মার্কিন মানবাধিকার কর্মী, দার্শনিক ও অধ্যাপক কর্নেল ওয়েস্ট হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনবিরোধী নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। হাভার্ডের এ শিক্ষক তার পদত্যাগের বিষয়ে বলেন, হাভার্ডে ফিলিস্তিনবিরোধী কুসংস্কারগুলোকে পরম যত্নে লালন করা হয়, এটা তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ।
৩০ জুন তারিখের একটি পদত্যাগপত্র গত সোমবার টুইটারে প্রকাশিত হয়েছে। ওই পদত্যাগপত্রে কর্নেল ওয়েস্ট বলেন, তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন। তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পবার পরেও তাকে কম বেতন দেয়া হতো। পরে তাকে অন্যকোনো উচ্চপদে পদোন্নতি দেয়া হয়নি।
তিনি তার টুইটারে আরো বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়টির বাজারমুখী সস্তা প্রবৃত্তি এটাকে অধার্মিকতা ও অনৈতিকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
টুইটারে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি আরো বলেন, আমি প্রত্যক্ষ করেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদ কিভাবে একজন শিক্ষককে স্থায়ী করতে ব্যাপক ভূমিকা নেয়, আবার অন্য এক শিক্ষককে শুধুমাত্র ফিলিস্তিনবিরোধী নীতির কারণে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে। তাদের এ ফিলিস্তিনবিরোধী নীতি সত্যিই বিরক্তিকর।
ওই চিঠিতে কর্নেল ওয়েস্ট বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আত্মকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাপুরুষের মতো ফিলিস্তিনবিরোধী নীতিগুলোকে ধারণ করে। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় একটি লাশের মতো অসার, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণ দেউলিয়া।
ফেব্রুয়ারিতে এ ৬৮ বছর বয়সী অধ্যাপক বলেন, তিনি ইসরাইলের সমালোচনা করতেন বলে তাকে কখনো পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ‘টাইড রোপ পডকাস্ট’ গণমাধ্যমে তিনি বলেন, উচ্চপদস্থ কতগুলো পদে থাকার সময় ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্ব নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ।
কর্নেল ওয়েস্ট সব সময় বলতেন, যে সব কোম্পানি ইসরাইলের দখলদারিত্বের সাথে সম্পৃক্ত তাদের কাছ থেকে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ নেয়া উচিৎ নয়।
উল্লেখ্য, হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমসন পত্রিকার মতে, ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্বের সাথে সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলো হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শ’ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
সূত্র : মিডলইস্ট আই
