Tuesday, September 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবেদনসমস্যা বাংলাদেশে নয়, সমস্যা সিস্টেমে

সমস্যা বাংলাদেশে নয়, সমস্যা সিস্টেমে

রাত সাড়ে দশটা।

একটা স্টুডিওর বাথরুমে দুজন মানুষ লুকিয়ে আছে। বাইরে গুলির শব্দ। দরজার ওপাশে শ’খানেক মানুষ।

একটু পরে দরজাটা ভেঙ্গে তাদের বের করা হয়। অস্ত্রের মুখে মোবাইল আর মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়।

সকালে পুরো দেশ জানল, ওটা ছিল সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে সালমান একটা কথা বললেন। কথাটা আমার মাথা থেকে যাচ্ছে না। তিনি বললেন, “এটা বাংলাদেশের কমন ব্যাপার। আমি এটা মেনে নিয়েই এই দেশে আছি।”

কমন।

চার মাস আগে আরেকজন মানুষ প্রায় একই কথা বলেছিলেন। তাঁর কোনো স্টুডিও ছিল না, মিলিয়ন ফলোয়ারও ছিল না। ছিল আট বছরের একটা মেয়ে। রামিসা। মেয়ের সে অবস্থা দেখে সেই বাবা বলেছিলেন, “আমি বিচার চাই না। কারণ বিচার হবে, এই বিশ্বাস আমার আর নেই।”

একজন দেশের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন। আরেকজন পল্লবীর এক অসহায় বাবা। দুজন দুই পৃথিবীর মানুষ। অথচ দুজনের মুখে একই বাক্য।

এবার প্রশ্নটা করি।

২৪-এ মানুষ রাস্তায় রক্ত দিল। খুনি শাসকের পতন হলো। আমরা ভাবলাম, এবার বদলাবে। নতুন সরকার এলো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার কি উন্নতি হলো? হ*ত্যা, রেইপ কমলো? কিশোর গ্যাং কি গেল? চাঁদাবাজি গেল? মাঝরাতের অস্ত্রের মহড়া গেল?

যায় নি।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? বাংলাদেশে? এই মাটিতে? আমাদের রক্তে?

নাহ।

একশো বছর আগে ইতালির এক সমাজবিজ্ঞানী, ভিলফ্রেদো পারেতো, একটা জিনিস লক্ষ করেছিলেন। বিপ্লব হয়, ক্ষমতার মুখ বদলায়। কিন্তু ক্ষমতার কাঠামোটা বদলায় না। নতুন মানুষ এসে পুরোনো চেয়ারে বসে, আর পুরোনো নিয়মেই খেলে। ব্যাপারটা ঠিক এরকম। গাড়ির ড্রাইভার বদলেছে। কিন্তু গাড়িটা একই। আর সেই গাড়ির ব্রেক নেই।

যতদিন একজন অপরাধী জানে তার মাথার উপর একটা ছাতা আছে, ততদিন আইন শুধু কাগজে থাকে। সরকার বদলালে ছাতাটাও হাত বদলায়। সমস্যা বাংলাদেশ না। সমস্যা সেই সিস্টেম, যেখানে বিচার হবে কি না, সেটা নির্ভর করে আপনি কার লোক তার উপর।

আর এই খেলার সবচেয়ে বিপজ্জনক চালটা কী জানেন?

অপরাধীরা শুধু স্টুডিও ভাঙে না। তারা আমাদের মাথায় একটা বাক্য বসিয়ে দিয়ে যায়: “এটাই নরমাল।” যেদিন ভুক্তভোগী নিজেই বলে “এটা তো কমন”, সেদিন অপরাধী শুধু একটা রাতের লুটপাট না, পুরো যুদ্ধটাই জিতে যায়।

এবার একটু নিজের দিকে তাকাই।

আমরাও কি এই সিস্টেমের অংশ না? নিজের দলের লোক অন্যায় করলে চুপ থাকি। অন্য দলের লোক করলে রাস্তায় নামি। কোনো কাকে আটকালে “চেনা কাউকে” খুঁজি। এভাবেই সিস্টেম আমাদের ভেতরেও বাসা বাঁধে।

চৌদ্দশো বছর আগে মদিনায় এক সম্ভ্রান্ত বংশের নারী চুরি করলেন। লোকেরা সুপারিশ নিয়ে এলো, যেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের আগের জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, তাদের মধ্যে প্রভাবশালী কেউ অপরাধ করলে তারা ছেড়ে দিত, আর দুর্বল কেউ করলে শাস্তি দিত। আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করত, আমি তারও বিচার করতাম।”

(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

একটু থামুন।

নবীজি ﷺ সমস্যাটাকে কোনো জাতির দোষ বলেননি, কোনো মাটির দোষও বলেননি। বলেছেন একটা সিস্টেমের কথা। যে সিস্টেমে আইন দুর্বলের জন্য লোহার, আর শক্তিশালীর জন্য রাবারের। এমন সিস্টেম সরকার বদলালে বদলায় না। তখন বদলায় যখন আমরা দলের চেয়ে ন্যায়কে বড় করে দেখতে শিখি।

আল্লাহ বলেন, “কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের অবিচার করতে প্ররোচিত না করে। ন্যায়বিচার করো, এটাই তাকওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি।” (সূরা মায়েদা, ৫:৮)

তাই আজ অন্তত একটা কাজ করি। “এটাই নরমাল” কথাটা মেনে নেব না।

হে আল্লাহ, এই দেশের মজলুমদের তুমি হেফাজত করো। রামিসার মতো প্রতিটা নিষ্পাপ প্রাণের ন্যায়বিচার তুমি নিশ্চিত করো। আর আমাদের এমন মানুষ বানাও, যারা নিজের দলের বিরুদ্ধে গিয়েও সত্য বলতে পারে।

আমীন। 🤍

-আবু মুহাম্মদ রাফিউজ্জামান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য