খতীব: শেখ বুয়ায়জান হাফি
তারিখ: ১০ রমজান ১৪৪৭
————————-
খুতবা
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল; তিনি আল্লাহর আমানত পৌঁছে দিয়েছেন এবং উম্মতকে সঠিক উপদেশ দিয়েছেন।
হে আল্লাহর বান্দারা! আমি আপনাদেরকে এবং নিজেকেও আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। কারণ তাকওয়াই হলো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ। জেনে রাখুন, আল্লাহর আনুগত্যই সবচেয়ে বড় সফলতা এবং তাঁর সন্তুষ্টিই সর্বোত্তম সম্পদ।
হে মুসলিম সমাজ! আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বরকতময় রমজান মাস দান করে সম্মানিত করেছেন। যারা তাওবা করতে চায় এবং জীবনের ভুল সংশোধন করতে চায়, তাদের জন্য এটি এক মহান সুযোগ। রমজান মাস হলো ইবাদত, তাওবা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মাস। এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।
এই মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, সে প্রকৃত অর্থেই বঞ্চিত হয়।
হে রোজাদারগণ! আপনারা এক মহান সময়ের মধ্যে অবস্থান করছেন। এই সময়গুলোকে অবহেলায় নষ্ট করবেন না। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি সুন্নাত ও নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির এবং রাসুল (সা.)–এর প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে এই সময়কে কাজে লাগান।
দান-সদকা করুন, দরিদ্রদের খাবার খাওয়ান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে তার জীবন ও যৌবন কীভাবে ব্যয় করেছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই সুযোগ শেষ হওয়ার আগেই নেক আমলের দিকে অগ্রসর হোন।
মনে রাখবেন, আমল করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আমল কবুল হওয়া। আল্লাহ তাআলা কেবল মুত্তাকিদের আমলই কবুল করেন। তাই আমরা ইবাদত করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করব যেন তিনি আমাদের আমল কবুল করেন এবং আমাদের জীবনকে সৎ পথে পরিচালিত করেন।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার পছন্দনীয় আমল করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ইবাদত কবুল করুন।হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাদের ক্ষমা করুন।হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন এবং আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন।
আমিন।
