩৭ টাকা এবং ৫০ কেজির পোলট্রি ফিড সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকায় উঠেছে।

আমির হোসেন বলেন, ফিডের দাম বাড়লেও মুরগির দাম সে অনুযায়ী বাড়ে না। তাই খাবারের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে, ওজন কম বাড়ার আশঙ্কায় বাচ্চা কেনাও কমিয়েছেন তিনি।

ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জুনের শুরু থেকে রাজশাহী, গাজীপুর, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী, ঢাকা, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে খামারিরা বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি পশুখাদ্যের দাম কমানো, আমদানি করা কাঁচামালের কর-শুল্ক কমানো এবং ডিম-মুরগির ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা।

পাবনার খামারি জীবন ইসলাম বলেন, কোনো কোনো খামারির মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই পশুখাদ্যে যায়। বেশি দামে ফিড, লোডশেডিং ও বাচ্চা মারা যাওয়ায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ মার্জিনাল পোলট্রি ফারমার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিওআরবি ও রাইস ব্র্যানের সরবরাহ আগে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আমদানি কাঁচামালের ভ্যাট, কর ও শুল্ক কমানো এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, পশুখাদ্যসহ উৎপাদন উপকরণের খরচ কমাতে সরকার কাজ করছে। মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পোলট্রি পণ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন ব্যয় কমানো জরুরি।

পশুখাদ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ডিম ও মুরগির বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। শনিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন প্রায় ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগস্টের আগে ব্রয়লার ছিল ১৭০-১৮০ টাকা এবং ডিম ১৩০-১৪০ টাকা ডজন।

কারওয়ান বাজারের মা রোকেয়া ব্রয়লার হাউসের মোহাম্মদ লিটনের মতে, গত পাঁচ-ছয় মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে অনেক খামারে ডিমপাড়া ও ব্রয়লার মুরগি মারা গেছে। অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদনে ফেরেননি। সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়েও উৎপাদন কমেছে। ফলে ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে।

সুত্রঃ টিবিএস বাংলা 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − ten =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য