Monday, August 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবিএনপি কি সমকামীদের স্বীকৃতি দেয়ার পথে?

বিএনপি কি সমকামীদের স্বীকৃতি দেয়ার পথে?

২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল নেপাল সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল নেপালে একটি জাতিসংঘের OHCHR কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।

চুক্তির পর ২০০৫ সালের মে মাসে OHCHR-এর প্রতিনিধি নেপালে পৌঁছান। শুরুতে প্রায় ১০ জন মানবাধিকার কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী নিয়ে কার্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, এটি সে সময় OHCHR-এর সবচেয়ে বড় স্বতন্ত্র মাঠপর্যায়ের মানবাধিকার মিশনগুলোর একটি ছিল।

জাতিসংঘের এই সংস্থার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দুইবছর নেপালের টেলিভিশন, সংবাদমাধ্যম এবং কথিত প্রগতিশীল সমাজে যেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দেখা যায় সেটি হচ্ছে সমকামীদের স্বীকৃতি এবং তাদের মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা।

২০০৭ সালে কথিত মানবাধিকারকর্মী সুনীল বাবু পান্তসহ কয়েকজন নেপাল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় যৌন ও সমকামীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও রাষ্ট্রীয় আচরণের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাওয়া হয়।

ওই মামলায় ২১ ডিসেম্বর ২০০৭ নেপালের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় সমকামীরাও দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতো মৌলিক অধিকার ভোগ করবেন। একই সঙ্গে আদালত সরকারকে যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আইন পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেয় এবং সমকামীদের আইনি স্বীকৃতির বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে বলে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নেপালে সমকামীদের অধিকার নিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়। সমকামীদের স্বীকৃতি, পরিচয়পত্রে লিঙ্গ পরিচয় এবং বৈষম্যবিরোধী আইনি সুরক্ষার বিষয়গুলো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে।

এরপর ২০১৫ সালে নেপাল নতুন সংবিধান গ্রহণ করে। সংবিধানে লিঙ্গ পরিচয়কে ঘিরে অধিকার ও সমতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতিসংঘের নথির বরাত দিয়ে ২০১৫ সালের সংবিধান সমকামীদের জন্য সমান অধিকারের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করে।

স্বীকৃতি দিলেও সমকামী বিবাহের বিষয়টি আরও পরে আইনি পর্যায়ে আসে। ২০২৩ সালে নেপালের সুপ্রিম কোর্টের একটি অন্তর্বর্তী আদেশের পর স্থানীয় প্রশাসনকে সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিবাহ নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পথ তৈরি হয়। একই বছরের নভেম্বরে মায়া গুরুং ও সুরেন্দ্র পান্ডের বিবাহ নেপালে প্রথম আইনগতভাবে নিবন্ধিত LGBTQ+ বিবাহ হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

এবার আসুন বাংলাদেশে :

গতবছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতিসংঘের সেই মানবাধিকার সংস্থা ঢাকায় তাদের কার্যালয় খোলে।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত টেলিভিশন, সংবাদমাধ্যম গুলাতে সরাসরি সমকামীদের পক্ষে অ্যাডভোকেসি করা হচ্ছে, আর এই অ্যাডভোকেসির গুরুদায়িত্ব পালন করছেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

কিছুদিন আগে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমকামীদের বিয়ে নিয়ে প্রশাসনের নিরবতায় আমরা প্রশ্ন তুলছিলাম বিএনপি সরকার কি সমকামীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পথে?

সেই প্রশ্নের কিছু উত্তর জিল্লুর রহমানের সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের এক সেমিনারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বিএনপির দুই নারী নেত্রী এবং এবি পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলির কাছ থেকে পাওয়া যায়।

সম্প্রতি সমকামীদের পক্ষে এডভোকেসি করা জিল্লুর রহমানের সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের এক সেমিনারে জামায়াত ইসলামির ছাত্রীসংস্থার ডাঃ খাদিজা বিনতে ইসলাম শেফা প্রশ্ন তোলেন যেভাবে ট্রান্সজেন্ডার (লিঙ্গবাটপার) দের স্পেস এবং তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেসি করা হচ্ছে কিছুদিন পরে দেখা যাবে একটা ছেলে যে নিজেকে মনে মনে মেয়ে দাবি করে এসে আমার সাথে থাকা শুরু করলো আমার সবকিছু ইউজ করা শুরু করল — ওয়াশরুম, আমার থাকার জায়গা বা ডিফারেন্ট এরকম অনেক কিছু। বিভিন্ন হোস্টেলে আমরা যখন প্রায় অলমোস্ট এক বছর আগে , এই বিষয়টা নিয়ে কথাবার্তা বলা শুরু হয়েছে, তখন অনেকগুলো জায়গায় এই জিনিসগুলো হাইলাইট হয়েছে।””মেয়েরা এই জায়গাটায় অনেক বেশি নিরাপত্তাহীনতা ফিল করা শুরু করেছিল। যে এখন আমরা এই বিষয়টাকে যদি মিনিমাইজ করতে না পারি, কন্ট্রোল করতে না পারি, তাহলে ইন ফিউচার দেখা যাবে যে আমার সাথে এরকম কোন একটা অকারেন্স হচ্ছে যেটাকে এই সোসাইটিও একনলেজ করে না। এন্ড এজ গার্ল বা ফিমেল, আমিও সেই বিষয়টা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না এবং একটা মেয়ের জন্য এটা একটা লাইফটাইম ট্রমা হিসেবে কাজ করে।

ডাঃ খাদিজার মূল প্রশ্ন বা তার যে নিরাপত্তাহীনতা সেটা এড়িয়ে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বিএনপির দুই নারী নেত্রী এবং এবি পার্টির ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি যে উত্তর দিলো সেটা বিএনপি সরকার সমকামীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পথে আছে বলেই ধরা যায়।

এই তিন নারী ডাঃ খাদিজার প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়াদের রাজনৈতিক মাঠে স্পেস দেওয়ার পক্ষে মত দেন, কিন্তু রাজনৈতিক মাঠে অলরেডি তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়ারা এক্সিজিস্ট করতেছে বিগত স্বৈরাচার আমলেও তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়ারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে।

তাহলে এই তিন নারী কোন হিজড়াদের রাজনৈতিক মাঠে স্পেস দেওয়ার কথা বলতেছে?

সোজা উত্তর হলো হোচিমিন তথা মনে মনে মেয়ে দাবী করা ছেলেদের, সোজা বাংলায় লিঙ্গবাটপারদের।

এই বিষয়টা আরো স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী,

বেশ কিছুদিন আপনারা হয়তো চাকরি কিংবা কোন কাজের জন্য ফর্ম পুরুণ করতে গেলে লিঙ্গ চিহ্নিত ঘরে নতুন একটা ঘর যোগ করা হয়েছে মেল, ফিমেল, থার্ডজেন্ডার, এবং অন্যান্য।

এই চর্তুথ ঘরটা অর্থাৎ অন্যান্য নিয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন আমরা যদি স্বীকার করি ফর্মের মধ্যে যদি একটা থার্ড জেন্ডারের জায়গা থাকে তাহলে তাদের রাইটস নিয়েও কথা বলতে দিতে হবে। প্রসংগ অনুযায়ী তিনি থার্ডজেন্ডার বলতে ওই অন্যান্যকেই বুঝিয়েছেন।

তার এই কথা আরো স্পষ্ট হয় যখন তিনি বলেন আমাদের দেশে তো শরিয়া আইন চলেনা।

এই তিন নারীর বক্তব্যকে পাশাপাশি রাখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। এটি কি কেবল হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিদ্যমান অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আলোচনা, নাকি ‘থার্ড জেন্ডার’ ও ‘অন্যান্য’ পরিচয়ের সমকামীদের আরও বিস্তৃত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পথ তৈরি করার প্রস্তুতি?

ডাঃ খাদিজা বিনতে ইসলাম শেফা যখন পুরুষের নারী পরিচয় দাবি করে নারীদের পরিসরে প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন তুললেন, তখন সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিন নারী নেত্রী ‘থার্ড জেন্ডার’-এর রাজনৈতিক স্পেস ও অধিকারের কথা বললেন। একই সঙ্গে জহরত আদিব চৌধুরী ফর্মের ‘অন্যান্য’ পরিচয়কে অধিকার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করলেন। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—‘থার্ড জেন্ডার’ ও ‘অন্যান্য’ বলতে তারা ঠিক কোন পরিচয়গুলোকে বোঝাচ্ছেন এবং এর আইনি পরিধি ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

নেপালের অভিজ্ঞতার আলোকে আরও বড় প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার এই সময়ে বিএনপি সরকার কি ধীরে ধীরে সমকামীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দিকে এগোচ্ছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য