ভারতের দীর্ঘদিনের অনুরোধের পরেও ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে দেশটির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি মালয়েশিয়া। বরং তাকে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্তে সরকার অটল রয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার আইন ও ভারতের সঙ্গে করা প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান বিবেচনা করেই জাকির নায়েককে হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কুয়ালালামপুর এ ক্ষেত্রে ২০১০ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের কাছ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনও পায়নি কুয়ালালামপুর। সংসদ সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতের সর্বশেষ আবেদনের সময় এবং দেশটির দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার আইনি শর্ত পূরণ করে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন ছিল।
জাকির নায়েককে ফেরত চেয়ে ভারতের উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায় নয়াদিল্লি। দুই বছর পর, ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই বৈঠকে জাকির নায়েকের বিষয়টি উঠেছিল বলে সংবাদ প্রকাশের পর মালয়েশিয়ার বিরোধী দলের নেতারা সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান।
পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান জানতে চান, দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছিল কি না। ভারতের দেওয়া প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইনের মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য কি না, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি। অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে জাকির নায়েককে দেশে ফেরাতে চায় ভারত। তবে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার আইন ও দুই দেশের চুক্তির আওতায় বিবেচিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় জবাব অনুযায়ী, এ মুহূর্তে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি নেই।
সোর্স : নিউ স্ট্রেইটস টাইমস
