অক্টোবরের ৩১ দিনে প্রতিদিন গড়ে সাত-আটজনের বেশি নারী ও কন্যাশিশুর জীবনে নেমে এসেছে নির্যাতনের অন্ধকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন ও অপহরণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৪০ জন। গত রবিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটি বলছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
মাসটিতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫১ জন, এর মধ্যে ৩৪ জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। ছয় কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ তিনজনকে। আরও ২১ জনকে (১৭ জন কন্যাশিশুসহ) ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে খুন হয়েছেন ৪২ জন, সাত কন্যাশিশু ও ৩৫ নারী। পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের মৃত্যু রহস্যজনক। আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন (ছয় কন্যাশিশু ও ১৭ নারী), আর আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন।
১৫ কন্যাশিশুসহ ২১ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সাত কন্যাশিশুসহ নয়জন যৌন নিপীড়নের এবং সাত কন্যাশিশুসহ নয়জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার। এক কন্যাশিশুসহ তিনজন সাইবার সহিংসতার ভুক্তভোগী। অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছেন একজন, অগ্নিদগ্ধ তিন কন্যাশিশুসহ চারজন।
যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাতজন নারী, তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার দুইজন, আর দুই কন্যাশিশুসহ আটজন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
অক্টোবরে অপহরণের শিকার হয়েছেন ছয় কন্যাশিশু। নয় কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন এক কন্যাশিশুসহ দুইজন।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
