Thursday, April 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানরমাল বনাম সিজার—আমাদের কি করণীয়

নরমাল বনাম সিজার—আমাদের কি করণীয়

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।

  • কোন গর্ভবতী নারীর নরমালে বাচ্চা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ভয় দেখিয়ে অনর্থক সিজার করতে বাধ্য করা প্রতারনা ও জুলুম। সুস্পষ্ট না জায়েজ। এবং প্রতারণা ও জুলুমের মাধ্যমে উপার্জিত টাকাও অবৈধ।
  • সত্যিকারের ন্যায়পরায়ণ, দ্বীনদার, অভিজ্ঞ, মুসলিম ডাক্তার যদি কোন পেশেন্টের ক্ষেত্রে বলেন যে, ‘সিজার’ না করলে বাচ্চা অথবা মায়ের জীবন বিপন্ন হতে পারে কিংবা অঙ্গহানীর প্রবল আশঙ্কা আছে তখন সিজার করা ওয়াজিব। এ ধরণের পরিস্থিতিতে স্বামী/শশুর/শাশুড়ী কিংবা অন্য কেউ ‘নরমাল’ ডেলিভারীর জন্য গর্ভবতী মেয়েকে বাধ্য করা না জায়েজ।
  • যদি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ন্যায়পরায়ণ অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে পরিবারের লোকজন নরমালে বাধ্য করে, সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ না করে এবং এ কারনে মা কিংবা সন্তান মারা যায় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ইসলামী আইনে (ইসলামী শাসনাধীন অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) তারা কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্টদেরকে রক্তপণ (দিয়ত) দেয়া লাগতে পারে।
  • নরমাল ডেলিভারী করতে গিয়ে ইন্তিকাল করলে, এবং কষ্ট সহ্য করলে যে সওয়াব হয় সিজার করতে গিয়ে মারা গেলে কিংবা অপারেশনের পরে নারীদের যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাতেও ইনশাআল্লাহ একই রকম সওয়াব হবে। কারন এই ফযীলত নির্দিষ্টভাবে নরমাল ডেলিভারীর সাথে সম্পৃক্ত না বরং সন্তান জন্মদানের সাথে সম্পৃক্ত।
  • নরমাল ডেলিভারী অবশ্যই প্রাকৃতিক কারনে উত্তম। নিজের সাধ্য ও সহ্যক্ষমতা অনুসারে প্রতিটি মায়েরই আল্লাহ প্রদত্ত এই পদ্ধতিতে ডেলিভারীর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। তবে অবশ্যই সেটা দক্ষ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও পরিবারের সদস্যদের খেয়াল খুশি ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারী করতে গিয়ে স্ত্রী বা বাচ্চার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার নাম তক্বওয়া না বরং জাহালত। নিরেট মূর্খতা।
  • মাওলানা গুনবী সাহেবের এ সংক্রান্ত বক্তব্যে আবেগ নির্ভর অতিরঞ্জন ও সুস্পষ্ট ভুল দৃশ্যমান। পাবলিক প্লেসে মাসআলা বলার ক্ষেত্রে তার আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
  • মনে রাখবেন, আপনাদের পছন্দ অপছন্দের নাম ইসলাম না। ইসলামী আইনের নিজস্ব মূলনীতি আছে। তাই যারা শরীয়ত ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেননা তারা এই বিষয়ে অন্যদের উপরে কোন ধরনের মতামত চাপিয়ে দেয়া বৈধ না। শুধুমাত্র আবেগের বশে যারা এই টপিকে অনর্থক ঝগড়া বিবাদ ও গালাগালি করছেন তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রন করা। মাসআলা মাসাইল ও চিকিৎসা বিষয়ে শুধুমাত্র সার্টিফাইড মুফতী ও ডাক্তাররা কথা বলা উচিত। বাকিদের জন্য চুপ থাকা আবশ্যক।

মুফতী Affan Bin Sharfuddin হাফি.

বিভাগীয় প্রধান, উচ্চতর ইসলামী আইন অনুষদ, জামিয়া উসমান রা. ইমাম ও খতীব, বাইতুল মাহফুয জামে মসজিদ, নিকুঞ্জ- ২, খিলক্ষেত, ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য