Wednesday, June 10, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরস্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে ইসলাম

স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে ইসলাম

ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে মান্য করা হয়। একজন মুসলমান দৈনিক পাঁচবার ফরজ বা অবশ্যপালনীয় ইবাদত হিসেবে নামাজ পড়ে। প্রতিবারই নামাজের জন্য তাকে কনুই পর্যন্ত হাত, মুখ, পা পরিষ্কার করে অজু করতে হয়। শারীরিকভাবে পরিচ্ছন্ন বা পবিত্র থাকতে হয়। করোনাভাইরাস নামের মহামারি থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পরিচ্ছন্ন থাকা ও বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইসলাম ১৪০০ বছর আগে মোমিনদের এ শিক্ষা দিয়েছে। পরিচ্ছন্নতা তথা স্বাস্থ্য সচেতনতাকে ইমানের অংশ হিসেবে ধারণ করতে বলেছে। স্বাস্থ্য মানব জীবনে আল্লাহর এক মূল্যবান নিয়ামত। ইসলাম মোমিনদের স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর ইবাদত করতে হলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা জরুরি। কেননা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকলেই কেবল একাগ্রতার সঙ্গে অল্লাহর ইবাদত করা সম্ভব। একজন মোমিন যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে সে বিষয়ে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দুর্বল মোমিনের তুলনায় সবল মোমিন অধিক কল্যাণকর ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।

তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।’ (মুসলিম) মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে তাকে অবশ্যই শরীর ও স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে শরীর ও স্বাস্থ্যের পরিচর্যা করতে হবে। প্রতিনিয়ত খেয়াল রাখতে হবে কোনো অসচেতনতার কারণে যেন সে ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে না পড়ে। কোনো কারণে মানুষ অসুস্থ হলে আল্লাহ তাকে তার অসুস্থতার কারণে নেকি দান করেন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অসুস্থ হলে অবশ্যই তাকে কেয়ামতের দিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তা ছাড়া অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সুস্থ থাকাকে ইসলাম অধিক উৎসাহিত করেছে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের দিন বান্দাকে নিয়ামত সম্পর্কে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা হলো, তার সুস্থতা সম্পর্কে। তাকে বলা হবে, আমি কি তোমাকে শারীরিক সুস্থতা দিইনি?’ (তিরমিজি) সুতরাং প্রত্যেক মোমিনের অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব হলো, প্রতিনিয়ত শরীর ও স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া।

ইসলামের আদেশ অনুযায়ী মোমিন বান্দা প্রথমত খেয়াল রাখবে যেন সে কখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ না হয়ে পড়ে। অবশ্য কখনো কোনো কারণে অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কোনো প্রকার অলসতা করা চলবে না। কেননা নবী (সা.) তাঁর সাহাবিদের দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন এবং তিনি নিজে অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, কেননা আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি। তবে একটি রোগ আছে যার কোনো প্রতিষেধক নেই, সেটি হলো বার্ধক্য।’ (আবু দাউদ) হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া রসুল (সা.)-এর সুন্নত। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ রোগ দেন, রোগের প্রতিষেধকও নাজিল করেছেন। প্রতিটি রোগের চিকিৎসা রয়েছে। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর তবে হারাম দ্রব্য দ্বারা চিকিৎসা নিও না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘হারাম বস্তুতে আল্লাহ তোমাদের জন্য আরোগ্য রাখেননি।’ (জাদুল মাআদ) চিকিৎসা সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা হলো, রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা করা।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven − six =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য